কার্টুনঃ stop Genoside, right now

গত দুই-তিন ধরে মন ভীষণ খারাপ। আমার মন অবশ্য মাঝে মাঝেই অকারণে খারাপ হয়ে যায়- এইবারের কারণটা বেশ গুরুতর। ফেইসবুকে একটা ছোট্ট বাচ্চার ছবি দেখলাম, বেচারা রিয়েল মাদ্রিদের জার্সি পরে ফুটবল খেলছিল- একটু পরেই আকাশবোমার মরণকামড়ে গায়ের মেসুত ওজিলের জার্সিটা রক্তাক্ত, ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এই ছোট্ট ছেলেটা কী দোষ করেছিল, কেউ বলতে পারেন? কোন্ অপরাধে তার ফুটবল খেলার সাধ কেড়ে নেওয়া হল চিরদিনের জন্য?

যখন এই কথাগুলো লিখছি, ঠিক সেই সময়ই হয়ত আরেকটা প্রাণঘাতী আকাশবোমা বিলীন করে দিয়ে গেলো গাযা-র একটা অংশ। গাযা-র মানুষদের জন্য এখন এই ঘটনা নিত্যদিনের ‘খুব সাধারণ’ ব্যপার। একের পর এক প্রিয়জনকে চোখের সামনে হারিয়ে যেতে দেখে হয়ত তাদের চোখের জল শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে, হয়ত তাদের হাহাকারে পৃথিবীর কিছু এসে যায় না আর। ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’- ছোটবেলায় পড়া ভাবসম্প্রসারণের এই লাইন কী আজ আমরা ভুলতে বসেছি কালচক্রে?

জানি, কেউ কেউ হয়ত বলবেন, গাযা-য় যেমন মানুষ মারা যাচ্ছে, মানুষ তো মারা যাচ্ছে ইসরাইলেও- তাদের জন্য কেন দরদ দেখাই না! বিশ্বাস হবে কিনা জানি না- আমার ফেইসবুক হোমপেইজেই কয়েকটা পোস্ট দেখেছি এই রকম। আপনিও যদি ওই মতাবলম্বী হন, তাহলে বলবো, “আপনাকে স্বাগতম- ইসরায়েলিদের চিন্তা ভাবনা ঠিক আপনার মতনই; যেমনটা ছিল হিরোশিমা, আর নাগাসাকিতে পারমাণবিক হামলা চালানো আমেরিকানদের।”

এরিয়েল শ্যারনের ‘মহান’ পুত্রের কিছু কথা খুঁজে পেলাম অন্তর্জালে, কোট করতেই হয়-
“Why do our citizens have to live with rocket fire from Gaza while we fight with our hands tied? Why are the citizens of Gaza immune? If the Syrians were to open fire on our towns, would we not attack Damascus? If the Cubans were to fire at Miami, wouldn’t Havana suffer the consequences? That’s what’s called ‘deterrence’ – if you shoot at me, I’ll shoot at you. There is no justification for the State of Gaza being able to shoot at our towns with impunity. We need to flatten entire neighborhoods in Gaza. Flatten all of Gaza. The Americans didn’t stop with Hiroshima – the Japanese weren’t surrendering fast enough, so they hit Nagasaki, too.”

আমি অনেক ক্ষুদ্র একটা মানুষ, এই কথার পক্ষে- বিপক্ষে কথা বলার মতন যোগ্যতা নেই আমার। অন্তর্জালে খুঁজে পাওয়া নিচের কার্টুনদুটোই আশা করি সেই জবাব দেবেঃ

1

2

আরেকটা প্রশ্ন উঠতে পারে- আমাদের কী ক্ষমতা আছে এর বিরুদ্ধে কথা বলার? কী এমন উদ্ধার করে ফেলবো, এর প্রতিবাদ করে দু’ চার দফা ব্লগিং কিংবা ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে? ঠিক, হয়ত কিছুই পারবোনা- আবার হয়ত অনেক কিছুই পারবো। অন্তত নিজের মনকে তো আর চোখ ঠাওরাতে হবে না! আমি আঁকতে ভালো পারি না, লিখতে পারি আরো খারাপ- তাও ইচ্ছে হয়েছিল গাযা-র ওই অসহায় মানুষগুলোকে নিয়ে কিছু একটা করতে। তারই ফলাফল লেখার শুরুতে দেওয়া ওই বস্তাপচা কার্টুনটা। ইমেজটায় ক্লিক করলে ছবিটা বড় করে দেখাবে।

থাক এসব কথা। এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না আপনার। নতুন নতুন মুভি, আর ইউটিউবের ভিডিও তো আছেই মাথা ঘামাবার জন্য। কোথায় কয় ঘন্টায় কয় জন মারা যাচ্ছে আকাশবোমার আঘাতে, তা জেনে আপনার কাজ কী, তাই না? আর, নিদেনপক্ষে, যদি বন্ধু-পরিচিত মহলের কাছে ‘প্রেস্টিজ’ রক্ষার্থে কিছু একটা বলতেই হয়, দু’চারটে meme তো আছেই শেয়ার করার জন্য!

নিলয় সম্পর্কে

"আমি জানি আমি আমার চারপাশের এই অসংখ্য মানুষ থেকে অনেক ভালো জীবন পেতে পারতাম, কিন্তু সে জীবনে আমার কোন আকর্ষণ নেই। আমি দেখেছি সেই জীবন প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন- প্রতিটি মানুষের জীবন এতো সুনির্দিষ্ট, এতো গতানুগতিক যে সেটি একটি সাজানো নাটকের মতো। আমি সেই সাজানো রঙ্গমঞ্চের অভিনেতা হতে চাইনি।" [http://www.facebook.com/niloy.02]
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে আঁকি বুকি, কার্টুন, চিন্তাভাবনা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

12 Responses to কার্টুনঃ stop Genoside, right now

  1. সামিরা বলেছেনঃ

    কী এক লজ্জায়, ফেইসবুকে এই ইস্যু নিয়ে কিছু শেয়ার করতেও ইচ্ছা করে না। আবার কেউ না করলেও মনে হয়, এত নির্বিকার কেন!

    • নিলয় বলেছেনঃ

      আপু- চুপ করে থাকা মানে তো বিষয়টাকে এক প্রকার প্রশ্রয় দেওয়া। যদি আমার জন্য কোন কারণে কিছু বলা সম্ভব না হয়- সেটা অন্য ব্যপার। আপনার মতন এই অবস্থাটায় আমিও ছিলাম, গত পরশু একটা ক্ষোভ থেকেই একেছি কার্টুনটা।

  2. Chronose বলেছেনঃ

    খারাপ লাগে, গাযা নিয়ে চিন্তা করতে গেলেই খারাপ লাগে…
    কথা বলার কাজটাও করছি facebook-এ, বন্ধু মহলে, কিন্তু কথা গুলো যথাস্থানে বলা হচ্ছে না… 🙁

  3. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    আমাদের নিজেদের মানুষ হতে হবে, বাকিদেরও উৎসাহিত করতে হবে।

    এই রকম পাশবিক বিষয় পশুরা করে মানুষরা না। আমরা হতে দিলে আমরা আর মানুষ থাকি কীভাবে?

    নিজেদের গড়তে হবে আসলে।

  4. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    আজকেই নেটে ব্রাউজিং করতে করতে আটকে গেলাম। নিজেকে থামিয়ে রাখতে পারলাম না। গলার কাছে দলা পাকিয়ে কী একটা যেন আটকে আছে, কিছুতেই দূর করতে পারছি না।

  5. শারমিন বলেছেনঃ

    এইসব নিয়ে চিন্তা করলে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়
    এবং আরও খারাপ লাগে যে আমাদের তেমন কিছুই করার নাই
    🙁 🙁

নিলয় শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।