কখনো কখনো রাস্তায় খুউব দার্শনিক হয়ে যাই

আজকে রিকশায় করে পান্থপথে বিয়ে খেতে যাচ্ছিলাম, তখন গ্রিনরোড-পান্থপথের ক্রসিং মোড়ে দাঁড়ায় আছি ।

দেখলাম  একজন যুবক,  (আমাদের চেয়ে ৫-১০ বছর বড় হবে হয়ত বয়সে), উশকু খুসকো চেহারা আর ছেড়াফাটা জামা গায়ে, হাতে সাফারির প্যাকেট নিয়ে ঘুরছে আর বিক্রির চেষ্টা করছে ।  আমি ছিলাম ১-২  মিনিটের মতো ওইখানে, ততক্ষণে কারো কাছে বিক্রি করতে পারে নাই । আর আমি জুলুজুলু লোভাতুর চোখে Safari এর দিকে তাকায় আছি । লোকটা মনে হয় বুঝলো যে আমার পছন্দ জিনিসটা; আমার কাছে আসলো…

কিনবো কিনা জানতে চাইলো, বললাম – নারে ভাই বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছি এখন নিবো না । খুব করুণ করুণ চোখে বললো, যে “নেন না, বাসার ছোট ভাই বোন কে দিবেন” । বললাম যে, নিতাম যদি আমার সাথে ব্যাগ থাকতো, নাহলে তো এখন নিয়ে ক্যারি করা সমস্যা । প্যাকেট করে দিতে চাইলো… আর জানালো যে এইটা বিক্রি করে যে তার সংসার চালায়, আমি নিলে সে খুব “হ্যাপ্পী” হবে । আবারো বুঝিয়ে বললাম যে, না ভাই প্যাকেট দিলেও তো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরবো, নিতে পারবো না 🙁

বেচারা করুন চোখটা নিয়ে অন্য জায়গায় চলে গেলো ।

লোকটার হাবভাব দেখে মনে হলো, শিক্ষিত + হয়তো কখনো মোটামোটি ভালো অবস্থাতেও ছিল – কিন্তু জীবনের নিঠুর চক্রে আজ পথে পথে এভাবে ঘুরছে ।

আমি আর যে-ই এই পোস্টটা পড়ছে সেই অনেক অনেক ভালো আছে । আমরা সবাইই আসলে অনেক ভাগ্যবান । এজন্য আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শোকরানা আদায় করা উচিৎ (যাদের অন্যরকম বিশ্বাস, তাদেরও ধন্যবাদ দেয়া উচিৎ কাওকে বা অনেককে) ।

বছরের শেষ দিনে, সবাই নিজ নিজ অবস্থা নিয়ে খুশি ও আনন্দিত বোধ করুক এরকমই প্রত্যাশা । হালখাতার আয়োজন না হোক… পার্সোনাল অ্যাকাউন্টের হিসাব নিকাশ সেরে ঐতিহ্যটা ধরে রাখুক সবাই । সবারো আরো উন্নতির প্রত্যাশায় শুভ হালখাতা, শুভরাত্রি ও আগাম (যখন এটা পড়তেছেন তখন ভোর হয়ে গেলে আগাম বাদ) “শুভ নববর্ষ”

প্রকৃষ্টপুত্র সাধ সম্পর্কে

আমি একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী ও প্রোগ্রামার; শখের বশে ছবি আঁকা, বই পড়া, আড্ডাবাজি এসব কাজকর্মের পাশাপাশি কখনো সখনো লিখালিখিও করে থাকি। সাধুবচনে আমি সাধুভাষায় লিখে থাকি আর আমার বিভিন্ন অপসাহিত্যের স্থান হয় সুলল সংগ্রহে । আমার নিয়মিত ব্লগঃ ইনসাইড দ্য ইনসাইট ॥ সরবে মাঝে মাঝে কিছু লেখা দেয়ার ইচ্ছা আছে — মন্তব্য সমাদৃত :)
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে চিন্তাভাবনা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

11 Responses to কখনো কখনো রাস্তায় খুউব দার্শনিক হয়ে যাই

  1. জ্ঞানচোর বলেছেনঃ

    বছরের শেষ দিনে, সবাই নিজ নিজ অবস্থা নিয়ে খুশি ও আনন্দিত বোধ করুক এরকমই প্রত্যাশা । হালখাতার আয়োজন না হোক… পার্সোনাল অ্যাকাউন্টের হিসাব নিকাশ সেরে ঐতিহ্যটা ধরে রাখুক সবাই । সবারো আরো উন্নতির প্রত্যাশায় শুভ হালখাতা, শুভরাত্রি ও আগাম (যখন এটা পড়তেছেন তখন ভোর হয়ে গেলে আগাম বাদ) “শুভ নববর্ষ”

    হুমম, হালখাতাটা দেখাই যায় না।

  2. মাধবীলতা বলেছেনঃ

    আসলেই কয়জন নিজের অবস্থাটা এভাবে চিন্তা করে দেখে ! আনন্দফূর্তির মাঝে নতুন বছরে নিজের সাথে কিছু বোঝাপড়ার দরকার আসলেই…

  3. Mental Math বলেছেনঃ

    শুধু বছরের শেষ দিনে নয়, প্রতিদিনই সবাই নিজ নিজ অবস্থা নিয়ে খুশি ও আনন্দিত বোধ করুক এরকমই প্রত্যাশা।

  4. অনাবিল বলেছেনঃ

    কিছু দিন আগে একটা নোট পড়েছিলাম–কৃতজ্জতার শুরু আসলে কোথায় হওয়া উচিত…… সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারা… এই পৃথিবী আলো-বাতাস উপভোগ করার সুযোগ যে পাচ্ছি, এর জন্য ধন্যবাদার্হ হই কি!

  5. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    এই রকম দার্শনিক হওয়া ভালো।

বোহেমিয়ান শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।