লড়েছি পাশাপাশি, জন্ম থেকে জন্মান্তরে

ভাই মাসুম খাঁ,
তোমার শরীরে আফগানী রক্ত, আর আমার রাজপুত-
সুবহে বাংগালার নদী সুষমায় কি অগ্নি স্ফুলিঙ্গ জাগিয়েছিলাম,
সবুজ শ্যামল খাল বিল ছেড়ে তর তর করে বয়ে চলা জঙ্গি ছিপগুলো
দু চোখ ভরে দেখতাম, এ সুখী মানুষগুলোর হাতের ছোয়ায়
কত যোদ্ধা গড়ে উঠেছে বারে বার নিষ্প্রাণ কাঠের তক্তা।
তুমি ডানে, আমি বাঁয়ে, সেই অপ্রতিরোধ্য আক্রমণ, ভুলে গেছো, ভুলেছো?
শেষে মান সিংয়ের ভাঙ্গা তলোয়ার নিয়ে তবেই না ক্ষান্ত হলাম।

 

মোহনলাল, হায় মোহনলাল। কত চেষ্টাই না করলে।

শকুনী মীর জাফর এমন করে নিজ জন্মভূমির পিঠে ছুরি বসাবে,

ঘূর্ণাক্ষরেও যদি টের পেতাম রে ভাই, তোমাকে ওখানে পাঠাতেম না আর।

এ সবুজের সন্তান হয়ে, বেনিয়াদের নৌকো ভরা এ দেশেরই জহরত,

কৃষকের ঘামে ভেজা খাজনা, কী করে ছাড়লো বলো ওরা?

 

ভাই গোলাম মাসুম!
নারিকেলবাড়িয়ার সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি ভুলি নি,ভুলিনি,

তিলে তিলে গড়ে উঠা সেই কৃষক মহাজাগরণের স্মৃতি।

আক্রমণের মুখে তোমরা সবাই আমাকে পালিয়ে যেতে বলেছিলে।

আমি পারি নাই গোলাম মাসুম। নিজ হাতে গড়া গণ মানুষের কেল্লা ছেড়ে

পালিয়ে কি করে খোদার কাছে মুখ দেখাতাম বলো?
সেই তো আমি একটু আগেই চললাম, আমার কেল্লার সাথে।

তুমি পিছে পিছে এসেছ শহীদ হয়ে।
দুই ভাই আমরা। আমরা ছাড়ি নাই হাত।
এরপরও যুগে যুগে এসেছি আমরা। লড়েছি, মরেছি। কখনো তুমি আগে, কখনো আমি।

তোমায় আমায়, ধর্মের ভাই, জাতের ভাই বলে,
আরেকদল দাঁতাল নেকড়ে চেপে বসেছিল ঘাড়ে।
তেইশ বছর রক্ত চুষেও যখন, তোমার
আমার সেই যোদ্ধা হৃদয়কে মারতে পারলো না,
তারা জাহাজ ভরা আনল গোলা বারূদ। তোমাকে, আমাকে, সবাইকে মাটিতে মিশিয়ে দিবে।
তুমি ভাই দেখেছিলে কি করে? কি করে জেনে গেলে?
যুগে যুগে কি করে খোঁজ পেয়ে যাও বেনিয়াদের ষড়যন্ত্রের?
ভাই, ড.জাফর, তুমিই জানিয়েছিলে সেই বিষনকশার কথা,
ঘুমন্ত বাঙ্গালীকে কাপুরুষের মত ছিঁড়ে খাওয়ার ক্ষুধার কথা,
শুয়োরের বাচ্চারা! সাহস থাকলে জেগে থাকতেই আসিস না কেন?
কিন্তু আমি তখন স্রেফ একজন ক্যাপ্টেন। কর্ণফুলীর কুল ঘেঁষে
এক মহাপ্রতিরোধের শুরুটাই কেবল দেখেছিলেম। আগ্রাবাদের
রাস্তায় রাস্তায় বিদ্রোহের রক্তজবা ফুটিয়েছিলাম।

আজও কর্ণফুলী বয়ে যায়, জানো ভাই?
আজও বহির্নোঙ্গরে আসতে চায় ‘সোয়াতে’র মত যমদূতের বাহন।
আজও সীমানায় সীমানায় আমার কৃষক বন্ধুরা হাহাকার করে। লাশ হয়।
জানো ভাই। আমি দাঁতে দাঁত চেপে আছি।

কবে তুমি ইমেইলে ছড়িয়ে দেবে সেই মহাবিদ্রোহের খবর?
কবে মোবাইলের ইথারে ইথারে ভাসিয়ে দেবে সেই সুর?
আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান, বদলে চাই নি প্রতিদান”

জ্ঞানচোর সম্পর্কে

সেই কবে জেগেছিলাম, বিলিয়ন বর্ষী নক্ষত্রের আলোয়, ডিরাকের সমুদ্রের পাড়ে। অবাক কৌতুহল নিয়ে গেলাম বহুদুর। তারপরও সহসা বুঝি, নিজে আমি,নিছক পড়ে থাকা ঝিনুকের খোলসে সোনালী অনুপাত খুঁজে বেড়াই। পড়ে থাকো তুমি, মহা সমুদ্র।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে অনুপ্রেরণা, ইতিবাচক, ইতিহাস, কবিতা-এ এবং ট্যাগ হয়েছে , , , , , , , স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

1 Response to লড়েছি পাশাপাশি, জন্ম থেকে জন্মান্তরে

  1. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    আমরা কত সহজে সব ভুলে যাই!
    আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, তাঁরা কি এসে আমাদের কাছে আক্ষেপ করে যান কখনো? জানি, এই চিন্তার কোন ভিত্তি নেই। তবুও মাঝে মাঝে কেন যে মনে হয়!
    কবিতাটা পড়ে মনে হচ্ছে, তারা কি কখনো আক্ষেপ করে গেছেন চুপিচুপি-

    “আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান, বদলে চাই নি প্রতিদান”

    হয়তো আমরা কেউ শুনতে পাই নি!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।