কিছু উপলব্ধির আজাইরা বকবকানি…

আমার মনে হয় আমি যেন এই পৃথিবীতে চার-পাঁচ বছর বয়সে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার বড় বোনের জন্মদিনে কেক কাটার দৃশ্য আমার প্রথম স্মৃতি। ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে – Morning shows the day…আমার মনে হয় আমরা যদি একইভাবে বলতে পারতাম Childhood shows the adult life তাহলে এই বিশ্ব আরো অনেক সুন্দর হয়ে উঠত। বড় হয়ে উঠতে উঠতে জীবনটাই কোথায় যেন হারিয়ে যায়। এটা কেন এমন হল, ওটা কেন অমন সেই অদম্য কৌতূহলটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। বস্তুচেতনায় আত্মাটাকে ফাঁসি দিয়ে মেরি ফেলি যেন। ছোটবেলায় একবার ভেবেছি ক্রিকেটার হব, একবার ভেবেছি মহাকাশ গবেষক। এখন পড়ি ইকনমিক্স। বলাই বাহুল্য ক্রিকেট একেবারেই ভালো খেলতে পারি না, মহাকাশের জ্ঞান কবেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গ্যাছে। ইকনমিক্সে পড়ার ব্যাপারে আমি একেবারেই হতাশ নই। হতাশা এটাই যে সময়ের সাথে আর ক্রিকেট আর মহাকাশের আগ্রহ একেবারেই হারিয়ে ফেলেছি। পড়াশুনাই যে লাইফের সবকিছু নয় সেই উপলব্ধিটা হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং যদিও এখন আবার এ জিনিসটা বুঝতে পারছি এবং অনেক বেশি দেরী হয়ে যায় নি, তবুও মনে হচ্ছে অনেক বেশি সময় নষ্ট করে ফেলছি এবং তার জন্য ভালোভাবে মাশুল দিতে হবে। যতই সময় গেছে নিতান্তই আবশ্যকীয় কাজ ছাড়া অন্য ছোটখাটো অথচ অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে পুরোপুরি অবহেলা করেছি। অথচ গেম খেলার মত রিলেটিভলি আজাইরা কাজে সময় নষ্ট করেছিও অনেক। পরিবারের সুবাদে ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার ভাল অভ্যাসটা গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এটা এত ‘ভয়ঙ্কর’ হয়ে দাঁড়ায় যে এতা আবার অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেয়ার জন্যেও যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়। তবুও ভালোভাবেই চালিয়ে গিয়েছিলাম অনেকদিন। কিন্তু এক বই পড়াই। এর বাইরেও যে একটা জগত আছে সেটা একেবারেই তোয়াক্কা করি নাই। এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজীতে এ+ মিস করে পরিবারের তরফ থেকে যে ধাক্কা খেয়েছি সেটা ভোলার জিনিস না। খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু এরপর কারো ক্কোন কথায় কান না দিয়ে নিজের মত কাজ করে এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে ভুলটা কিছুটা ঠিক করেও আবার বুয়েট এর এডমিশন টেস্টে ফেইল করে আবার সব কিছু নষ্ট করে ফেলেছিলাম। এখন সার্বিকভাবে ভালো থাকলেও মনে হচ্ছে অনেক কিছু ভুল করে ফেলেছি। সমাজ পরিবারের চেয়ে অনেক দ্রুত চেইঞ্জ হয়ে যায়। তাই পরিবার একজন মানুষের কাছ থেকে যা চায় হয়তবা তা খুব দ্রুত চেইঞ্জ না হলেও সমাজের চাহিদা পরিবর্তন হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সমাজে নিজেকে একজন ভাল ও যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সবসময় পরিবারকে সন্তুষ্ট করে চলা যাবে না এই উপলব্ধি হয়েছে অনেক পরে। এখন মনে হয় যখন যেটা করার ও শেখার সুযোগ আসে সেটা তখনই শিখে ফেলা উচিত। পরে সেটা করার আগ্রহ বা পরিবেশ কোনটাই না পেয়ে কাজটা শেখার সুযোগ চলে গেলেও কাজটার গুরুত্ব লোপ পেয়ে যায় না। তাই এখন থেকে ঠিক করেছি যখন যেটা করার সুযোগ আসবে ওটা করে ফেলব। যতটা বাধাই থাকুক। সীমাবদ্ধতায় থাকব না আর। জীবনের কোন স্ক্রিপ্ট নেই যেটা দেখে আমরা অভিনয় করে যাব। জীবন আমাদের নিজেদের মত তৈরি করে নেয়ার বিষয়। একজন ফ্রেন্ডের কথা দিয়ে শেষ করব। “It seems funny that your whole life had been planned even before you learnt what life was.” আশা করি আমাদের জীবন যাতে এরকম না হয়ে দাঁড়ায়।

এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

2 Responses to কিছু উপলব্ধির আজাইরা বকবকানি…

  1. রুহশান আহমেদ বলেছেনঃ

    শেষের কথাগুলো বেশ ভালো লেগেছে।
    তবে শুরুর দিকে কথাগুলো খুব নিরানন্দ মনে হল।
    এর পাশাপাশি নিশ্চয়ই অনেক প্রাপ্তি আছে জীবনে।

  2. শারমিন বলেছেনঃ

    সামনে আরও ভালো লিখবেন আশা করি 🙂

রুহশান আহমেদ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।