“ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা”- সরব বুক রিভিউ

বইটা পড়ে স্ট্যাটাস দিয়ে ছিলাম –একটু আগেই শেষ দিলাম “তারুন্যের ২০ কুড়ি” আর এখন বলছি, আবার পড়লাম “তারুণ্যের ২০ কুড়ি” 😀

অসম্ভব সুন্দর কিছু মানুষের অসম্ভব অসম্ভব সুন্দর সুন্দর লেখাগুলি এক মলাটে মোড়ানো।

প্রথমেই সামিরা আপুর লেখায় আসি, আমার একটা বদভ্যাস, বই পড়তে পড়তে কোন লাইন ভালো লেগে গেলে হাতের কাছে যাই পাই তা দিয়াই দাগ দিয়ে রাখি,যাতে আবার বইটা ধরলে ওই জায়গাটাতে চোখ যায়। আপুর লেখাগুলো পড়ার পর পেজ উল্টে দেখি, পুরো গল্পটাই দাগানো হয়ে গেছে। :love:

তারপরেই KFC খ্যাত ফিনিক্স আপির লেখা, “প্রতিটি কামড়ে বদলে যাচ্ছে পৃথিবী!” এই লেখাটা পড়ে একটা প্রশ্ন জেগেছে মনে,আচ্ছা আপি, এতো কিছু জেনে তোমার কখনো এই পৃথিবীর মানুষগুলোর উপর বিতৃষ্ণা জন্মে না?? 🙁
কিন্তু আপুই জানিয়ে দিয়েছে,পৃথিবীর মানুষের উপর বিতৃষ্ণা জন্মালে তো নিজের উপরও তা জন্মে যায়…এখনো নিজেকে মানুষ বলে ভাবতে ভালো লাগে যে,তাই বিতৃষ্ণা কেমন করে জন্মাই অন্যদের উপর? 🙂

আর নিস্তব্ধ শৈশব ভাইয়ার “রক্তদানের অনুপ্রেরনা”র সাথে যোগ হল “চিটশিট”, যেটা যাকেই সামনে পাচ্ছি তাকেই ধরে ধরে পড়াচ্ছি, প্রেম>লেখাপড়া এইটা করা যাবে না। :nono:

আর জিকো ভাইয়ার লেখা,”একাত্তরের দিনগুলি”র ওই অংশগুলি পড়েই আমি সারারাত কেঁদেছিলাম আর হাউমাউ করে বলতে ইচ্ছে করত, এতো কষ্টের স্বাধীনতা আমার!! :crying: আমি শিক্ষামন্ত্রী হলে এই বইটা সবার বাসায় রাখার জরুরি আদেশ দিতাম!!

এরপর আছে একুয়া’পু র ‘সম্পর্ক’ নিয়ে দারুণ কিছু কথা,বেশি ভালো লেগেছে ইশতিয়াক ভাইয়ার অভিজ্ঞতার কথাগুলো, আর দারাশিকো ভাইয়ার লেখা পড়ে সাহস হল, নাহ! খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ছবি দেখাটা তাহলে খারাপ না যদিও কোল নিডহ্যামের মতো বছরে ১১০০ ছবি দেখার সাহস নাই!! 8)

আর বোহেমিয়ান দা’র “জেনেটিক্স” বিষয়ক লিজেন্ডারি লেখাটা পড়বার জন্যই থাক। আর সবশেষে সাবরিনা আপুর সচেতনতা জাগিয়ে ভেতরের মানুষটাকে,”ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষ”দের নিয়ে ভাবতে।
আমাদের ভেতরকার এই তারুণ্যকে ধাক্কা দিয়ে জাগানোর সময় হয়েছে। কত আজেবাজে কাজে কত টাকাই না খরচ করি, একটু যদি ভাবি নিজের সময়টা নিয়ে, এই যে স্ট্যাটাসটুকু পড়ছি কিংবা কমেন্ট করছি সেটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ আমার জীবনে। কিংবা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে করছি কিনা।

তারপর কখনো লোভনীয় ওই বার্গারটাতে কামড় বসাবার সময় মনে কি হবে না, এইটা কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত আমার জন্য কিংবা আমার পরিবারের জন্য?? :thinking:

কিংবা ক্লাস টা ফাঁকি দেবার আগে নিজেকেই কি শোধরাবো না, নাহ!! এই ক্লাসটা একটু করেই যাই।

কিংবা পরের বার বই কিনতে (যদি না থেকে থাকে ) কিংবা উপহার দিতে “একাত্তরের দিনগুলি” বইটা সবার উপরে রাখবো।

এই যে এতো কথা, এতো আশা, এতো স্বপ্ন, এতো অনুপ্রেরণা… সব এক মলাটে পাওয়া যাবে একটা বইয়ে…মাত্র ১০০ টাকায়।

তারুণ্যের জয়যাত্রায় তারুণ্যকে দেয়া এক চিলতে রোদ্দুর হোক এই বই… শুভকামনা সরবের সকলের জন্য, এরকম সাহসী উদ্যোগ বার বার আসুক। :penguinedance:

স্রোতস্বিনী সম্পর্কে

স্রোতস্বিনীর বয়ে চলা ঢেউয়ের মত হতে চাই,সৃষ্টিশীল স্রষ্টাদের মাঝে থাকতে ভাল লাগে,ভালবাসি মাকে,বাবাকে,আমার আদুরে বোনকে আর পাশে রাখি বই বন্ধুকে। হতে চাই অনেক কিছু,হতে পারি অল্পকিছু। চেষ্টাটাই বা কম কিসে!!!
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে সাহিত্য-এ এবং ট্যাগ হয়েছে , , , স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

6 Responses to “ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা”- সরব বুক রিভিউ

  1. শারমিন বলেছেনঃ

    ভালো লেগেছে 😀 :love:
    কিন্তু তোকে ধরে মাইর দেওয়া উচিৎ :haturi:
    তোর লেখা দেখা যায় না কেন?
    আর বইয়ের প্রতিটা লিখাই অনেক সুন্দর এবং অনেক কিছু শেখার আছে
    আমিও পড়েছি আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে :happy:

  2. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    আগে একটা ধন্যবাদ দেই!
    নিজেদের বই এর রিভিউ!
    😀

  3. অনাবিল বলেছেনঃ

    রিভিউ ভালো লেগেছে… আমি এখন পড়ছি বইটা 😀

বোহেমিয়ান শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।