নীরবতা নয় আর, সময় এখন সরব হবার

ব্লগ পড়ার অভ্যাস দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন ব্লগে ‘অসা—ধারণ’ থেকে শুরু করে ‘আজাইরা’, সব ধরণের লেখাই পড়েছি। কিন্তু নিজে কিছু লেখার বেলায় বরাবরই কেমন এক অজানা ও অদ্ভুত জড়তায় আক্রান্ত হই! এমনকি প্রায়ই হয়ত কোন লেখায় মন্তব্য করতে ইচ্ছে হয়েছে, কখনও আবার তা লিখেও ফেলেছি, পরে কী মনে করে আর প্রকাশ না করে মুছে ফেলেছি!

মাঝে মাঝেই কিছু আইডিয়া মাথায় এসে ভিড় করে। সেগুলো নিয়ে লিখি। কিন্তু তারপর নিজের কাছেই তা ‘অখাদ্য’ মনে হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা, সামান্য কোন একটা বিষয় নিয়ে লেখার পর দেখি তা ‘বিশাআআল’ আকার ধারণ করেছে (যেমন আশংকা করছি এই লেখাটাও তেমনই হবে)! ফলে আর তা প্রকাশ করতে ইচ্ছা হয় না। 

 

তবে এবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। নীরবতা নয় আর, :nono:  সময় এখন সরব হবার। লিখবো, প্রকাশও করব। (অবশ্য এখনও আমি সন্দিহান শেষ পর্যন্ত এই লেখাটাও প্রকাশ করার আগে মুছেই ফেলব কি না! 😛 )  কিসের এত ভয়, জড়তা?  :fire:

 

আর অদ্ভুত সত্য হল, অন্য ব্লগগুলোর তুলনায় ‘সরব’-এর সাথেই আমার পরিচয় সবচেয়ে দেরিতে! কিন্তু নিয়মিত বেশ কিছুদিন এখানে পদচারণ করে কিছু অসাধারণ লেখা, সুন্দর মনের কিছু মানুষ ও ক্যাঁচালমুক্ত পরিবেশের সাথে পরিচিত হবার পর মনে হল, এই প্লাটফর্মটাই যেন খুঁজছিলাম। নিজের ক্ষুদ্র কিছু চিন্তা নিয়ে এখানে আলোচনা করা যায়। তাই, ‘সরব’কেই বেছে নিলাম।আশা করি এই পরিবারের ভাইয়া-আপু’রা এই নবীন সদস্যের ‘অখাদ্য’ লেখাগুলোতে তাদের সমালোচনা ও পরামর্শ দিয়ে ‘খাদ্য’ করে তুলতে সাহায্য করবেন। :happy:

 

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গ।

 

আজ বছরের শেষ দিন। নতুন বছরকে নিয়ে আমাদের প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত কত্ত স্বপ্ন, চিন্তা ও পরিকল্পনা থাকে। তাই না? আর যারা একটু সচেতন তারা ব্যক্তিগত চিন্তার পাশাপাশি সমস্যায় জর্জরিত আমাদের প্রিয় এ দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও রাজনৈতিক ইস্যু এমনকি চলমান আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও অনেক চিন্তিত, এবং নতুন বছরে এসব সমাধানে নিয়ে সচেতনতামূলক কী উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে তা নিয়েও ভাবনারত।

 

তবে আমার অতিসীমিত জ্ঞানে অত ভারী ভারী বিষয় নিয়ে বলা মানাবে না। বরং একটু দেখি তো, নতুন বছরে এক্কেবারে ছোট্ট ছোট্ট কিছু কাজ, যেসব আসলে আমরা সবাই-ই জানি, সেগুলোতে সচেতনতার সাথে অভ্যস্ত হওয়ার প্রতিজ্ঞা করে ফেলা যায় কি না।

 

১. সবখানেই “ট্রাফিক আইন মেনে চলুন” কিংবা “একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না” টাইপের সচেতনতামূলক বাণী চোখে পড়ে। তা সত্ত্বেও সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না। বরং আশংকাজনকহারে বেড়েই চলেছে! নতুন বছর থেকে তাই আসুন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্ভব এমন কিছু সিদ্ধান্ত আমরা নিয়ে নিই। যেমনঃ

  •  যত তাড়াই থাকুক কিংবা রাস্তা যত ফাঁকাই থাকুক যেখানে রাস্তা পার হওয়ার জন্য ওভারব্রিজ আছে, সেখানে একটু কষ্ট করে হলেও উপর দিয়েই যাব।
  • অনেক সময় কোন একটা গলিতে ঢুকতে বা তা থেকে বের হতে অনেকটা সামনে গিয়ে রোড ডিভাইডারে ইউটার্ন নিতে হয়। রিকশায় থাকলে আমরা সাধারণত তা না করে আগেই রংসাইড দিয়ে ঢুকে যাই। আসুন না, আমরা এই অভ্যাস বদলে ফেলি, রাস্তা ফাঁকা থাকলেও। এতে সময় একটু বেশি লাগবে, রিকশাচালককে হয়ত ৫টা টাকা বেশি দিতে হবে।

২. সারাদেশে প্রচণ্ড শীত চলছে। সামনে আরও একবার ভয়ানক শীত পড়তে পারে। এ সময় হয়ত আমরা অনেকেই বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা বা ক্লাব আয়োজিত দূরে কোথাও শীতবস্ত্র বিতরণে অর্থ বা বস্ত্র দিয়ে অংশ নিয়ে ফেলেছি অথবা নেব। তবে চলুন, এর পাশাপাশি নতুন বছর থেকে আমরা আরও একটা অভ্যাস করি। ঐ যৌথ উদ্যোগগুলো ছাড়াও একদম ব্যক্তিগতভাবে নিজের কমপক্ষে ১টি আর সাধ্য থাকলে আরও বেশি শীতের কাপড় আমরা আমাদের আশেপাশেরই সুবিধাবঞ্চিত কোন মানুষকে দিই।

 

৩.  আমাদের দেশ পুরোটাই যেন ডাস্টবিন! ঠোঙ্গা, পলিথিন, কলা বা বাদামের খোসা, চিপসের প্যাকেট ইত্যাদিসহ যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা আমরা যেখানে সেখানে ফেলি। আসুন আমরা ধীরে ধীরে সঠিক জায়গায় ময়লা ফেলায় অভ্যস্ত হই।

 

এসব কথা কোনটাই নতুন নয়। প্রত্যেকটা কথাই আমরা সবাই জানি। কিন্তু, একটু অলসতা কিংবা একটু তাড়া, কখনওবা একটু ব্যস্ততা বা কষ্ট ও ব্যয় কমানোর চেষ্টা, সর্বোপরি ব্যবস্থাপনার অভাব ইত্যাদি কারণে আমরা এসব মানতে চাই না। হ্যাঁ, প্রথমে একটু কষ্ট হবেই, খরচও হয়ত একটু বাড়বে। কিন্তু ভাবুন তো, একজন একজন করে ব্যক্তিগতভাবে এ সামান্য কাজগুলো করতে করতে একদিন যখন সবাই এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তখন সমাজে কত্ত সুন্দর একটা শৃঙ্খলা আসবে!

 

নিজে নিজে এসব করা শুরু করলে তবেই তো অপরকে বদলাতে বলা যাবে। আসুন আগে নিজেরাই বদলাই। (আমি এসব এখানে লিখলাম মানেও অবশ্য আর সবার মত অপরকেই বদলাতে বললাম! :wallbash: তাই সবার দু’আও চাই যাতে বলার পাশাপাশি সত্যিই নিজে আগে বদলাতে পারি।)

 

পরিশেষে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।  :happy:

 

 

শাহরিয়ার সম্পর্কে

সারাদিন নানান ধরণের চিন্তাভাবনা মাথায় কিলবিল করতে থাকে। তার কিছু অংশ ডায়েরির পাতার পরিবর্তে এখানে স্থান দেয়ার প্রয়াসে...
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ, সচেতনতা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

11 Responses to নীরবতা নয় আর, সময় এখন সরব হবার

  1. অক্ষর বলেছেনঃ

    ইমোটিকনের উতকৃষ্ট ব্যবহার ! :happy:
    লেখা সুন্দর হয়েছে আর অবশ্যই সময় এখন “সরব” হবার। আমরা এভাবে একটু একটু করে বদলে নিলেই সব সুন্দর হয়ে যাবে। নিয়মিত লিখবেন আশা করি।

    :welcome:

  2. গাঙচিল বলেছেনঃ

    “একজন একজন করে ব্যক্তিগতভাবে এ সামান্য কাজগুলো করতে করতে একদিন যখন সবাই এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তখন সমাজে কত্ত সুন্দর একটা শৃঙ্খলা আসবে!” — সত্যিই তাই।

    একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্বগুলোকে *দায়িত্ব* হিসেবেই দেখতে হবে।

    লেখা চালিয়ে যাও। :happy:

    :welcome:

    (আমার নিজেরই এখনও সরব হওয়া হল না…… আর আমি আরেকজনকে স্বাগত জানাই 😛 )

    • শাহরিয়ার বলেছেনঃ

      “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্বগুলোকে *দায়িত্ব* হিসেবেই দেখতে হবে।”

      সহমত।

      চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব ইন-শা-আল্লাহ।

      আর… তুমিও সরব হয়ে যাও, নীরব থেকে আর লাভ নেই, বুঝলা? 🙂

  3. কৃষ্ণচূড়া বলেছেনঃ

    :welcome:
    “আর অদ্ভুত সত্য হল, অন্য ব্লগগুলোর তুলনায় ‘সরব’-এর সাথেই আমার পরিচয় সবচেয়ে দেরিতে! কিন্তু নিয়মিত বেশ কিছুদিন এখানে পদচারণ করে কিছু অসাধারণ লেখা, সুন্দর মনের কিছু মানুষ ও ক্যাঁচালমুক্ত পরিবেশের সাথে পরিচিত হবার পর মনে হল, এই প্লাটফর্মটাই যেন খুঁজছিলাম। নিজের ক্ষুদ্র কিছু চিন্তা নিয়ে এখানে আলোচনা করা যায়। তাই, ‘সরব’কেই বেছে নিলাম। ” :clappinghands:

    রাস্তায় ময়লা ফেলা/ নিয়ম অমান্য করা নিয়ে আমার বিশেষ অপছন্দ আছে, সমমনা মানুষ দেখে ভাল লাগলো ! সরবে অনেকেই কিন্তু আপনার মত ভাবে।

    আমাদের অল্প অল্প চেষ্টায় দেশটায় পজিটিভলি পরিবর্তন হবেই।।হতেই হবে।

    • শাহরিয়ার বলেছেনঃ

      আপনার মন্তব্য পড়ে আমারও ভাল লাগলো। :happy:
      লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

      আর হ্যাঁ… “আমাদের অল্প অল্প চেষ্টায় দেশটায় পজিটিভলি পরিবর্তন হবেই। হতেই হবে।”
      ইন-শা-আল্লাহ।

  4. শারমিন বলেছেনঃ

    :welcome:
    সুন্দর লিখা 🙂
    আশা করি নিয়মিত লিখবেন।

  5. আরণ্যক বলেছেনঃ

    বাহ!দারুণ লেখা! :clappinghands:
    “একজন একজন করে ব্যক্তিগতভাবে এ সামান্য কাজগুলো করতে করতে একদিন যখন সবাই এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তখন সমাজে কত্ত সুন্দর একটা শৃঙ্খলা আসবে!”

    :welcome:

    • শাহরিয়ার বলেছেনঃ

      অনেক ধন্যবাদ, আপু। :happy:

      * অফটপিকঃ অন্য ব্লগে আপনার বেশ কিছু অসাধারণ লেখা আমি পড়েছি। আশা করছি সরবেও আপনি সরব হবেন। 🙂

গাঙচিল শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।