ভাল

আজ বাসে করে বাসায় আসার সময় একটা কথা চিন্তা করলাম… পৃথিবীতে “ভাল” শব্দটার মূল্য কি আছে??

১. একজন ভাল ও সরকারী চাকুরীজীবী জীবনের সারাটা সময় ভাল হয়ে থাকার চেষ্টা করছে। তার ছেলে-মেয়ে বাসে ঝুলে ঝুলে স্কুল-কলেজে যায়। কষ্ট করে সংসার চালায়। অবসরের সময় কি পেল?? শুধু একটা মিষ্টির প্যাকেট আর এক গুচ্ছ ফুল …

২. একটা ছেলে একটা মেয়েকে খুব ভালবাসে। হয়তো একটু বেশি। পাগলের মত। মেয়েটা কিন্তু সব বুঝল। কিন্তু কি হল!! ছেলের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। ছেলেটা পাগলের মত ও শুধু এক পলক দেখার জন্য নিজের জন্মদিনে মজা না করে সারা রাত পাগলের মত দাঁড়িয়ে থাকল। কত কাকুতি- মিনতি একটু দেখার জন্য !! কি হল!! মেয়েটা ভালোবাসার মূল্য বুঝল না। ছেলেটা জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে কষ্ট পেয়ে গেল। ভাল প্রেমিকের মূল্য আছে?

৩. একটা মেয়ে। জীবনের সবটুকু উজাড় করে একটা ছেলেকে ভালবাসে। বিনিময়ে যখন জানে যে ছেলেটা তার সাথে game খেলেছে। ছেলেটার কাছে ভালোবাসার মানে time-pass. কি পেল মেয়েটা ছেলেটাকে ভালবেসে???

৪. একটা ছেলে সারাজীবন পড়াশুনা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ছুটাছুটি করেছে। কোনদিন রিলেশন নিয়ে ভাবে নাই । নিজের সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করেছে। বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করেছে। বিয়ের কিছুদিন পর যখন ছেলেটা জানে যে তাঁর স্ত্রীর গর্ভে যে সন্তান সেইটা তাঁর না । এই ভাল ছেলেটার ‘ভালত্বের’ মূল্য কই??

৫. এক মেয়ে জীবনে কোনদিন কাউকে ভালবাসে নি। সব ভালবাসা তার যে স্বামী হবে তার জন্য রেখে দিয়েছে। বাবা-মার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করবে। স্বামীকে উজাড় করে ভালবাসবে। এক ঝাঁক লাল-নীল স্বপ্ন। যখন মেয়েটার বিয়ের পর জানে তার স্বামী অন্য কাউকে ভালবাসে , মেয়েটার জন্য কোন ভালবাসা নেই বা স্বামীর গোপন সম্পর্ক আছে বা স্বামীর আরেকটা সংসার আছে  । তখন এই মেয়েটার কি স্বামীকে ভালবাসার স্বপ্ন কি পাপ ছিল? সে তো একটা ভাল স্ত্রী হতে চেয়েছে। মেয়েটার ভাল স্ত্রী হওয়ার কি মূল্য নাই?

==> “ভালত্বের” মূল্য মানুষ না দিলেই কি?? “ভাল” সবসময় ভাল। মানুষ ভাল বলুক আর নাই বলুক যে ভাল সে যখন তাঁর নিজেকে প্রশ্ন করবে ” এইসবে আমার কি পাপ আছে?? ” সবসময় মন তাঁকে ভাল বলবে। নিজের কাছে নিজের পবিত্রতা অনেক বড় ব্যাপার। সৎ ও ভাল সরকারী চাকুরীজীবীর হয়তো টাকা নেই। কিন্তু তাঁর ঘরে যে সুখ আছে তা অসৎ লোকের কোটি টাকা দিয়ে কেনা যাবে না। সৎ লোকটাকে মানুষ মন থেকে সালাম দিবে। ভয় পেয়ে না। ভাল প্রেমিক বা প্রেমিকা জীবনে অনেক কষ্ট পায়। কিন্তু তাঁরা জানে তাদের ভালবাসাতে তো খাদ ছিল না। নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবেসেছে। হয়তো তাঁর ভালোবাসার মানুষকে পায় না। তাতে কি?? পৃথিবীর মানুষগুলো তাদের নিজের অজান্তে ঐসব সব মানুষকে আপন করে নেয়। এইটা কম কিসে?? ৪ ও ৫ এর ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। শুধু এইটাই জানি, ভাল মানুষগুলো অমূল্য। তাদের জন্য এই পৃথিবীটা এখনও সুন্দর লাগে। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষের বাঁচার স্বপ্ন জাগায়। জীবনে অনেক ভাল মানুষের সাক্ষাৎ পেয়েছি। তাদের দেখে লোভ লাগে। একটু ভাল হওয়ার। ভালদের অনেক কষ্ট, যন্ত্রণা পেতে হয়। তবুও এই কষ্টগুলোতে আনন্দ আছে।

(আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ অনেক কঠিন ব্যাপার নিয়ে লিখলাম। হয়তো আমার ধারনা ভুল। কিছু ভুল বলে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। 😛 😛 )

– নামহীন

অন্য স্বর সম্পর্কে

ননরেজিস্টার্ড সদস্যগণও যেন সরবে লিখতে পারেন সেই জন্য এই একাউন্ট। যোগাযোগ পাতায় কিছু লিখে জমা দিলে সরব এর মডারেটরগণ তা মূল্যায়ন করবেন। মনোনীত হলে এই একাউন্ট দিয়ে ছাপা হবে।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে চিন্তাভাবনা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

10 Responses to ভাল

  1. নয়ন বলেছেনঃ

    অনেক ভাল লিখেছেন।কিন্তু লাভ কি? কিছু কমেন্ট ?
    আমি বিশ্বাস করি ,ভালোর দাম পাওয়া জাই একটু দেরিতে।
    তবে সমস্যা হছছে , তখন অনেক দেরি হয়ে জাই ।

    • নামহীন বলেছেনঃ

      আসলে “ভাল” শব্দটি অনেকের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে… আমার মধ্যেও… কিন্তু ওইদিন মনে পড়ল একজন ভাল মানুষের সন্ধান পেয়ে… তাই সবাইকে একটু এই শব্দটা মনে করিয়ে দিলাম… 😛 😀

  2. সামিরা বলেছেনঃ

    লেখার সমাপ্তিটা দারুণ লাগলো। 🙂

  3. রাইয়্যান বলেছেনঃ

    লেখায় পাঁচটির মধ্যে চারটি পয়েন্টই নারীপুরুষের সম্পর্ক বিষয়ক– প্রেম কিংবা বিবাহে ভালোত্বের মূল্য না থাকাকে ফোকাস করে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা এতে করে পোস্টটি কিঞ্চিত পেসিমিস্ট হয়ে গিয়েছে, কারণ পারস্পরিক সম্পর্কে শ্রদ্ধা নেই এমন মানুষের সংখ্যাগত অনুপাত খুবই কম হবার কথা, পাঁচে চার তো নয়ই। প্রতারকের সংখ্যা ভালোমানুষের চেয়ে কোনভাবেই বেশি হতে পারে না!!!

    ভালো হয়ে থাকা, ভালো কাজ করা, নিজের বিবেকের প্রতি সৎ থাকা– এগুলো শুধু সম্পর্কের ক্ষেত্রে বা চাকুরীর ক্ষেত্রে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রতি মুহূর্তে প্রযোজ্য। বাসে একজন মুরব্বীকে আপনার সিটটা ছেড়ে দিলেন, বাসের আর কেউ হয়ত খেয়ালও করল না। চিপস খেয়ে প্যাকেটটা রাস্তায় না ফেলে হাতেই রেখে দিলেন, ট্রাশবিন পেলে ফেললেন– কেউ হয়ত জানলও না আপনি শহরটাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আপনার দায়িত্বটুকু ঠিকমত পালন করেছেন। অনাথ বাচ্চাদের জন্য হয়ত আপনার জন্মদিনের ট্রিটের টাকাটা দিয়ে কিছু চকলেট কিনে দিলেন– ফেসবুকে ফটো আপলোড না করায় কেউ লাইক দিতে পারল না। ভালো কাজের কোন সীমা নেই! ‘কী পেলাম’ প্রশ্নও তখন অবান্তর হয়ে যায় :love:

    ভালো লেগেছে প্রথম পয়েন্টটি, সাথে শেষের কিছু কথা। “কিন্তু তাঁর ঘরে যে সুখ আছে তা অসৎ লোকের কোটি টাকা দিয়ে কেনা যাবে না।” খুব খুব খুব সত্যি!

    • ফিনিক্স বলেছেনঃ

      রাইয়্যানের মন্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত আমিও।

      লেখাটা আমার কাছেও একটু বায়াসড মনে হয়েছে।
      ৫এর ভেতর ৪টা পয়েন্টই প্রেম সম্পর্কে ফোকাস করে ‘ভালো’ শব্দটার প্রেক্ষিতে প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে। অথচ আরো অনেক অন্যরকম উদাহরণ হয়ত দেয়াই যেত।

      আপনার সব প্রশ্নের উত্তর আপনি নিজেই দিয়ে দিয়েছেন। বাড়তি কিছুই বলার নেই আমার এতে। শুধু বলব- এক জীবনে সব ‘ভালো’র উত্তর পাওয়া যায় না, একটু অপেক্ষা করতে দোষ কি? 🙂

      আপনার শেষ প্যারাটা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
      :welcome:

    • রাইয়্যান বলেছেনঃ

      :welcome:

  4. অক্ষর বলেছেনঃ

    ভালোর জন্য তো কেউ মূল্য খোঁজেও না। কি দরকার মূল্য খোঁজার ? আর কিছু ব্যাপার আছে যেগুলো না চাইতেও ঘটে যায় ওগুলোর শেষ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আপনার এই পোস্টে আরও ৫ বছর পর মন্তব্য করব মনে করিয়ে দিয়েন।

    সরবে স্বাগতম , আপনি লেখা চালিয়ে যান।

    :welcome:

  5. নামহীন বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ 😀 … ৫ বছর পর কি হবে ধারনা করতে পারছি কিছুটা… তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে… স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে… বাঁচার জন্য স্বপ্ন দেখে… 🙂

রাইয়্যান শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।