ঝলসে যাওয়া বেগুনী ভালবাসা

একটা রিক্সা অনুসরন করে ছেলেটার বাদামী চোখ জোড়া।
রিক্সার এক কোন ঘেঁষে এক টুকরো বেগুনী রঙের দুরন্ত সঞ্চালনে
যেন তার পাঁজর এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায়।

পৌষের পরে আসা কোন এক দুপুরে
জনমানবশুণ্য পথের কোল ছুঁয়ে ছেলের বাতাস হতে ইচ্ছে করে খুব,
মেয়ের বেগুনী ওড়নায় লেপ্টে যাওয়ার আকুলতার গলাসম তৃষ্ণায়।

খুব অভিমান খেলে যায় বুকের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে, এক মুহূর্তে
টেনে ছিঁড়ে ফেলতে চায় সে চব্বিশটা শীতের যে কাঠিন্য
তার চোখে মুখে ধারন করে এসেছে।

খুব ইচ্ছে করে বলতে, “মেয়ে আজ খানিক দেরি করে যাও।
আজ আমার আকাশ বেগুনী হয়ে যাক,
চার চোখে দশ আঙুলে আজ ভরদুপুরে বাসর হয়ে যাক।
তোমার শীতল নাকের ডগায় আমার নিঃশ্বাস আছড়ে নতুন কোন গান ধরুক।”

হঠাত্‍ করে পরাজিত হতে ইচ্ছে করে ছেলের এক টুকরো বেগুনী রঙের কাছে।
বলা হয় না কিছু,
ছেলের নিঃশ্বাস মেয়ের প্রশ্বাসে পরিনতও হয় না,
রিক্সাটা কেবল এগিয়ে চলে, ঝাপসা হয়ে যায়।

পৌরুষের আঁচে এক প্রেমিকের ভালবাসা ঝলসে যায় পৌষের দুপুরে। ..

অবন্তিকা সম্পর্কে

প্রচণ্ড আলসে আমিটা স্বপ্ন দেখতে খুব ভালবাসি। পড়াশুনার বিষ্যয়বস্তু তড়িৎ প্রকৌশল, কিন্তু রক্তের মাঝে ইলেক্ট্রনের বদলে যে প্রবাহটা পাই সেটা হল স্বপ্ন আর ভালবাসার। ঘরকূণো, চুপচাপ এই আমি বৃষ্টি নামাতেও খুব ভালবাসি। আমার চার প্রকোষ্ঠের ১৩/৯ সেন্টিমিটার জায়গাতেও তার প্রভাব পরে বেশ দারুনভাবে। এতকিছুর পরও কিভাবে কিভাবে যেন মাঝে মাঝে শিমুল তুলা অথবা আকন্দের বীজের মত ভাসতে থাকি কারো এক চাহনির উষ্ণতায়, অথবা অবহেলার উল্টোপিঠের মত অবচেতনে নির্গত গাঢ় নিঃশ্বাসের তোড়ের আভাসে। ...
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে কবিতা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

30 Responses to ঝলসে যাওয়া বেগুনী ভালবাসা

  1. আজ আমার আকাশ বেগুনি হয়ে যাক……

    পুরোটুকু পড়ে তবু কেন জানি বারবার এখানেই চোখ আটকে গেলো……
    পাওয়া না পাওয়ার কষ্ট পাবার আগেই কেন জানি বিষণ্ণ হয়ে গেলো দুপুরটা……
    দুর্দান্ত লিখা! ভালো লেগেছে……

  2. অহনিশ বলেছেনঃ

    বেগুনী, কেবল আকাশ বেগুনী হলো…

    অসামান্য সুন্দর কবিতা।

  3. তুসিন বলেছেনঃ

    খুব ইচ্ছে করে বলতে, “মেয়ে আজ খানিক দেরি করে যাও।
    আজ আমার আকাশ বেগুনী হয়ে যাক,
    এই লাইনগুলো বেশি ভাল লেগেছে…..
    সুন্দর কবিতা। :love:

  4. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    পৌরুষের আঁচে এক প্রেমিকের ভালবাসা ঝলসে যায় পৌষের দুপুরে। >> এই লাইনটা এত অদ্ভুত কেন!

    এই একটা লাইন কয়েকবার করে পড়লাম। প্রতিবারই মনে হলো, আগেরবারের থেকেও আরো একটুখানি দুঃখ যেন জমা হয়েছে এবারে লাইনটায়! একটা ছেলের জন্য ‘পৌরুষ’ কী কঠিন এক স্কেল! এই একই স্কেলে কি সত্যিই ভালোবাসার সবটা মাপা যায়?

  5. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    অনেক দিন পর তোর কবিতা 😀

  6. হৃদয় বলেছেনঃ

    খুব ইচ্ছে করে বলতে, “মেয়ে আজ খানিক দেরি করে যাও।
    আজ আমার আকাশ বেগুনী হয়ে যাক,
    চার চোখে দশ আঙুলে আজ ভরদুপুরে বাসর হয়ে যাক।
    তোমার শীতল নাকের ডগায় আমার নিঃশ্বাস আছড়ে নতুন কোন গান ধরুক।”

    কি লিখছেন আপনি…….

    মাত্র ৩ মিনিট,কবিতা হলো শেষ,
    অনেকদিন থাকবে মনে এই কবিতার রেশ…… 🙂

    অসাধারণ :clappinghands:

  7. অবন্তিকা বলেছেনঃ

    🙂 🙂
    অনেক ধন্যবাদ!

    একটা টাইপো আছে ভাইয়া! ‘কি’ না, ‘কী’ হবে। 😛

  8. অনুজ বলেছেনঃ

    অসাধারণ… এত সুন্দর লেখা!
    শেষটুকু পড়ে যেন একটু কেমন জানিই হয়ে গেলাম!

  9. নূহা চৌধুরী বলেছেনঃ

    কন্যা
    ইহা কি লিখিলা ??
    🙁

  10. নূহা চৌধুরী বলেছেনঃ

    কবিতা অতি ভাল পেয়েছি ! :love:

  11. শুকপাখি বলেছেনঃ

    খুব ইচ্ছে করে বলতে, “মেয়ে আজ খানিক দেরি করে যাও।
    আজ আমার আকাশ বেগুনী হয়ে যাক,

    ওমাগো! কি কথা লিখেছেন!

    আপু খুবই উপাদেয় হয়েছে ।পড়ে ভালো লেগেছে।

  12. নিশম বলেছেনঃ

    দুর্দান্ত !!! কত্তোদিন পরে অহনীলীয় কবিতা !!!!

  13. স্রোতস্বিনী বলেছেনঃ

    “চার চোখে দশ আঙুলে আজ ভরদুপুরে বাসর হয়ে যাক।” :love:

অহনিশ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।