বিশ্ববিদ্যালয়ের এক টুকরো গল্প

একজন মনোয়ারা বেগম

মনোয়ারা বেগম প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্যালেন্ডারের পাতায় সেদিনের তারিখ কেটে দিন গুনেন। পরিবারের অনেকেই তাকে প্রশ্ন করে কী কারণে তাঁর এই দিন গণনা? আর কেউ না জানলেও তিনি নিজে ঠিকই জানেন, তাঁর এই অপেক্ষার পালা শেষ হয়ে আসছে বেশ দ্রুতই। তাঁর একমাত্র মেয়ে আর মাসখানেক পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। মনোয়ারা বেগম ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যার কারণে আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ালেখা করতে পারেন নি। উনার থেমে যাওয়া সেই স্বপ্নের নতুন ধারক ও বাহক নিজের একমাত্র মেয়ে। এই তো আর মাত্র কিছুদিন বাকি… তারপর মেয়ের চোখ দিয়ে তিনি দেখবেন রঙিন জীবন। মেয়েকে জীবনে অনেক বড় করবেন তিনি।

এক স্বপ্নবাজ রিকশাওয়ালা

ধানমন্ডি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাওয়ার পথে বহু মানুষ হয়ত দেখেছে এক বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা পিঠের উপরে একটি লেখা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। উনার নাম ইউসুফ আলী। তাঁর সন্তান একটি সরকারী মেডিকেলের ছাত্রি। বৃদ্ধ রিকশাওয়ালার পিঠে এবং রিকশার পেছনে ঝোলানো লেখাটিতে মেয়েটির এস. এস. সি, এইচ. এস. সি এর ফলাফল এবং মেডিকেল কলেজের আইডি নম্বরসহ সব তথ্য দেওয়া থাকে। অনেকেই হয়ত এতদিনে জানেন, বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা পরিশ্রম করেন উনার সন্তানের জন্যে। নিজের মেয়েটিকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন বুনে নিয়ত তাঁর রিকশার চাকা ঘুরে।
তথ্যসূত্র

বিশ্ববিদ্যালয়ঃ স্বপ্ন, বাস্তবতা

সময় ২০০৮ সালের মার্চ বা তার কোন মাঝামাঝি একটি সময়। নিতু, আশফাক, তুহিন তিন বন্ধু। ক্যাম্পাসে এসেই তুহিন আশফাককে ফোন দেয়, “হ্যালো, আশফাক, কই রে তুই মামা? “আমি নীচে। তুই কই ব্যাটা?” “ডাইনে তাকা!”

তুহিন ঘাড় ঘুরাতেই দেখতে পায় আশফাক ও নিতু টঙের দোকানে বসে আলম মামার চা খাচ্ছে। দেখা মাত্রই তুহিন দৌড়ে গিয়ে আশফাককে জড়িয়ে ধরে ভালোবেসে অনেকগুলো গালি উপহার দিয়ে বলে ওঠে, “জানিস মামা, ম্যাথ ক্লাসে যে মেয়েটা সামনের চেয়ারে বসে না , সে নির্ঘাত অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ছোট বোন”।

জবাবে আশফাক ও নিতু অট্টহেসে একসাথে বলে, “হুম দোস্ত, ক্লাসের সব সুন্দরী মেয়েকেই তোর অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ছোট বোন লাগে! ব্যাটা বিশ্বপ্রেমিক।

নিতু তার মোটা ফ্রেমের চশমাটা ঠিক করতে করতে বলে, এবার আসল কথা বল, মিডের জন্যে কিছু পড়েছিস? নাকি এমনেই দিন যায়?” “দোস্ত হেল্প কর। কিছুই পারি না। এই বার মনে হয় সেমিস্টার আর পাশ হবে না রে? আশফাক বিজ্ঞের মতো মুখ করে বললো, নো ম্যাটার দোস্ত। সুন্দরীদের ছবি খাতায় এঁকে দিলে স্যাররা খুশী হয়ে পাশ করিয়ে দেবে। আবারো সবার হো হো করে অট্টহাসি।

তারপর ঠিক ৫ বছরের বিরতি। সেই আশফাক, নিতু আর তুহিনের মধ্যে একজন এখন বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছে, একজন একটি বিদেশী ব্যাঙ্কে কাজ করছে, আরেকজন এখন টেলিকম কোম্পানী কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।

এবার কিছু কঠিন কঠিন কথা লিখি : :thinking:

“University can teach you skill and give you opportunity, but it can’t teach you sense, nor give you understanding. Sense and understanding are produced within one’s soul.” ― C. JoyBell C.

“University’s like this little world, a bubble of time separate from everything before and everything after.” ― Mhairi McFarlane, You Had Me At Hello

“There are some things you can’t learn at any university, except for one, the University of Life…the only college where everyone is a permanent student.” ― E.A. Bucchianeri

আমরা জানি আমাদের চারপাশে আশফাক, নিতু এবং তুহিনের মত হাজার হাজার মানুষ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে অসংখ্য বাবা-মায়ের রয়েছে লক্ষ লক্ষ স্বপ্ন । এমন শিক্ষার্থীদের বেশীরভাগই পড়াশোনা শেষ করে ব্যস্ত জীবনের পথে পা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে অনেকেই হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পথে রওয়ানা দিতে সদ্য পথচলা শুরু করেছে বা পথচলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আমাদের সবসময়ই মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝপথে চলাচল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশী। সত্যিকার অর্থে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এমনই এক জীবন যেখানে, যে কোন মানুষ যেমন করে চাইবে, তেমন করেই সে নিজেকে পৃথিবী নামের রঙ্গমঞ্চে সাজাতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে কার স্বপ্ন কেমন ছিলো, কে কে স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে, কে কী হবে ? কে কি হতে চাইতো? সবকিছুই পাল্টে দিয়ে জীবন আবারো নিজের গতিপ্রকৃতি চেনাতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনে এসে। কত রঙ, কত গোধূলী, কত সকাল, কত বিকেল সাথে ফ্রি ফ্রি সন্ধ্যা ও রাত দেখতে দেখতেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেরা কয়েকটি বছর যেন কেটে যায়। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একজন শিক্ষার্থীর মৌলিকত্বকে বের করে আনে। আমাদের সব সময়ই মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী যেন হাজার হাজার ভিন্ন সত্তা। এজন্যই এক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই দেখা মিলে পিচ্চি ফিলোসফার বা বাচ্চা রবীন্দ্রনাথের সাথে। দেখা মিলে হাল জামানার আইনস্টাইন কিংবা আমি বারাক ওবামা হতে চাই, এমন মানুষের সাথেও । I HAVE A DREAM, বলছি মার্টিন লুথার কিং-এর কথা। রুমের বিশাল একটি পোস্টারই জানান দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কোন যুবক হয়তো বর্ণবাদহীন সমাজের স্বপ্ন বুনতে বুনতে আরেকজন মার্টিন লুথার কিং হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বুকে চে’য়ের জলছাপ দেয়া টি-শার্ট, মাথায় হাভানা টুপি পড়ে পুরোদমেই চলছে আর্নেস্তা চে গুয়েভারা হওয়ার প্রস্তুতিও। তবে অনেকেই কিন্তু “আমি লালনের মতো সাধক হতে চাই” তত্ত্বও আওড়াচ্ছে। কম্পিউটারের দিকে স্থির দৃষ্টিতে অপলক তাকিয়ে কোন তরুণ নিজেকে ভবিষ্যতের স্টিভ জবস হিসেবে তৈরী করার চেষ্টা যে করছে সেটিও বলাই বাহুল্য। এসব স্বপ্নের কতগুলো শেষ পর্যন্ত ডানা মেলেছে, তার কোন পরিসংখ্যান বাস্তবে নেই। তবে স্বপ্ন তো স্বপ্নই। যাকে কেবলই বিশ্বাস করতে হয় ও পরে বিশ্বাস দিয়েই বাস্তবে রুপান্তর করতে হয়।

তাই, শহরের স্বপ্ন বিলাসী এমন লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর অনুভূতিকে আবারো একত্রিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরব টিম। ২০১১ সালে ১৩ই নভেম্বর শ্রদ্ধেয় হূমায়ূন আহমেদ স্যারের জন্মদিন উপলক্ষে সরব ব্লগ/ টিম প্রকাশিত করেছিলো প্রথম ই–বুক। যেটি ছিলো এক দুর্দান্ত স্বপ্ন পূরনের গল্প। এরপর দ্বিতীয় ই-বুক ছিলো গণিত এর উপর। বাংলা ভাষায় গণিত এর উপর প্রথম ই-বুক ছিলো সরব-এর। এছাড়া ২০১৩ সালের অমর একুশে বইমেলায় সরব প্রকাশিত করেছে “সরব প্রকাশনীর” ভিন্নধারার প্রথম বই “তারুণ্যের বিশ কুঁড়ি”। “তারুণ্যের বিশ কুঁড়ি” বইটি কোন সংকলন ছিলো না বরং সেই বইটির প্রতিটি লেখক/ লেখিকা ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নির্বাচন করতে দিয়ে, তাদের কে দিয়ে বিষয়ভিত্তিক লেখা লেখানো হয়েছিলো।

সরব বিশ্বাস করে, ভালো লেখনী চর্চার মাধ্যমে আসে। ভালো লেখক/ লেখিকাদের তাই চাই শুদ্ধ চর্চার প্ল্যাটফর্ম। সেই প্ল্যাটফর্মের নাম “সরব”।

“সরব লেখক তৈরির একটি ফ্যাক্টরি হতে চায়…”

সে কারণেই চলতি বছর বা ২০১৩ সালের দ্বারপ্রান্তে এসে আবারও নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাইছি আমরা ও আমাদের ব্লগ টিম।

আপনার, আমার, সবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে এবার লেখা সংগ্রহ করতে চাইছে সরব। আসুন আমরা লিখতে বসি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অনুভূতি, গল্প, স্বপ্ন, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, পড়াশোনার সংকট, সাফল্য, ব্যর্থতা, ক্যারিয়ার ম্যাপ, জীবনাদর্শন, কি হতে চাইতাম, আর কি হলাম অথবা আমিই পেরেছি পৃথিবীকে বদলে দিতে এসব নিয়ে। তবে শুরু হোক আবারো সেই অনুভূতির গল্পের পথচলা। আপনি কোন বিষয়ে লিখবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনার । আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি ভালো লেখা ছাপাতে কোন টাকা লাগবে না বরং আপনাকে সময় দিয়ে মেধার ব্যবসা করতে হবে। তবে মন্দ লেখা ছাপাতে নিশ্চিতভাবেই কোন উৎকোচ দিয়েও কাজ হবে না । কী করবেন ভেবে দেখুন। লেখা পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ।

ই-বুকে লেখা জমা দেওয়ার জন্যে যা করনীয়-

আপনার সম্পুর্ন নাম, পরিচিতি, ই-মেইল এড্রেস আপনার লেখার শুরুতে উল্লেখ করে দিতে হবে।

আপনার লেখাটি নির্বাচিত হলে আপনাকে ই-মেইলের প্রতি উত্তর দিয়ে জানানো হবে।

লেখা জমা দেওয়ার ঠিকানা- (ই-মেইল এড্রেস- [email protected]com )

লেখা জমা দেওয়ার শেষ সময়- ১১ই অক্টোবর, ২০১৩।

লেখা নির্বাচন ও সার্বিক সহযোগিতায় থাকছে- সরব ব্লগ টিম। 8)

শুভকামনা নিরন্তর।

সরবের প্রথম ই-বুকের লিঙ্ক

সরবের দ্বিতীয় ই-বুকের লিঙ্ক

তারুণ্যের বিশ কুঁড়ি বইটির রকমারি লিঙ্ক

একুয়া রেজিয়া সম্পর্কে

আকাশ তো ছুঁইনি, কিন্তু আকাশের মাঝে তো মেঘ হয়ে ভেসে আছি... বেঁচে আছি, দিব্যি জেগে আছি। রোদকে আমায় ভেদ করে স্পর্শ করতে দিচ্ছি...এই তো আমি....এই তো জীবন...আর বাঁচার সেকি আনন্দ...
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে অনুপ্রেরণা, ইতিবাচক, উদ্যোগ, চিন্তাভাবনা-এ এবং ট্যাগ হয়েছে , স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

5 Responses to বিশ্ববিদ্যালয়ের এক টুকরো গল্প

  1. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    নানান কাহিনীর কারণে লেখালেখির অবস্থা খারাপ।

    ইবুকের জন্য তো অবশ্যই লিখতে হবে। নাইলে কেমনে কী?

  2. রুহশান আহমেদ বলেছেনঃ

    আমার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে লেখা শুরু করলে তো আর শেষই করা যাবেনা।

  3. শারমিন বলেছেনঃ

    দারুণ উদ্যোগ :penguindance:
    শুভকামনা রইল :happy:

  4. mehdi hasan বলেছেনঃ

    অল্প কথায় এতো সুন্দর লেখা সত্যি অসাধারন, আপনি লিখে যান, আমাদের আপনার মত লেখক সত্যি দরকার।

  5. m khan বলেছেনঃ

    কাল ১১ তারিখ আর আমি আজই দেখলাম!
    এইডা হইল কিছু!!

    কেমনে কি!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।