শুদ্ধ ভাষার চর্চা, সহজ কথা সহজ করে বলার চেষ্টা বা নিজের কথার সাবলীল প্রকাশ। আমরা মোটামুটি অভ্যস্ত এমন অনেক কিছুর সাথে। প্রতিদিনের পরিবর্তন বা গতির ছন্দ - সব ধরা পড়ে আমাদের চোখে। আমরা মানুষ। সমাজে বসবাস। আমরা আমাদের চোখে দেখি আলোর গতি। খুঁজে ফিরি ঘটনার মানে, ব্যাখ্যা বা অন্য কিছু। নিজেকে জানাই, নিজেদেরকে জানাই। মানবিক ধ্যানধারণা নিয়ে দেখি এদিক বা ওদিক। এই প্রকাশ বা প্রক্ষেপণ সবটাই স্বাভাবিক। গ্রিক যুগের নাগরিক আলোচনা কিংবা প্রকাশনা যুগের শুরুতে মতামতের কাগুজে প্রকাশ - সব কিছু সভ্যতাকে যত সমৃদ্ধ করেছে তত মানুষের সৃষ্টিশীলতার আরও বিকাশ ঘটেছে। নতুন নতুন যুগ ও মাধ্যমের সূচনা করেছে।

বাংলা ব্লগ হাল আমলের মুক্ত-প্রকাশ মাধ্যম। শুরুটা অল্প দিনের হলেও পথ পেরিয়েছে অনেক দূর। যতটা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে বরং অনেক গুণ বেশি। ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছেন অনেক লেখক। পাঠক হাজার গুণ বেশি। যিনি লিখতেন না, তিনিও লিখছেন বা লেখার চেষ্টা করছেন। অথবা যিনি মনে করতেন নিজেকে প্রকাশ করার সামর্থ্য রাখেন কিন্তু বলতে ভয় পান, তিনিও একটু আধটু করে অনেক পা ফেলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই নতুন ধারা, তাই তারুণ্য গ্রহণ করেছে খুব সহজে। নানা নিরীক্ষা হয়েছে, সমালোচনা হয়েছে। নতুন কিছুর জন্য এটা একেবারে স্বাভাবিক। সমালোচনার মাধ্যমে নতুন বিষয় যেমন আসছে, নতুন কিছু করবার প্রচেষ্টাও কিন্তু কম লক্ষণীয় নয়।

এসব কিছুর মাঝখানে আবার আমরা কেন - এই প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক। আসলে মানুষ চারপাশে যা দেখে তার প্রভাব তার উপর সবচে’ বেশিই পড়ে। অনেক বেশি ‘না’ বোধক থেকে ‘হ্যাঁ’ যাজকতার সৃষ্টি হয় সত্য কিন্তু প্রয়োজনের নিরিখটা এখানে একটু অন্যরকম। ভাবনাটার আরেকটা পিঠ বলা চলে তাকে। সেটা হলো চারপাশে ‘হ্যাঁ’ বোধকের সৃষ্টি, নতুন সৃষ্টি বোধের সৃষ্টি করে। সংস্কৃতির প্রাচুর্যে যা ভালো বোধক বলে প্রতীয়মান তা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে আরেকটি ভালো কাজ করতে। তাই যত বেশি আলোচনা ‘ভালো’কে নিয়ে তত বেশি ‘ভালো’র সৃষ্টি হবে এমন সরল অংকে পৌঁছুবার ব্যবস্থা না থাকলেও এটা বাস্তব আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করে। মানুষকে ধরাবাঁধা জগতে ভালো মন্দের এক ঘেরাটোপে আবদ্ধ করার অধিকার কারো নেই। কিন্তু সৃষ্টির আনন্দে আনন্দ মিছিলে যোগ দেবার সুযোগ রয়েছে। সেখানেই উৎসাহ আর আলোচনায় ও মতামতের জগতে শ্রদ্ধা পরম্পরা বজায় রাখার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাবোধ। আর তাই এক কথায় আমরা বলি – ইতিবাচকতা।

Copyright 2019