১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী, বাংলার মহামানবের আগমন

বাংলা আন্তঃজালে অনেক খুজেও ‘৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর দেয়া প্রথম ভাষন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সেই ভাষনটি খুজে পেলাম না। ভাবলাম, আমিই তাহলে যুক্ত করি !

আজ, ১০ই জানুয়ারী। নয় মাসেরও অধিক সময় পাকিস্তান কারাগারে মৃত্যুর প্রহর গুনে আন্তর্জাতিক মহলের চাপে শেষ পর্যন্ত ৮ই জানুয়ারী মুক্তি পেয়ে এই দিন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। নিউ ইয়র্ক টাইমের সেদিনের শিরোনামটি ছিলো এরকম: “SHEIK MUJIB HOME; 500000 GIVE HIM ROUSING WELCOME”

আমার কাছে ভাষনটির যতোটুক ভিডিও ছিলো, অতোটুকু লিখে রাখবার চেষ্টা করলাম। কিছু জায়গা উদ্ধার করতে না পারায় ডট ডট দেয়া, কেউ জেনে থাকলে জানাবেন, পরে যোগ করা হবে।

ভাইয়েরা ও বোনেরা, আমি প্রথমে স্মরণ করি আমার বাংলাদেশের ছাত্র, সৈনিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, সেপাই, পুলিশ, জনগণকে, হিন্দু-মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের আত্মার মঙ্গল কামনা করে এবং তাদের উপর পুষ্প নিবেদন করে আমি আপনাদের সাথে দুটো কথা বলতে চাই। আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে, আমার জীবনের স্বাদ আজ পূর্ণ হয়েছে, আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে ……. আমি আজ …. করতে পারবো না। বাংলার ছেলেরা, বাংলার মায়েরা, বাংলার কৃষক, বাংলার  শ্রমিক, বাংলার বুদ্ধিজীবী যেভাবে সংগ্রাম করেছে, আমি কারাগারে বন্দী ছিলাম। ফাঁসী কাষ্ঠে যাবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু আমি জানতাম, আমার বাঙ্গালীকে কেউ দাবায় রাখতে পারবে না। আমার বাংলার মানুষ ….. না। প্রায় তিরিশ লক্ষ লোককে মেরে হয়েছে বাংলায়, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও, এবং প্রথম মহাযুদ্ধেও এতো লোক, এতো সাধারণ নাগরিক মৃত্যুবরণ করে নাই, শহীদ হয় নাই, যা আমার এই সাত কোটির বাংলাদেশে হয়েছে।


ছবি কৃতজ্ঞতাঃ জন্মযুদ্ধ ‘৭১
আমি জানতাম না, আপনাদের একজন হয়ে আমি ফিরে আসবো। আমি খালি একটা কথা বলেছিলাম, তোমরা যদি আমাকে মেরে ফেলে দাও আমার আপত্তি নাই। মৃত্যুর পরে আমার লাশটা আমার বাঙ্গালীর কাছে দিয়ে দিয়ো, এই একটা অনুরোধ রইলো।

মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশ স্বাধীন থাকবে, বাংলাদেশকে কেউ দাবাতে পারবে না। কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ বলেছিলেন –

সাত কোটি বাঙ্গালীরে, হে বঙ্গজননী
রেখেছো বাঙ্গালী করে
মানুষ করো নি।

কবিগুরু মিথ্যা কথা প্রমাণ হয়ে গেছে, আমার বাঙ্গালী আজ মানুষ।

 আমি জানতাম না, আমার ফাঁসির হুকুম হয়ে গেছে। আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবর খোঁড়া হয়েছে। আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম। বলেছিলাম, “আমি বাঙ্গালী ! আমি মানুষ ! আমি মুসলমান ! একবার মরে, দুইবার মরে না।” আমি বলেছিলাম, ” আমার মৃত্যু এসে থাকে যদি, আমি হাসতে হাসতে  যাবো, আমার বাঙ্গালি জাতকে অপমান করে যাবো না। তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবো না। এবং যাওয়ায় সময় বলে যাবো, জয় বাংলা। স্বাধীন বাংলা। বাঙ্গালী আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান।”

ইউটিউব লিংক

এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে ইতিহাস-এ এবং ট্যাগ হয়েছে , , , স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

4 Responses to ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী, বাংলার মহামানবের আগমন

  1. সাঈদ আনোয়ার অনুজ বলেছেনঃ

    সকাল বেলা সার্চ দিয়ে প্রথমেই আপনার পোস্টটা পেলাম।
    কাহারাপ লাগল, আজকের আগেই এইটা কেউ তুলে ধরে নি… 🙁
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, ভাইয়া… 🙂

  2. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    ভাষণটা বেশ চেনা।

    ভবেশ রায় এর লেখা বইতে বঙ্গবন্ধুকে অনেক ডিটেইলে চিনছি।

  3. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    অনেক ভালো প্রয়াশ নিশম!
    অসংখ্য ধন্যবাদ পাওনা তোর। :huzur:

সাঈদ আনোয়ার অনুজ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।