উইকির সংজ্ঞায় ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিষয়ে লরেন্স বৃটের ১৪ টি পয়েন্ট

ফ্যাসিবাদ শব্দটা প্রায়ই শুনছি আজকাল। এ বিষয়ে অনেক পরস্পর বিরোধী মতামত নজরে আসছে। তাই এই অনুবাদ দিচ্ছি। এর সাথে আরো কিছু কেউ যোগ করতে চাইলে মন্তব্যের মাধ্যমে করতে পারেন।

ফ্যাসিবাদের সঠিক প্রকৃতি সম্পর্কে ইতিহাসবিদ, রাজনীতিবিদ ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অনেক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। ফ্যাসিবাদের প্রতিটি ফর্ম বা আকার স্বতন্ত্র, তাই এর বেশির ভাগ সংজ্ঞাই হয় খুব ব্যাপক আর না হয় বেশি সংকীর্ণ। ১৯৯১ সালে ব্রিটিশ রাজনীতি-তত্ত্ববিদ রজার গ্রিফিন তাঁর বই ‘দ্যা নেচার অব ফ্যাসিজম’-এ প্রথম পলিনজেনেটিক উগ্র জাতীয়তাবাদ (Palingenetic Ultranationalism) তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন ফ্যাসিবাদের ধারণা গড়ে উঠেছে একটা মিথ অর্থাৎ প্রবাদ বা কল্পনাকে আশ্রয় করে–যার মূলে রয়েছে উগ্র জাতীয়তাবাদের পুনর্জন্ম বা পুনর্জাগরণ।

গ্রিফিন জানিয়েছেন এই ভাবাদর্শের তিনটি উপাদান রয়েছে:

১। পুনর্জন্ম বা পুনর্জাগরণের প্রবাদ

২। জনপ্রিয় উগ্র-জাতীয়তাবাদ

৩। নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবঃক্ষয়ের কল্পনা।

এক.

উইকিপিডিয়ায় ফ্যাসিবাদের ব্যাখ্যা করা হয়েছে এভাবে –

ফ্যাসিবাদ মৌলিক কর্তৃত্ববাদী জাতীয়তাবাদেরই একটি রূপ। ফ্যাসিবাদীদের লক্ষ্য টোটালিটারিয়ান সরকার মারফত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের জনসাধারণকে সমন্বিত করা। এ কাজের জন্য এরা নির্ভর করে এরকম একটি দল বা বাহিনীর উপর, যে বাহিনী বিপ্লব শুরু করে দেশকে ফ্যাসিবাদী আদর্শে সংগঠিত করার ব্যপারে অগ্রণী ভূমিকা নেবে। ফ্যাসিবাদী মতে রাজনৈতিক সহিংসতা, যুদ্ধ এবং সাম্রাজ্যবাদ একটি দেশ বা জাতির নবজীবন, উদ্যম ও প্রাণবন্ততা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায়। এই মতবাদ অনুসারে স্বঘোষিত উৎকৃষ্ট রাষ্ট্র বা জাতির উচিৎ তাদের বিস্তার অথবা অর্থনৈতিক উন্নতির প্রয়জনে দুর্বল ও নিকৃষ্ট রাষ্ট্র বা জাতিকে স্থানচ্যুত করা।

ফ্যাসিবাদী মতাদর্শ অব্যাহতভাবে রাষ্ট্রের প্রাধান্য দাবি করে। ইতালির বেনিতো মুসোলিনি বা জার্মানির অ্যাডলফ হিটলারের মতন শক্তিমান ও প্রতিভাবান নেতারা রাষ্ট্রকে মূর্ত করেই তর্কাতীত ক্ষমতা দাবি করেছেন। মার্ক্সবাদী সমাজতন্ত্রের শ্রেণীসংঘাত বিষয়ক তত্ত্ব ও পরিভাষা ধার করে ফ্যাসিবাদ তা ব্যবহার করেছে রাষ্ট্রীয় ও জাতিগত সংঘাতের ক্ষেত্রে, যা ফ্যাসিবাদী মতাদর্শে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভিতরের শ্রেণী-বিভেদ দূর করে জাতীয় সংহতির অর্জনের দিকে বেশি মনোযোগী তারা। ফ্যাসিবাদ মিশ্র-অর্থনীতির অধিবক্তা, যার মূল উদ্দেশ্য সংরক্ষণনীতি ও হস্তক্ষেপবাদী অর্থনৈতিক পলিসির মাধ্যমে জাতীয় স্বয়ং-সম্পূর্ণতা ও স্বনির্ভরতা অর্জন করা। ফ্যাসিবাদ সমাজতন্ত্র ও কমিউনিস্ট মতাদর্শের বিরোধিতা করলেও পুঁজিবাদের কিছু বিষয় সম্পর্কেও সমালোচনা করে। মার্ক্সবাদী সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদের মাঝামাঝি এক জায়গায় রয়েছে ফ্যাসিবাদ, যাকে অনেক সময় ‘তৃতীয় অবস্থান’ও বলা হয়। ফ্যাসিবাদী আন্দোলন এক যুদ্ধংদেহী উৎকট ধরনের জাতীয়তাবাদ বা শভেনিজম ও বিদেশাতংকের (xenophobia) উপর জোর দেয়, যার সাথে প্রায়ই সম্পৃক্ত হয় নিজেদের সম্প্রদায় বা সংস্কৃতির ব্যপারে অতি মাত্রায় দাম্ভিক মনোভাব। সাধারণত ফ্যাসিবাদী দেশগুলো সামরিকায়নের পক্ষপাতী হয়, তারা সেনাবাহিনীর কাঠিন্য ও পুণ্যের প্রতি আস্থাশীল। তাই এসব দেশের জনজীবন ও সেনাবাহিনীর ধরনে সংগঠিত হয় – উর্দি, কুচকাওয়াজ, স্মৃতিস্তম্ভ ইত্যাদির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

জাতীয় শ্রমিক আন্দোলনে (National Syndicalism) প্রভাবিত হয়ে প্রথম ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের উত্থান হয়েছিল ইতালিতে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে। বামপন্থী রাজনীতির কিছু উপাদান ও সাধারণভাবে ডানপন্থী অবস্থানের মিশ্রণে এ আন্দোলন ছিল সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম, উদারপন্থী-গণতন্ত্র এবং কিছু ক্ষেত্রে ডানপন্থী রক্ষণশীলতা বিরোধী। যদিও সাধারণত ফ্যাসিবাদকে ডানপন্থী-রাজনীতি হিসাবে ধরা হয়ে থাকে, ফ্যাসিবাদীদের ও কিছু ভাষ্যকারের মতানুসারে এই বিবরণ অপর্যাপ্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে কোন রাজনৈতিক দলই খোলাখুলিভাবে নিজেদের ফ্যাসিবাদী বলে দাবি করতে চায় না। এখন সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলের প্রতি ঘৃণা বা রাগ প্রকাশের জন্য এই শব্দ ব্যবহার করে। বর্তমান চূড়ান্ত-ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিংশ-শতাব্দীর ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের মিল বোঝানোর জন্য মাঝে মাঝে ‘নব্য-ফ্যাসিবাদ’ বা ‘উত্তর-ফ্যাসিবাদ’ ইত্যাদি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়।

দুই.

মার্কিন চিন্তাবিদ লরেন্স ব্রিট জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনি, স্পেনের ফ্রাংকো, ইন্দোনেশিয়ার সুহার্তো এবং লাতিন আমেরিকার কিছু ফ্যাসিবাদী শাসনামল নিয়ে গবেষণার পরে ফ্যাসিবাদের চৌদ্দটি লক্ষণ শনাক্ত করেছিলেন। ২০০৩ সালে ‘ফ্রি এনকোয়ারি’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল তাঁর লেখা। আমি বাংলা অনুবাদ করলাম এখানে।

১। পরাক্রমশালী ও চলমান জাতীয়তাবাদ – ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দেশভক্তিমূলক আদর্শ, শ্লোগান, গান, প্রতীক এবং অন্যান্য সাজসজ্জা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় অবিরাম ভাবে। সবর্ত্র জাতীয় পতাকা চোখে পড়ে, পরিধেয় কাপড় এবং বিভিন্ন প্রদর্শনীতেও ধারণ করা হয় পতাকার প্রতীক।

২। মানবাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা বা ঘৃণার প্রকাশ – শত্রুর ভয়ে এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনে ফ্যাসিবাদী সমাজব্যবস্থায় জনসাধারণকে বিশ্বাস করানো সম্ভব হয় যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘প্রয়োজনের’ খাতিরে মানবাধিকার উপেক্ষা করা যায়। এ সময় মানুষের প্রবণতা থাকে দেখেও না দেখা এমন কি অত্যাচার, ফাঁসি, হত্যা, বন্দিদের লম্বা কারাদণ্ড ইত্যাদির প্রতি সমর্থন থাকে তাদের।

৩। শত্রু/বলির পাঁঠা শনাক্ত করা ঐক্যবদ্ধতার একটি কারণ হয়ে ওঠে – কোন এক জাতি বা সম্প্রদায়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, উদারপন্থী, কমিউনিস্ট, সমাজতন্ত্রী, সন্ত্রাসবাদী ইত্যাদি যে কোন দলকে সার্বজনীন শত্রু অথবা হুমকি স্বরূপ মনে করে তাকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে মানুষকে উন্মত্ত দেশপ্রেমী একতায় উদ্বুদ্ধ করা হয়।

৪। সামরিক আধিপত্য – দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্যোগ ও সমস্যা অবহেলা করে হলেও সামরিক বাহিনীকে সরকারী তহবিল থেকে অনুপাতহীন বড় অংশটাই দেয়া হয়। সেনাদল ও সামরিক বাহিনীকে মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হয়।

৫। উৎকট লিঙ্গবৈষম্য – ফ্যাসিবাদী দেশগুলোতে প্রায় একচেটিয়া ভাবেই সরকার হয় পুরুষ-আধিপত্যাধীন। ফ্যাসিবাদী সমাজ-ব্যবস্থায় নারী-পুরুষের প্রথাগত ভূমিকা আরো অনমনীয়ভাবে পালিত হয়। বিবাহ-বিচ্ছেদ, গর্ভপাত বা সমকামিতা চেপে রাখা হয় আর রাষ্ট্রকে উপস্থাপন করা হয় পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত অভিভাবক হিসাবে।

৬। নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম – মাঝে মাঝে গণমাধ্যম হয় সরাসরি সরকার নিয়ন্ত্রিত। আবার কখনো পরোক্ষভাবে সরকারী আইন-কানুনের মাধ্যমে অথবা গণমাধ্যমের সরকারপন্থী নির্বাহকদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষ করে যুদ্ধের সময়ে সেন্সরশিপ খুব প্রচলিত।

৭। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে প্রচণ্ড ঔৎসুক্য – জনসাধারণকে ভয় দেখিয়ে আগ্রহী ও উত্তেজিত রাখা হয়।

৮। ধর্ম ও রাষ্ট্র বিজরিত থাকে – ফ্যাসিবাদী দেশগুলোতে সরকার সাধারণত সে দেশের প্রধান ধর্মটিকে ব্যবহার করে মানুষের মতামতের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ধর্মীয় পরিভাষা ও অলংকরণের বহুল ব্যবহার দেখা যায়, এমনকি যখন ধর্মের মুখ্য মতবাদগুলো সরকারের কর্মকাণ্ডের একদম বিপরীতেই থাকে।

৯। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার প্রতিরক্ষা – ফ্যাসীবাদে দেশে অনেক সময়েই বনেদি শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোই সরকারকে ক্ষমতায় আনে। এর ফলে সরকার ও এসব প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক লেনদেনের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

১০। শ্রমিকদের ক্ষমতা রোধ – যেহেতু শ্রমিকদের সাংগঠনিক শক্তি ফ্যাসিবাদী সরকারের জন্য একমাত্র হুমকি স্বরূপ দেখা দিতে পারে, শ্রমিক সঙ্ঘ হয় সম্পূর্নভাবে নির্মূল করা হয় আর নাহয় গুরুতরভাবে দমন করা হয়।

১১। বুদ্ধিজীবীতা ও শিল্পের প্রতি অবজ্ঞা – ফ্যাসিবাদী দেশগুলো প্রায় সময়েই উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষায়তনের প্রতি খোলাখুলি বৈরীতা সহ্য করে এবং সমর্থন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের গ্রেফতার করা বা তাঁদের বক্তব্য সেন্সর করা খুব বিরল থাকে না। শিল্প ও সাহিত্যাঙ্গনে স্বাধীনভাবে কথা বলতে গেলে সরাসরি আক্রমণ করা হয়।

১২। অপরাধ ও শাস্তির বিষয়ে মাত্রাহীন আগ্রহ – ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় পুলিশকে আইন প্রয়োগের নামে প্রায় সীমাহীন ক্ষমতা দেয়া হয়। দেশপ্রেমের নামে পুলিশি নির্যাতন দেখেও না দেখা এবং অনেক নাগরিক অধিকার ছেড়ে দিতেও রাজি থাকে জনসাধারণ। ফ্যাসিবাদী দেশে প্রায় সময়েই একটি জাতীয় পুলিশ বাহিনী থাকে যার ক্ষমতা অপরিসীম।

১৩। অবাধ স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি – ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে প্রায় সবসময়েই কর্তৃত্ব করে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দল যারা একে অপরকে সরকারের বিভিন্ন প্রভাব ও ক্ষমতাশালী আসনে নিয়োগ দেয় এবং যে কোন দায় বা ঝুঁকি থেকে একে অপরকে রক্ষা করে। ফ্যাসিবাদী দেশে সরকারী নেতা-নেত্রীদের পক্ষে জাতীয় ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করা অথবা সরাসরি চুরি করা মোটেই অবাক হবার মত কিছু না।

১৪। নির্বাচনে কারচুপি – মাঝে-মাঝে ফ্যাসিবাদী দেশে নির্বাচন মানেই সম্পূর্ণ ধোঁকাবাজি। আর অন্য সময় ঘটে কারচুপি, বিপক্ষ দলের প্রার্থিদের নামে কুৎসা রটানো এমনকি তাদের হত্যা করার মতন ঘটনা। ভোটের সংখ্যা নিয়ন্ত্রনের জন্য আইন-প্রণয়ন, রাজনৈতিক বিভাগের/জেলার সীমানা নির্ধারণ এবং গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে তারা। ফ্যাসিবাদী দেশগুলো সাধারণত দেশের বিচারব্যবস্থারও ব্যবহার করে নির্বাচনে সুবিধা আদায়ের জন্য।

সূত্রঃ

http://en.wikipedia.org/wiki/Fascism

http://occupynewhampshire.org/2012/02/20/fascism-anyone-the-14-defining-characteristics-of-fascism-by-dr-lawrence-britt/

এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

2 Responses to উইকির সংজ্ঞায় ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিষয়ে লরেন্স বৃটের ১৪ টি পয়েন্ট

  1. asdasdasd বলেছেনঃ

    উদাহরণ থাকলে আরও সুবিধা হত, যেমন
    শত্রু/বলির পাঁঠা শনাক্ত করা ঐক্যবদ্ধতার একটি কারণ হয়ে ওঠে – ২য় বিশ্বযুদ্ধে যেমন ইহুদীদেরকে target করা হয়েছিল।

    ধন্যবাদ সাহসী উচ্চারণের জন্য।
    আমাদের দেশে একজন অরুন্ধতীর দারুণ অভাব বোধ করি। এই রকম দুর্বল গণতন্ত্রে অরুন্ধতীরা অবশ্য টিকেও থাকতে পারবে না।

    তথ্য তত্ত্বের আলোকে আলোচনা ছাড়াই কথা উচ্চারণ করা যায় খুব সহজে- এমন আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল স্পেইস!

  2. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    কিছু কিছু লেখা বক্স আকারে দেখাচ্ছে। বোধহয় আমার ব্রাউজারে সমস্যা। আবার পড়ে ডিটেইল মন্তব্য দিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।