সাভারের সমাধানে ড. ইউনূস প্রস্তাবনা ও ব্যক্তিগত তারছিড়া চিন্তা

ড.ইউনূস হচ্ছেন একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের সেলিব্রিটি যার সাথে আমি একবার হাত মিলাইতে পারসিলাম। সালাম দিতে পারসিলাম। আমি উনারে বিশেষ পছন্দ করি। ক্ষনে ক্ষনে ফেবুসমাজ নানান বিষয়ে তার অভিমত জানতে চায় দেইখা আমি খুব বিরক্ত হই। সবাই সবকিছু নিয়া বক্তব্য দেয় না আমার মতো। কিছু লোক হচ্ছে কাজের লোক। উনি হইলেন সেই কিসিমের।

সম্প্রতি উনার যে সংস্কার প্রস্তাব দেখলাম গার্মেন্টস সেক্টর নিয়া সেইটা বেশ চিন্তার দাবিদার। সরকারী ও বিরোধীদল অনেক দান খয়রাত আর চোক্ষের পানি ফেলাইলেও ব্যবসায়ী বিজিএমইএ রে কানে ধইরা উঠবস করানোর সামর্থ্য তাগো নাই।

ইউনূস সাহেবের একটা প্রস্তাব এরকম যে, ৫ডলারের জামা কিনা ৩৫ডলারে বিক্রি হয় বিদেশে। পাচ ডলারের মধ্যে তুলা চাষী, স্পিনিং মিল, গার্মেন্টস কর্মী, ট্রান্সপোর্ট সব আটানো হয়। এখন ‘৩৫ ডলারের জামাটিকে যদি ৩৫ ডলার ৫০ সেন্টে কিনতে বলি, তাতে ক্রেতা কি খুবই বিচলিত বোধ করবে?’

উনার এই প্রস্তাবে কিছুটা বিস্মিত না হয়ে পারতেছি না। ৫ডলারের জিনিস ৭গুন বেশি দাম দিয়া যে কিনতেছে, তার পকেট থিকা কেন আরো ৫০সেন্ট বাইর করতেছেন? যেই বিগ বাস্কেট রিটেইলার ৭গুন লাভ করতেছে তার কাছ থিকাই নেন। ৫০সেন্ট কম লাভের জন্য সে মারা যাবে না। কিন্তু ৫০সেন্ট বেশি উৎপাদন ব্যয় হইলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত সবার জীবনের মান বাড়বে।

আরেকটা ধান্ধাবাজ (সরি নোবেল লরিয়েট) প্রস্তাব দেখলাম “আপনার জামায় আমরা একটা ট্যাগ লাগিয়ে দেব: এতে লেখা থাকবে From the Happy Workers of Bangladesh, with Pleasure. Workers well being being Managed by Grameen অথবা BRAC”
এই ট্যাগের দাম যদি আপনারা দিয়াও দেন, এরপরেও বলতে হচ্ছে, নিজেগো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনটা দেওনের কায়দাটা ভালো লাগলো না। আপনের ট্যাগ দেইখা ক্রেতা সমাজ আশ্বস্ত হইলেও আপনের ট্যাগের বিজ্ঞাপনের মুল্যমান মিটাইবেন তা আমারে আশ্বস্ত করলো না।

সিএনএনে প্রধানমন্ত্রীরে হেনস্তা হওনের ৯ দিন আগে বলসিলাম বিশাল প্রেসার ওয়েভ আসবে বিদেশ থিকা। বায়ার, বিদেশি লেবার ড়াইটস গ্রুপ, হিউম্যান ড়াইটস গ্রুপ। এই লিস্টে আরেকজন যুক্ত হইসে- পোপ ফ্রান্সিস।

আমার প্রস্তাব খুবই পরিস্কারঃ
১. আপনার দূর্বলতাকে পুঁজি করেনঃ
আমাদের দূর্বলতা আমাদের খারাপ কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গরীব শ্রমিক। এইটা ক্যাশ কইরা সিম্পেথি ক্রিয়েট করতে হবে বিদেশে। যেন বাংলাদেশী প্রডাক্ট কিনে ডোনেশন করার আনন্দ পায়। হোয়াইটদের (সরি ফর মাই ড়েসিস্ট কমেন্ট, বাট আই এম ব্লাডি এশিয়ান ড়েসিস্ট ) এই আনন্দ দেয়ার বিশাল সুবিধা আছে। তাইলে বিগ-বাস্কেট রিটেইলাররা বাংলাদেশ থিকা চইলা যাবে না। এই কাজটা করতে যা করতে হবে

১ক। পয়লা কিছু লবিং ফার্ম,এডভার্টাইজিং এজেন্সী ভাড়া করতে হবে… পাবলিক রিলেশনের অলিগলি ওরা আমার আপনার চেয়ে ভালো জানে। এরা জিরোরে হিরো আর হিরোরে অনন্ত জলীল বানায়া দিতে পারে। সেজন্য পয়সা ঢালতে হবে। এদের কাজ হবে বিদেশি সবপত্রিকায় ওয়ার্কার সিম্পেথেটিক লাইন পুশ করা। গত কয়েকহপ্তায় অনেক টক শো, পত্রিকা কলাম হইসে বিদেশি মিডিয়াতে। আমার পেইজে তার শিরোনামগুলা রোজ শেয়ার দিসি। এইটা ব্যবহার করতে হবে। রেশমা, শাহানা, আজিজ ভাই, বাবু–এদের নিয়া স্টোরি করা। পিপল লাভস ইট। দরকার পড়লে কিছু ভাড়াইট্টা ফিল্ম মেকার দিয়া ডকুমেন্ট্রী করা। একদম সফট করে দিতে হবে। ১২৮ আওয়ার মার্কা।বাংলাদেশের ৮০% এক্সপোর্ট আর্নার গার্মেন্টস ইন্ডাস্টি কি কয়েক কোটি টাকা ঢালতে পারবে না? বিদেশি কম্পানির দয়া ভিক্ষার চেয়ে এইটা স্ট্রাটেজিকালি ভালো মুভ মনে করি।

১খ। ড.ইউনূস সাহেবের প্রস্তাবমাফিক শুধু চিঠি লিখা বিদেশীদের বুঝানো যাবে না যে আমরা গার্মেন্টস সেক্টর রিফরম করতেছি। এইটার জন্য নাটক দরকার, সিনেমাটিক করা দরকার। কারণ রাজনৈতিক সব দলের মধ্যেই গার্মেন্টস মালিকরা আছেন আর আমরা একটা কোরাপ্ট কান্ট্রি এইটা সবাই জানে। যা করতে হবে

বিশাল একটা শ্রমিক র‍্যালি করতে হবে। এই রেলি সোজা গিয়া বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও করবে, কইরা ভাইঙ্গা ফেলবে। বিদেশি মিডিয়াতে লাইভ টেলিকাস্ট হবে। আগে থিকাই মালিকপক্ষকে জানায়ে রাখা হবে। পুলিশ স্ট্যান্ডবাই থাকবে। বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার এই দৃশ্য না দেখলে বিদেশিরা বুঝবে না, আসলেই নুতুন কিছু হইতে যাচ্ছে। ভবণটা এমনিতেও অবৈধ। এই ছোট্ট কাফফারা দিতেই হবে হাজার হাজার লাশের জন্য। এরপরে ডাকতে হবে মিটিং। নাটকের শেষাংশে শ্রমিক ইউনিয়ন করার অনুমতি আর নুন্যতম মজুরী বৃদ্ধি করা হবে।

পরেরদিন সব পুরান মামলা রিভাইভ করা হবে। রানা-তাজ্রীন-স্পেট্রাম—সব। ১০-১২জন মালিকরে কাফফারা দিলে ক্ষতি দেখি না। ফাঁসী না দেন, অন্তত বিচারের মুখোমুখি করেন। কিছু হচ্ছে এইটা যেন বুঝা যায় (হারামজাদাগুলারে গুলি করতে পারলে ভালো হইত। কিন্তু সভ্যদেশ হওয়ার অনেক কষ্টগুলার একটা, হারামজাদা গুলি করা যায় না)।

এইটা গেল রিফর্ম হচ্ছে এইটা বুঝানো।

১গ। পোপ ফ্রান্সিস আর্জেন্টিনার লোক। তারে গোল দেয়া একটু কঠিন। দরকার পরলে পায়ে পইড়া, শ্রমিকদের স্বার্থে, গরীবের কথা চিন্তা কইরা ‘ক্রেতদাসতুল্য’ কথাটা নালিফাই করতে, কিছু বক্তব্য দিতে বলা। মানসম্মান পরে। আগে মানুষ বাঁচাইতে হবে। ব্যবসা কইমা গেলে, দেশের বারোটা বাজবে, আর শ্রমিকদের মরণ। মালিকরা কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়া অন্য ব্যবসা কইরা সার্ভাইভ করতে পারবে।

২। সবচেয়ে ঘাগু হইলো বিদেশি রিটেইলাররাঃ এদের কাছ থিকা ৫০সেন্ট বাইর করতে বিদেশি প্রেসার, বায়ারদের প্রেসার বাড়াইতে হবে। সাভার ট্রাজেডির জন্য ফান্ড রেইজ করতে ৫ডলারের গেঞ্জি বিতরন করা যায়। মানে ৫ডলারে গেঞ্জি বিক্রি করে বিদেশিদের বুঝানো, এই গেঞ্জি আসলে ৫ডলারের স্বস্তা। এইটার প্রফিটটাই ডোনেশন। গেঞ্জিতে লেখা থাকবে, আই লাভ মেড ইন বাংলাদেশ। পে ৫০সেন্ট ফ্রম ইউর প্রফিট।–ইত্যাদি পাঞ্চলাইন ডিজাইন কইরা ছাড়া যাইতে পারে। এরচেয়ে ভালো লাইন অনেকেই দিতে পারবেন।

৩। সরকারকে একটা ইপিজেড করে ঢাকা থিকা সহস্রাধিক গার্মেন্টস সরাইতে হবে। এইজন্য ইপিজেডে মুভ করার ফান্ড সরকারকেই দিতে হবে। এইটা ইনভেস্টমেন্ট। পরে উঠে আসবে। কারণ ঢাকার একজন শ্রমিক যে কষ্ট করে থাকে, আর যে ক্ষোভ নিয়ে রাস্তার গাড়ি ভাঙে- সেই ক্ষতি কম্পেন্সেট হয়ে যাবে। ঢাকার জনস্যংখ্যাও কইমা যাবে।

আরো কিছু প্রস্তাব আছে। আজকে লেখতে ইচ্ছা করতেছে না। ড.ইউনূস সাহেবকে ধন্যবাদ লেখার জন্য। উনারে লবিং করতে নামায়ে দিলে ফাটায়ে ফেলতে পারবেন। সরকার উনার পিছে টিকটিকি লাগানোর তীব্র নিন্দা করতেছি। মখা উনার কাছে গিয়া মাফ চাইলে লাইনে আসতে পারে। কিন্তু মখা ইজ মখা। আনপ্যারালাল পাগল। হাহা।

রেশমা উদ্ধার হবার পরে অনেক আনন্দ নিয়ে লেখলাম। অনেকদিন এখন খুশিতে কাঁদি নাই। পরে ছবি যুক্ত করতে গিয়া গুগল ইমেজে savar লিখা সার্চ দিলাম। অসংখ্য লাশের ছবি। আজকাল লাশ আমাদের বিচলিত করে না। আমি একটা জ্যান্ত মেয়ের ছবি দেখে বিচলিত হইলাম- ‘সন্ধান চাই’ নিয়ে দাড়ায়ে আছে রানা প্লাজার সামনে। রেশমা ফিরসে, কিন্তু এই মেয়ের স্বামী কি ফিরসে? তার চোখে দুঃক্ষের পানি কি শুকাবে কোন দিন?

আহারে! আহারে!

বাঙ্গাল সম্পর্কে

আমি একজন ঘবেষক..চিন্তা করাই আমার কাজ...চিন্তিত ভাই ব্রাদারদের আমার পেজে স্বাগতম। [email protected] https://www.facebook.com/bangal
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে উদ্যোগ, বিবিধ-এ এবং ট্যাগ হয়েছে স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

6 Responses to সাভারের সমাধানে ড. ইউনূস প্রস্তাবনা ও ব্যক্তিগত তারছিড়া চিন্তা

  1. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    নাটকের আইডিয়া ভালো হইলেও রিস্ক আছে। অঘটন ঘইটা যাইতে পারে! আর মালিকরা নিজেদের উপর কোন রিস্ক নেবে না!

    তবে লবিং + এড ফার্ম এদের নেয়া জরুরি

    আমি বুঝি না এত লাভের কী দরকার? সামান্য বাড়ালেও কি ক্ষতি হয়?

  2. মাধবীলতা বলেছেনঃ

    প্রস্তাবনাগুলো তো খারাপ না তবে এইসব তারা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন কতখানি তাই হল প্রশ্ন। ছবিটা দেখে খুব কষ্ট লাগল। এমন আরও কত মানুষ রয়েছে !!

    একটা অফটপিক কথা, লেখার ভাষাটা আরও শুদ্ধ চলিত রীতি মেনে চললে আরও ভালো হত কিন্তু 🙂

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।