পিংপিং এর জন্য পিগলা পিগলা গল্প :) পাথুরিয়া** (অনুবাদ)

**অনুবাদ করতে যেয়ে মাঝে মাঝেই যে কষ্টে পড়তে হয় তা হচ্ছে “প্রতিশব্দ”। এই যেমন আজকের গল্পের নাম ইংরেজীতে ছিল “stone cutter”. এর বাংলা প্রতিশব্দ কী? প্রতিশব্দ খুঁজে না পেয়ে হাত গুটিয়ে বসে ছিলাম লেখার শিরোনামে। এগিয়ে এলেন জনৈক জনদরদী, জনহিতৈষী……(তার নামটা নাই বলি)।

যে কাঠ কাটে তাকে যদি কাঠুরিয়া বলা হয় তাহলে যে পাথর কাটে তাকে “পাথুরিয়া” বলা যেতেই পারে। আর সে কারণেই গল্পের নাম- পাথুরিয়া।

পাথুরিয়া (অনুবাদ)

একটা ছোট্ট গ্রামে একদা এক পাথুরিয়া বাস করত। সারাদিন সে কঠোর পরিশ্রম করত- শক্ত পাথর কাটত আর ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পাথরগুলোকে বিভিন্ন আকার দিত। আর এসব করতে যেয়ে তার হাত দু’টো হয়ে গিয়েছিল শক্ত আর জামাগুলো হয়ে গিয়েছিল নোংরা।

একদিন সে একটা বড় পাথর নিয়ে কাজ শুরু করল। সূর্যের তাপ এত বেশি ছিল যে কাজ করতে তার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। অনেকক্ষণ পাথর কাটার পর সে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেবার জন্য ছায়াতে বসল আর অমনি ঘুমিয়ে গেল।

কিছুসময় পর সে শুনতে পেল কারা যেন আসছে। ঘুম থেকে জেগে অনেকগুলো মানুষের একটা বিশাল দল সে দেখতে পেল- অনেক সৈন্য আর ভৃত্য, তার মাঝে পালঙ্কে রাজা।

“আমি রাজা হলে কতই না মজা হত- ভাবল পাথুরিয়া। আমি কত্ত সুখি হতাম যদি আমি পাথুরিয়া না হয়ে রাজা হতে পারতাম।”

যেই না সে এই কথা বলল, অমনি একটি অদ্ভুত ঘটনা হল। পাথুরিয়া নিজের পরনে রাজার সিল্কের পোষাক আর জ্বলজ্বলে গহনা দেখতে পেল। দেখল সে বসে আছে রাজার নরম পালঙ্কে আর তার হাত দু’টো রাজার হাতের মতই নরম তলতুলে হয়ে গেছে।

সে পর্দার বাইরে তাকাল আর ভাবল, রাজা হওয়া কত সহজ, এখানের সবাই রয়েছে আমাকে সেবা করার জন্য।

দলটি এগিয়ে চলল। কিন্তু সূর্যের তাপ বেড়েই চলছে। রাজবেশে পাথুরিয়া গরমে খুবই অস্বস্তিতে পড়ল। সে দলটিকে থামতে বলল যেন সে কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিতে পারে।

তখনই প্রধাণ সেনাপতি রাজার সামনে নতজানু হয়ে বলল, “রাজামশাই, আজ সকালেই আপনি আমাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর শপথ নিয়েছিলেন যদি আমরা আমাদের গন্তব্যে সন্ধ্যার আগে পৌঁছাতে না পারি”। পাথুরিয়া দুঃখিত হয়ে দলটিকে আবার চলতে শুরু করতে বলল।

দুপুর ঘনিয়ে এল, সুর্যের খরতাপ বেড়েই চলল; আর রাজা আরও বেশি অস্বস্তি বোধ করতে লাগল।

আমি ক্ষমতাবান, এটা সত্যি, কিন্তু সূর্য কত বেশি শক্তিশালী। সে ভাবল আমি যদি রাজা না হয়ে সূর্য হতাম।

তখনই সে সূর্য হয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করতে লাগল।

সূর্যের এই বিশাল শক্তি পরিচালনা করা কিন্তু সহজ নয়। পাথুরিয়া সূর্য হয়ে এত শক্তিতে বিকিরণ করতে লাগল যে মাঠ-ঘাট পুড়ে গেল তার রশ্নিতে।

কিন্তু সূর্যের তাপে সাগরের সব পানি বাষ্প হয়ে বিশাল মেঘ সৃষ্টি হল যা পৃথিবীকে ঢেকে দিল। এখন সূর্য যত শক্তিতেই বিকিরণ করুক না কেন সে মেঘ ভেদ করে আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না।

“এটা অবশ্য সত্য যে মেঘ সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী আর ক্ষমতাবান- পাথুরিয়া বলল। এখন আমি সূর্য, যদি মেঘ হতে পারতাম।”

ততক্ষনাৎ সে একটা বড় কালো মেঘ হয়ে গেল।

সে তার নতুন শক্তি ব্যবহার করতে শুরু করল। সে মাঠে বৃষ্টি ঝরাতে শুরু করল আর বন্যা বানিয়ে ফেলল। সব বাড়ি-ঘর, গাছপালা ভেসে গেল।

কিন্তু একটা বড় পাথর যা সে পাথুরিয়া থাকার সময় একদিন কেটেছিল, অনড় অবিচল হয়ে রইল।সে যতই পাথরটিতে বৃষ্টি ঝরাতে লাগল পাথরটি অনড় হয়ে পরে রইল।

কেন পাথর এত বেশি শক্তিশালী আমার চেয়ে- মেঘবেশী পাথুরিয়া ভাবল।

শুধুমাত্র পাথুরিয়া পারবে তার দক্ষতা দিয়ে পাথরটিকে পরিবর্তন করতে। আমি যদি পাথুরিয়া হতাম।

বলতে না বলতেই সে নিজেকে, শক্ত খসখসে হাতের পাথুরিয়া হিসেবে একটা পাথরের উপর খুঁজে পেল।

সে তার হাতিয়ার তুলে নিল আর খুশিমনে বিশাল পাথর খন্ড নিয়ে কাজ করতে শুরু করল।

 

উৎস- সংকলিত

রো-দ্দু-র সম্পর্কে

রোদ হতে চাই দিনে রাতে...
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে অনুবাদ, গল্প, সাহিত্য-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

7 Responses to পিংপিং এর জন্য পিগলা পিগলা গল্প :) পাথুরিয়া** (অনুবাদ)

  1. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    কোথা থেকে অনুবাদ করছেন?
    ভালোই তো অনুবাদ হচ্ছে। একটু পিচ্চিদের হয়ে গেলো না? 😀 এর চেয়ে একটু সিরিয়াস গল্প হলে কেমন হয়?

  2. রো-দ্দু-র বলেছেনঃ

    ছোটদের জন্য একটা সাইট থেকে।
    ধন্যবাদ। করছি তো আসলে একেবারে পিং পিং- দের জন্যই।

    সিরিয়াস অনুবাদ হবে কিনা জানি না। তবে মৌলিক গল্প না হলেও লেখা দেবার ইচ্ছে আছে। অনেকদিন কিছু লিখি না। তাই টুকিটাকি দিয়ে আবার ফেরা।

  3. জনৈক বলেছেনঃ

    সাধারণত বাচ্চাদের এ ধরণের গল্পে একটি মোরাল থাকে শেষে, এখানে নেই?

    বাই দ্যা ওয়ে, কিপ ইট আপ।

  4. রো-দ্দু-র বলেছেনঃ

    মোরাল নেই কে বলল… একটু ভাল করে ভেবে দেখুন।

  5. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    আপনার গল্পটা পড়ে ছোটবেলায় আমার বইতে পড়া আরেকটা গল্পের কথা মনে পড়ে গেল আপু!
    ঐ যে, সূর্যের ক্ষমতা বেশি, নাকি মেঘের, নাকি বাতাসের, এরকম একটা গল্প ছিল না ছোটবেলায়?

    পিচ্চি হয়ে গেলুম আবার আগের মত! :happy:

জনৈক শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।