জুলাই 22, 2013

ইতস্তত বিপ্লবী ২ : উত্তেজক মৃত্যুযাত্রা

(এই পর্বের প্রিক্যুয়াল ["ইতস্তত বিপ্লবী"] পড়া যাবে এই লিঙ্কে :  http://shorob.com/?p=4262

)

নিউইয়র্কের আকাশে সেদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। কেমন যেন গুমোট একটা ভাব, কিন্তু বৃষ্টিও হচ্ছে না। অদ্ভুত এই জমাট বাঁধা আবহাওয়ায় একটি মেয়ে ছুটে চলেছে, তার ছুটে চলার কোন বিরতি নেই। নর্থ সেন্ট্রাল ব্রঙ্কস হাসপাতালের সামনে এসে থামে মেয়েটি। তার বাসা থেকে কয়েক ব্লক দূরেই হাসপাতালটি। দৌড়ে আসতে সময় লাগেনি তাই। বড় একটা দম নিয়ে হাসপাতালের ভেতর ঢোকে নবনীতা। আয়েশা এখানেই আছে।

 

আয়েশা গতকাল রাতেই তাকে খুশির সংবাদটা জানিয়েছিল। তার হারিয়ে যাওয়া প্রেমকে খুঁজে পাওয়ার গল্প, ওদের পুনর্মিলনের গল্প। আজকেই একসাথে লাঞ্চ করার কথা ছিল ওদের, অথচ এমন একটা ঘটনা ঘটল!! কে জানত, কে ভাবতে পেরেছিল যে মানুষটা সন্ধ্যায় তার ছোটবেলার ভালোবাসা, একমাত্র প্রেমিকাকে এঙ্গেজমেন্টের প্রস্তাব দেওয়ার পর রাতে বাসায় এসে আত্মহত্যা করবে?  বেঁচে থাকলে এই মানুষটার সাথে দেখা করার চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার থাকত না নবনীতার। কারণটা কৌতূহল, অদম্য কৌতূহল। আপাতত অধিক শোকের আকস্মিকতায় জ্ঞান হারানো বান্ধবীকে দেখতে এসেছে সে খবর পাওয়ামাত্রই, ডাক্তার বলেছে জ্ঞান ফিরেছে একটু আগেই আয়েশার।

 

-আয়েশা।

-নবনীতা? (শূন্য দৃষ্টিতে তাকায় আয়েশা)

-তোকে আসলে কী বলব বুঝতে পারছি না, কিছু খবর মনে হয় জানানো জরুরি। এখানকার পুলিশে আমার এক কাছের, সত্যি বলতে কি অনেক কাছের এক বন্ধু আছে। তার কাছেই শুনলাম যে ওনার ডায়েরিতে তোকে নিয়ে অনেক আগের কিছু লেখা খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। আবেগের কথা, ভালোবাসার কথা, এমন কী প্রতিশোধের কথাও। কিন্তু সে অনেককাল আগের কথা, উনি আত্মহত্যার কথাও লিখে গিয়েছেন, কিন্তু সেটা একটু জটিলভাবে, ওটার অর্থ এখনও পুরোপুরি বের করা না গেলেও স্বেচ্ছায় করছেন এবং কেউ দায়ী নন এটাও বলে গিয়েছেন...

-আমি শুনতে চাই না,নবনীতা

-আমি জোর করে তোকে বলবও না। পুলিশ হয়ত তোকে হালকা জিজ্ঞাসাবাদ করবে, যেহেতু গতকাল তোর সাথেই ওর শেষ বসা হয়েছিল। উনি স্বীকার করে গিয়েছেন আত্মহত্যার কথা, তোর কোন ঝামেলা হবে না তাহলে, কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি মিডিয়াকে নিয়ে। এমন একজন ব্যক্তিত্বের এরকম মৃত্যু...মিডিয়া ঝাঁপিয়ে পড়বে এই কেসে। এখনও পুলিশ প্রকাশ করেনি ডায়েরির ব্যাপারটা, কিন্তু বেশিদিন লাগবে না, এজন্যই তোকে...

 

কথা শেষ করতে পারেনা নবনীতা, আয়েশার ঘোলাটে দৃষ্টি তাকে স্তব্ধ করে দেয়।

-নবনীতা, আমি বাঁচতে চাই না। কিন্তু আমি যেমন মেয়ে, আত্মহত্যা করার সাহস আমার নেই জানি। আমাকে মেরে ফেলার ব্যবস্থা করতে পারবি? তুই যা চাস তোকে তাই দেব আমি!

ঠোঁট কামড়ে ধরে নবনীতা।

-তুই হাসপাতাল থেকে রিলিজ  পেয়ে নে আগে, তোর সাথে আমার অনেক কথা আছে। না না, আমি তোকে অনেক জ্ঞানের কথা বলব না। তোর উপর জোরও খাটাবো না। বরং তুই যা চাবি তাই ই হবে। যাই রে, ডাক্তার বেশি কথা বলতে নিষেধ করেছে। তোকে রিলিজ করাতে আমিই আসব। সুস্থ হয়ে ওঠ জলদি। এখন দেখ একটু ঘুমাতে পারিস কিনা।

আয়েশার হাত স্পর্শ করে বের হয়ে আসে নবনীতা। এই মেয়েটি এককালে সবাইকে মাতিয়ে রাখত মজার মজার কথা বলে। কেমন ভয়ংকর নেতিয়ে গিয়েছে মেয়েটা। ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে, সে এখনও মনে-প্রাণে প্রার্থনা করছে যাতে আয়েশা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। নাহলে মায়ামির নির্ধারিত হোটেলে আরেকটা নতুন রুম বুক করতে হবে তাকে। অতি শীঘ্রই।

 

 

কয়েকদিন পরের কথা।

মিডিয়ার হাত থেকে অনেক সতর্কতার সাথে আয়েশাকে বাঁচিয়ে ওর গাড়িতে তুলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসে নবনীতা। ওদিনের চেয়ে সুস্থ লাগছে আয়েশাকে। কিন্তু মায়াবী চোখদুটো এখনও ঘোলাটে। অস্বস্তি অনুভব করছে নবনীতা। কীভাবে কথা শুরু করবে বুঝতে পারছিল না। একটু সময় নিয়ে তারপর মুখ খুলল সে।

-কেমন আছিস?

-তোকে আমি যে কথাটা বলেছিলাম তোর মনে আছে? তুই নাকি কী অনেক কথা বলবি?

পৃথিবীটা এক মুহূর্তের জন্য ভরশূন্য হয়ে যায় নবনীতার কাছে। ডাক্তার বলেছে আয়েশা এখন সুস্থ। ভাবভঙ্গিও স্বাভাবিক দেখা যাচ্ছে। তার মানে সুস্থ মস্তিষ্কে সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন আর কিছু করার নেই নবনীতার। মানুষের ইচ্ছার উপর তার অগাধ বিশ্বাস। আয়েশাকে তাই সে জোর করবে না। তবু একবার চেষ্টা করে দেখতে পারে সে। আস্তে করে বলল সে, “দেখ, জীবনটা নতুন করে শুরু করতে পারিস তুই এখান থেকেই আবারো।

আয়েশা নিশ্চিত দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়ে উত্তর দেয়, “ওকে ছাড়া জীবন একবার শুরু করেছিলাম আমি, সেটা ওকে ফিরে পাবার জন্যই। আশাটা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। এখন আর কোন আশা নেই। বাঁচার কোন অর্থও নেই, তুই আমাকে সাহায্য না করলে আমার কিলার ভাড়া করতে হবে, যেভাবেই হোক, আমাকে মরতে হবেই।

 

এই দৃষ্টি চেনা আছে নবনীতার। কয়েকমাস আগেও এই দৃষ্টি সে দেখেছে, দেখে আসছে তারপর থেকে প্রতিদিন। আয়নাতে।

 

জীবনে বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছিল সেও। আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একটা রিহ্যাব সেন্টারে রেখে আসা হয় ওকে। কিন্তু রিহ্যাব সেন্টার ওর মধ্য থেকে আত্মহত্যার চিন্তা দূর করতে পারছিল না। শুধু তাই নয়, তার মত মানসিকতার আরো একজন মানুষ খুঁজে পায় সে। এবং পথটা দেখায় সেই। গার্ডার নামের মধ্যবয়স্ক মানুষটি ওদেরকে মোহাবিষ্ট করে ফেলেছিল। সে ওদের বুঝিয়েছিল যে, জীবন আর মৃত্যু অ্যাডভেঞ্চার ছাড়া কিছুই নয়। আর স্বেচ্ছায় অ্যাডভেঞ্চার করার মত উত্তেজক ব্যাপার পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। ইচ্ছাই হচ্ছে মানুষের ঈশ্বর। রিহ্যাব সেন্টারে মৃত্যুটা অনেক সাদামাটা হয়ে যায়। জীবন থেকে মৃত্যুর মধ্যবর্তী পথটা হওয়া চাই উত্তেজক। তাই সবাইকে আশ্বাস দেয় সে, যে একটি উত্তেজক আত্মহত্যা তারা চাইলেই করতে পারে, কিন্তু এজন্য অল্প কটা দিন সময় লাগবে, নিজেদের অভিনয় দিয়ে সুস্থতার ভান করে ছাড়া পেতে হবে এখান থেকে। তারপরের অংশটাই সবচেয়ে উত্তেজক।

 

বলার ভঙ্গির কারণেই হোক আর ব্যাপারটার আকর্ষণের কারণেই হোক, দশটা মানুষ সেদিন গার্ডারের “উত্তেজক মৃত্যুযাত্রা” অভিযানে যাওয়ার শপথ নেয়।

 

অবাক হয়ে নবনীতার গল্প শুনছিল আয়েশা। নবনীতা থামার পরে আয়েশা বলে উঠল, “আমি আরো ভেবেছিলাম রিহ্যাব থেকে আসার পর তুই ঠিক হয়ে গেছিস!

-ঠিক তো আমি আছিই, একদম ঠিক। ইচ্ছার সাথে কখনও আপোষ করবিনা। ব্যাপারতা এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল আমাকে যে, অভিনয় করতে আমার কোন সমস্যাই হয়নি, শুধু সময়ের অপেক্ষা করছি আমি। সময় এসেছে, আগামী সপ্তাহেই রওনা হচ্ছি আমরা, জীবনের সবচেয়ে বড় অভিযানে। জীবন থেকে মৃত্যুর পথে এক উত্তেজক অভিযানে।

-কী করবি তোরা?

-হাহা!কী করব মানে? আত্মহত্যা! কিন্তু অন্যরকম স্টাইলে। একেবারেই অন্যরকম!

-কোথায় যাচ্ছি তাহলে আমরা?

চোখ নেচে উঠল নবনীতার, আয়েশা এখন নিজেকে ওদেরই একজন ভাবছে, নিজে নিজেই ভেবেছে সে, কিছু বলা লাগেনি ওর। অপরাধবোধটাও তাই নেই ওর মাঝে আর। বড় করে দম নিয়ে ফিসফিস করে আয়েশার কানে...

“বারমুডা ট্রায়াঙ্গল”

 

 

 

মায়ামি থেকে বড় বোটটা রওনা দিল। যাত্রী ১২ জন। ইতোমধ্যে গার্ডারের সাথে কথা হয়েছে আয়েশার। মানুষটার ব্যক্তিত্ব অসাধারণ, পৃথিবীতে এরচেয়ে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ আর একজনই ছিল সম্ভবত। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে সে, “তোমার জন্য অপেক্ষা আমি আগেও করেছি, আজ তোমার সাথে মিলিত হবার অপেক্ষা আমারও, তোমারও। আমি আসছি!

 

গার্ডার সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছে, ভালো রকমের সম্ভাবনা রয়েছে আরও অনেক বোটের মতই তাদেরও স্রেফ হাওয়া হয়ে যাওয়ার। আমেরিকান নেভীর অফিসিয়াল হিসাবেই প্রতি বছর অনেক বোট এখান থেকে হাওয়া হয়ে যাওয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু অনেকক্ষণ ঘুরেও যদি কিছু না হয় তাহলে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা আছে। ডাইভিং ইক্যুইপমেন্ট নিয়ে আসা হয়েছে। সীমিত পরিমাণ অক্সিজেন নিয়ে সবাই সাগর তলে চলে যাবে এবং কোন টাইমার সাথে থাকবেনা। বাকিটা সহজই হবে। প্রয়োজনীয় পাথরও রাখা আছে, কারো ইচ্ছা হলে ভারি পাথর বেঁধেই নিচে নেমে যেতে পারবে। তবে ওই পদ্ধতিটা ঠিক পছন্দ নয় গার্ডারের। এতে অ্যাডভেঞ্চার কম।

 

বোটের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে ওরা। আয়েশার দৃষ্টি বিশাল সমুদ্রের উপরে দূর আকাশের পশ্চিম কোণে। দানা বেঁধে আছে একগুচ্ছ কালো মেঘ। অনেক তত্ত্ব আছে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে নিয়ে। এখানে বোট, জাহাজ, উড়োজাহাজ সবই অদৃশ্য হয়েছে কোনরকম চিহ্ন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে। অনেকে এলিয়েনের কথা বলে, অনেকে ভূতাত্ত্বিক ব্যাখা দেয়, অনেকে আদিভৌতিক ব্যাপারস্যাপার আনে, অনেকে স্বাভাবিকভাবে দুর্যোগ কিংবা যান্ত্রিক গোলযোগের উপর দিয়ে চালিয়ে দেয়। কিন্তু এখনও রহস্য অমীমাংসীত। তবে এটা সত্য, যে এখানকার আবহাওয়া হুট করে বদলে যায়। পশ্চিম কোণে জমে থাকা মেঘের আকারও তাই বড় হয়ে চলছে সময়ের সাথে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটা পুরো আকাশ গ্রাস করে নিল। চারদিকে অন্ধকার জমাট বাঁধতে শুরু করল। নবনীতার উত্তেজিত চিৎকারে আয়েশা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল।

বিশাল এক জলঘূর্ণি সৃষ্টি হয়েছে সাগরের মাঝে! সেটাকে ঘিরে চারদিকে একটা পর্দার মত তৈরি হয়েছে, সেটার ভেতরেই আছে ওদের বোট। গার্ডার চেঁচিয়ে উঠল, “বন্ধুগণ!সেই অমর মুহূর্ত সমাগত! আমাদের শ্রেষ্ঠ অভিযান শুরু হচ্ছে এখন!!”

বোট ঘূর্ণিতে আটকা পড়ল। পানির ঝটকায় ছিটকে গেল ওরা সবাই। কেন যেন মনে হচ্ছে অন্ধকার কেটে যাচ্ছে। আলো আসতে শুরু করল, আলো তীব্র থেকে তীব্রতর হতে শুরু করল, চোখ ধাঁধিয়ে গেল একসময় ওদের সবার। তীব্র শব্দের চোটে কানা তালা লেগে যাবার যোগাড়। মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর সমস্ত অভিশপ্ত আত্মা একত্রে চিৎকার করছে। আর সহ্য করতে পারল না আয়েশা, লাফ দিল বোট থেকে সে। গগনবিদারী শব্দকে ছাপিয়ে কে যেন ওর নাম ধরে ডাকল, এই কণ্ঠস্বর তার চিরচেনা, কিন্তু সে তো ওকে আর ডাকতে পারবে না, কে ডাকল তাহলে তাকে?

 

 

 

 

আয়েশা ভেসে আছে জলঘূর্ণির উপরে। সে ডুবছে না। একটুও না। তার সমস্ত শরীর ভিজে একাকার, ঠিক সেদিনের মত, যেদিন ঝুম বৃষ্টিতে পাশাপাশি ওরা হেঁটে চলে গিয়েছিল অনেকদূর। রাস্তা পার করে দেবার ওর ছলে হাতটা ধরে নিয়েছিল সে। তার স্পর্শের শিহরণ সে ঠিকই টের পেয়েছিল। তারপর টুপ করে যখন হাতটা ছেড়ে দিয়েছিল সে, আয়েশার মনে হচ্ছিল সে পড়ে যাচ্ছে, অনেক নিচে, অভিকর্ষের টানে। ঠিক তেমনিভাবে হঠাৎ আয়েশার মনে হল সে তলিয়ে যাচ্ছে। তীব্র আলোতে চোখ খুলে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করা বাদ দিল সে। পড়ছে সে, তলিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই।

যেমনিভাবে হঠাৎ তলিয়ে যাওয়ার শুরু হয়েছিল আয়েশার ঠিক তেমনিভাবে হঠাৎ তলিয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল তার। নিচে শক্ত মাটির অস্তিত্ব অনুভব করতে পারছে সে। চোখ খুলল ক্ষিপ্রতার সাথে। চোখ খুলতেই চিনচিনে একটা ব্যথা শুরু হল। আবার বন্ধ করে আস্তে করে অল্প একটু খুলল আবার সে। একটা ব্যস্ত রাস্তার পাশে সে দাঁড়িয়ে আছে। টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে, তার আরেকটু সামনে একটা রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। একটা ছেলে রিকশার ভেতরে বসে থাকা একজনের সাথে কথা বলছে। চোখ আধখোলা অবস্থায় এদিক ওদিক তাকাল আয়েশা, শুনতে পেল কথোপকথন।

মেয়েকণ্ঠঃ রিকশায় যাবা।

ছেলেকণ্ঠঃ রিকশা নাই তো! আসি আমি?

আয়েশার ভেতরটা ধরে কে যেন সজোরে নাড়া দিল। এদিক ওদিক তাকিয়ে সে দেখল দূরে একটা রিকশা দাঁড়িয়ে আছে, ছেলেটা সেদিকটা আড়াল করে আছে যাতে মেয়েটা রিকশা না দেখে, কিন্তু আয়েশা জানে মেয়েটা রিকশাটা দেখতে পেয়েছে। তারপরও মেয়েটা ভান করে যে সে দেখেনি, চেপে বসে সে। ছেলেটা উঠে বসে ওর পাশে। রিকশাটি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে ছুটে সামনে চলে আসে আয়েশা। ব্যথা নিয়েই চোখ পুরোটা মেলে ধরে রিকশায় বসে থাকা মেয়েটির দিকে তাকায় সে।

 

চোখে অবিশ্বাস নিয়ে আয়েশা দেখে, গলার তিলটা ঠিক জায়গাতেই আছে। অবস্থানটা তার মুখস্ত। ছোটবেলা থেকে হাজারবার আয়নায় দেখেছে। এটা ওরও খুব প্রিয় ছিল। নিজের গলায় হাত বুলায় সে, জানে তিলটা ঠিক এখানেই আছে। একচুলও নড়চড় হয়নি এ কয়েক বছরে।

 

 

9 comments on “ইতস্তত বিপ্লবী ২ : উত্তেজক মৃত্যুযাত্রা”

    1. আগেরটা পড়েছিলেন, তাই মন্তব্যটা অতিশয় গুরুত্ব বহন করে আমার কাছে, এত্তগুলাআআ ধইন্যা পাতা নেন! :happy:

  1. লেখা বিউটির শরবতের মতই উপাদেয়। প্লট সিলেটের সাত রঙা চায়ের মতই ছলনাময়ী জটিল। (রোজা ধরসে ভালমত, খালি খাওয়াদাওয়ার কথা মাথায় আসতেসে!)
    আরেকবার পড়তে হবে! :thinking:

ইতস্তত বিপ্লবী শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Copyright 2019