প্রস্তাবিত অনলাইন পরিচালনা নীতিমালা-২০১২:বন্ধ দ্বারের গল্প

সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হয়েছে প্রস্তাবিত ‘অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা নীতিমালা ২০১২’। ইন্টারনেটের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা প্রতিদিনই বাড়ছে। তারই প্রেক্ষিতে এই নীতিমালার মাধ্যমে সম্প্রচার, প্রকাশনা, প্রদর্শন ও পরিচালনা এর উপর সরকারী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালার শুরুতেই বলা হয়েছে:

“বিশ্বায়নের এই যুগে অনলাইন ভিত্তিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতার শক্তিশালী ও কার্যকর প্রচার মাধ্যম। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়নের ফলে মানুষের বাক ও ভাব প্রকাশের এই মাধ্যম অতি দ্রুততার সাথে বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করেছে। প্রচলিত সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতারের বিভিন্ন চ্যানেলের পাশাপাশি ওয়েব বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেও অনলাইন সংবাদ ও অনুষ্ঠানের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সম্প্রচার, প্রকাশনা, প্রদর্শন ও পরিচালনায় কোন বিধি বিধান বিদ্যমান নাই এবং এ সম্পর্কিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরী।”

প্রচলিত সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতারের বিভিন্ন চ্যানেলের পাশাপাশি ওয়েব বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেও অনলাইন সংবাদ ও অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এখানে। যদিও বাংলা ব্লগ বা ফেসবুক এর বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয় নি, তবুও বর্তমান সময়ে যে পরিমাণ সংবাদ ব্লগ ও ফেসবুকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তার প্রেক্ষিতে এই অনলাইন প্লাটফর্মগুলো এই নীতিমালার আওতায় পড়বে না-এমন কোন নিশ্চয়তাও প্রস্তাবিত নীতিমালায় পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রস্তাবিত নীতিমালার ২য় ধারায় বলা হয়েছে:

“অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনার লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান:

(ক) শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা ও বিনোদনের পরিসর বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার এবং বিশ্বব্যাপী এ সকল বিষয়াদি সম্প্রচারের অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের জন্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে তথ্য মন্ত্রণালয় দরখাস্ত আহ্বান করবে।

(খ) প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী (অফিস অবকাঠামো, মোট জনবল ও নির্ধারিত ব্যাংক ব্যালেন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতার সনদপত্র)সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।”

এছাড়া, লাইসেন্স আবেদনের নিয়মাবলী সংক্রান্ত ৪র্থ ধারায় বলা হয়েছে:

“(গ) সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট/পে অর্ডার জমা দিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

(ঙ) আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আবেদনের সাথে ফেরতযোগ্য আর্নেস্টমানি বাবদ সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবরে ২,০০,০০০/ (দুই লক্ষ) টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার প্রদান করতে হবে”

বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ প্রকাশনা সংস্থা, যাদের আর্থিক সংগতি মূলধারার প্রকাশনা মাধ্যমের মতো শক্তিশালী নয়, তারা মুখ থুবড়ে পড়বে এই নীতিমালার কারণে। এছাড়া সাধারণ মানুষ যে কোন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার বাক স্বাধীনতা প্রকাশ ঘটানোর জন্যও লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট সময় ব্যয় হয়ে যাবে। ফলে ক্ষুণ্ণ হবে মত প্রকাশের অধিকার।

তাছাড়া, লাইসেন্স প্রদান এ দলীয় দূর্নীতিকরণের যথেষ্ট পরিমাণ সম্ভাবনা থাকবে।

লাইসেন্স ফি ও লাইসেন্স নবায়ন বিষয়ে ৫ম ও ৬ষ্ঠ ধারায় বলা হয়েছে:

“লাইসেন্স ফি:

লাইসেন্স গ্রহণকালে আবেদনকারী এককালীন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করে মূল কপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে।

লাইসেন্স নবায়ন:

(ক) প্রতি বছরে সংশ্লিষ্ট খাতে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ফি প্রদান করে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। সরকার প্রয়োজনে লাইসেন্স ফি পুন:নির্ধারণ করতে পারবে।”

ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ ও জনমত প্রকাশের যে সহজলভ্যতা বর্তমানে আছে, তা হুমকির মুখে পড়তে পারে এই বিশাল পরিমাণ আর্থিক খরচ জোগানোর জন্য।

লাইসেন্স এর স্থগিত বা বাতিলকরণ এর ব্যাপারে ৯ম ধারায় বলা হয়েছে:

“লাইসেন্স স্থগিতকরণ ও বাতিলকরণ:

সরকার নিম্নোক্ত এক বা একাধিক কারণে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে:

(ক) লাইসেন্স/চুক্তি সংক্রান্ত সরকারের কোন পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে;

(খ) বিটিআরসি প্রদত্ত কোন শর্ত ভঙ্গ করলে;

(গ) এই নীতিমালার কোন শর্ত/শর্তাবলি ভঙ্গ করলে; এবং

(ঘ) সরকারের অন্য কোন নির্দেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে।”

এখানে দেখার বিষয় এই যে, সরকারী বা বিটিআরসি এর ‘কোন শর্ত’ বলায়, কখন কোন লাইসেন্স বাতিল করা হবে, তার কোন সুনির্দিষ্ট কারণ দেখানো হয় নি। এতে লাইসেন্স বাতিল এবং স্থগিত এর বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকছে না।

নীতিমালার ১৪তম ধারায় আছে:

“নিম্নলিখিত সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি সম্প্রচার করা যাবে না:

(ক) দেশের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, ভাষা-সংস্কৃতি, জনস্বাস্থ্য হানিকর এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পরিপন্থী কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(খ) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(গ) হিংসাত্মক, সন্ত্রাস, বিদ্বেষ ও অপরাধ সম্বলিত কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঘ) দেশের কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন কোন অনুষ্ঠান, যা কোন ধর্ম, জাতি গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় সম্পর্কে মানহানিকর মন্তব্য প্রচার করে এবং যা সাম্প্রদায়িকতাকে উৎসাহিত করে, নারী-পুরুষ বৈষম্য করণ ও শারীরিক অক্ষমতার ভিত্তিতে ঘৃণা বা মানহানি ঘটাতে পারে এমন সংবাদ বা অনুষ্ঠান;

(ঙ) অশালীন বা আক্রমণাত্মক কোন রসিকতা/গান/বিজ্ঞাপন/সংবাদ বা সাবটাইটেল সম্বলিত কোন অনুষ্ঠান, যা জনগণের নৈতিকতাকে কলুষিত, দুর্নীতিগ্রস্ত বা আহত করতে পারে এমন কো অনুষ্ঠান;

(চ) মানহানিকর উপাদান বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বিষয়াদি রয়েছে এমন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ছ) আদালত অবমাননার কোনো বিষয় রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(জ) বিচার বিভাগ/বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী/বেসামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক উপাদান রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঝ) মৌলিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও সদাচরণ পরিপন্থী উপাদান রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঞ) বাংলাদেশ দ-বিধির অধীনে আমলযোগ্য কোনো অপরাধে উৎসাহ প্রদান, সাহায্য বা সহায়তা করে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ট) বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে ক্ষতিকর কিছু রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঠ) উচ্ছৃঙ্খলতা, ধ্বংসযজ্ঞ, শিশু-কিশোর অপরাধ বা অপসংস্কৃতিকে আকর্ষণীয় ও উৎসাহিত করতে পারে বা শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনো অনুষ্ঠান যাতে শিশুদের জন্য তৈরি অনুষ্ঠানগুলিতে আপত্তিকর ভাষা বা তাদের পিতা-মাতা বা মুরব্বীদের প্রতি অশ্রদ্ধাজনক কিছু রয়েছে এমন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ড) তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঢ) অন্য কোন আইন দ্বারা বারিত বা অসেন্সরকৃত কোন অশ্লীল অনুষ্ঠান এবং

(ণ) পরিবার ও বৈবাহিক সম্প্রীতির পবিত্রতার বিরুদ্ধে কোনো কিছু রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান।

(ত) অনলাইন গণমাধ্যমে বাংলাভাষার, বিকৃতি ও শিক্ষা সংস্কৃতির পরিপন্থী অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।”

একটি দেশের নাগরিকের অন্যতম বড় অধিকার তার বাক স্বাধীনতার অধিকার। কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কোন ধরণের সংবাদ প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রের নাগরিকের মত প্রকাশের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে এবং একই সাথে কোন বিষয়ে সাধারণ মানুষের সমালোচনা করার অধিকারে বাধা সৃষ্টি হবে।

কী আশা করছি:

প্রস্তাবিত নীতিমালা চূড়ান্ত হবার সময় এর কিছু পরিবর্তন আশা করছি:

১. অনলাইন সংবাদ মাধ্যম হিসেবে কোন কোন মাধ্যম এই নীতিমালার আওতায় পড়বে তা সুস্পষ্ট করা

২. বাংলা ব্লগ, ফেসবুক, ইউটিউব বা এমন ধরণের কোন অনলাইন প্লাটফর্ম এর উপর এই নীতিমালা আরোপ না করা

৩. লাইসেন্স প্রদান এ স্বচ্ছতা ও সহজ করা। শুধুমাত্র আর্থিক সংগতির বদলে লাইসেন্স গ্রহণকারীর উদ্দেশ্য, মানুষের উন্নয়ন-এসব এর উপর ভিত্তি করে লাইসেন্স প্রদান।

৪. প্রচলিত মূলধারা গণমাধ্যম(পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও) এর ক্ষেত্রে অনলাইনে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা এবং যে কোন মুহূর্তে তথ্য পরিবর্তন এর উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ। এতে নিশ্চিত হবে পরিবেশিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা

৫. কোন ধরনের সংবাদ এর উপর নিষেধাজ্ঞা না এনে বরং সমালোচনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। তবে, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, এমন তথ্য প্রকাশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে।

৬. মত প্রকাশের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান।

উপরের সবগুলো বিষয় এ উপযুক্ত চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সময়োপযোগী “অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা নীতিমালা” তৈরি হবে বলেই তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারের প্রতি আশা রাখছি। এখন, ইন্টারনেটের মুক্ত জগত কতটা উন্মুক্ত থাকবে সেটা সম্পূর্ণই নীতিনির্ধারকদের হাতে। আমরা সাধারণ জনগণ নিজের মত প্রকাশের অধিকার হারাতে চাই না।

বাংলায় একটা কথা প্রচলিত আছে:

“দ্বার বন্ধ করে ভ্রমটাকে রুখি,

সত্য বলে, আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি।”

সত্য প্রকাশের দ্বার থাকুক উন্মুক্ত। সবসময়……

স্বপ্ন বিলাস সম্পর্কে

বাস্তবে মানুষ হবার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জীবনের নানা পথ ঘুরে ইদানীং মনে হচ্ছে গোলকধাঁধায় হারিয়েছি আমি। পথ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি আর দেখে যাই চারপাশ। ক্লান্ত হয়ে হারাই যখন স্বপ্নে, তখন আমার পৃথিবীর আমার মতো......ছন্নছাড়া, বাঁধনহারা। আর তাই, স্বপ্ন দেখি..........স্বপ্নে বাস করি.....
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে ইতিবাচক, উদ্যোগ, চিন্তাভাবনা, সচেতনতা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

8 Responses to প্রস্তাবিত অনলাইন পরিচালনা নীতিমালা-২০১২:বন্ধ দ্বারের গল্প

  1. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ লেখার জন্য ধন্যবাদ। আলোচনার দরকার আছে।

  2. সামিরা বলেছেনঃ

    দারুণভাবে পয়েন্টগুলি তুলে এনেছেন ভাইয়া। আমি নিজে নীতিমালাটা পড়তে গিয়ে বোর হয়ে যাচ্ছিলাম সেদিন – অস্পষ্টতার জন্যই মূলত।

    সত্য প্রকাশের দ্বার থাকুক উন্মুক্ত। সবসময়……

  3. মাধবীলতা বলেছেনঃ

    নতুন ক্যাচাল না লাগুক, মত প্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রহসন না হোক এটাই কামনা করি। সত্যের সাথে আছি সবসময়।

  4. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    নীতিমালার অনেক জায়গাতেই তো ঘাপলা আছে দেখছি!
    এত বোরিং নীতিমালা আগে পড়ার ধৈর্য হয় নি, তবে তোর পোস্ট পড়ে বুঝতে পারব না বা বোরিং লাগবে না দেখেই পড়তে আসা।
    অনলাইনে এই নীতিমালা প্র্যোগ করার আগে অন্তত ৫বার ভাবা উচিত।

মাধবীলতা শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।