ব্রেনওয়াশিং : মানসিক ধর্ষণ

মুনা খুব সুন্দর একটি মেয়ে। এ কথা বলার সাথে সাথে আপনার কল্পনায় মুনা মেয়েটির একটি ছবি ভেসে উঠবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই, কল্পনার ছবিটিতে মুনার থাকবে ফর্সা সুন্দর একটি মুখ, লম্বা ঘন কালো চুল এবং ঝকঝকে সাদা দাঁত! কিংবা যদি মৃন্ময় নামের একটি ছেলের কথা বলি যে ছেলেটি অনেক হ্যান্ডসাম…….তাহলে আমাদের কল্পনার মৃন্ময়ের ছবিটি হবে সুঠাম দেহের অধিকারি ফর্সা সুন্দর একটি ছেলের ছবি! এই যে আমাদের ছকে বাঁধা সৌন্দর্য, কে এটা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে? অবশ্যই টিভি বিজ্ঞাপনগুলো। আমরা বলতে পারি টিভি বিজ্ঞাপনগুলো আমাদের একটি নির্দিষ্ট ধারায় চিন্তা করতে বাধ্য করছে, এই ব্যাপারটাই আসলে ব্রেনওয়াশিং। ব্রেনওয়াশিং ম্যাজিকেল কোনো ব্যাপার নয়। এটি মানুষের চিন্তা-ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রক্রিয়া। প্রতিনিয়ত নানাভাবে আমরা ব্রেনওয়াশিং এর শিকার হচ্ছি, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা আমরা বুঝতেই পারছি না!

ব্রেনওয়াশিং শব্দটা ভীষণ নেগেটিভ, একে মানসিক ধর্ষণ হিসেবেও উল্লেখ করা যায়। ব্রেনওয়াশিং শব্দটির জন্ম হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। যুদ্ধপরবর্তী সময় যুদ্ধবন্দি সৈন্যদের মধ্যে আত্ম নিয়ন্ত্রনের অভাব চোখে পড়ে। তারা নতুন কিছু চিন্তা করতে পারতো না, ডিপ্রেশনে ভুগতো এবং অনেকে মানসিকভাবে অক্ষম হয়ে যায়। তবে একে ব্রেনওয়াশিং না বলে, ব্রেনওয়াশিং এর একধরনের প্রক্রিয়া বলাই ঠিক হবে। যুদ্ধের মতো আকস্মিক মহাবিপর্যয়গুলো মানুষের ব্রেনের কার্যকলাপে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ব্রেনওয়াশিং কমসেপ্টটি চাইনিজ। এর অর্থ ছিল মূলত চিন্তা-ভাবনার সংস্কার বা সংশোধন। চাইনিজরা মেডিটেশনের মাধ্যমে এ কাজটি করতো।

ব্রেনওয়াশিং প্রক্রিয়াটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় রাজনীতি, ধর্ম ও মিডিয়ায়। রাজনীতি এবং ধর্ম পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। একটু খেয়াল করলেই আমরা বুঝতে পারবো পুরো পৃথিবীতেই ধর্মকে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যবহার করা হচ্ছে। অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই ধর্ম কিংবা মৌলিক অধিকারগুলো এমন কিছু ইস্যু তৈরি করতে পারে যা মানুষের চিন্তা-ভাবনা সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং মানুষকে অনেক নির্মম এবং নিষ্ঠুর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। বিভিন্ন দেশে আজ মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে তাচ্ছিল্য করা হয়। অপরদিকে আমরা দেখতে পাই মুসলিম সমাজ পশ্চিমা শক্তির অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার। পুরো ব্যাপারটাই রাজনৈতিক সুবিধা লুটার জন্য চোখে ধুলো দেয়ার মতো সেটা আমরা কম বেশি সবাই জানি। এটা কিন্তু ব্রেনওয়াশিং এর অংশ কারণ সাধারণ পশ্চিমা জনগোষ্ঠীও মুসলিমদের এখন অন্যরকম চোখে দেখছে। মুসলিমরা সন্ত্রাস এই ব্যাপারটি তাদের ব্রেনে অনেকটা গেঁথে দেয়া গেছে। রাজনৈতিক ভাবে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বাজে ভাবে ব্রেনওয়াশিং এর শিকার হয়। আমাদের নিরাপত্তার খাতিরে কিংবা আরেকটু ভালো জীবনযাপনের জন্য কিংবা মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে আমরা রাজনীতিবিদদের প্রোপাগান্ডাগুলো বিশ্বাস করি এবং শোষণের শিকার হই! কিন্তু এটা চলতে থাকে কারণ ব্রেনওয়াশিং একটা দুষ্ট চক্র। আমাদের দেশের কথাই ভেবে দেখুন, আমরা খুব ভালো করেই জানি কারা, কিভাবে আমাদের শাসন ও শোষণ করছে। কিন্তু আমাদের প্রায় কিছুই করার নেই।

প্রথমে আমরা একবার বিজ্ঞাপনের কথা বলেছিলাম। কি কাজ এই বিজ্ঞাপনগুলোর? নির্দিষ্ট পন্য কেনার জন্য আমাদের আকৃষ্ট করা, অনেক সময় পুরোপুরি ভিত্তিহীন কিছু তথ্য বিশ্বাস করতে বাধ্য করা। বিজ্ঞাপন দেখে যখন আমরা ভাবতে শুরু করি ক্রিম মেখে আমরা ফর্সা হয়ে যাবো, নারিকেল তেল মেখে আমাদের চুল ঘন কালো লম্বা হয়ে যাবে, তথাকথিত হেলদি ড্রিংক খেয়ে লম্বা এবং স্বাস্থ্যবান হয়ে যাবো, নির্দিষ্ট কলম দিয়ে লিখে পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে যাবো কিংবা সুগন্ধি মেখে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে আকৃষ্ট করতে পারবো, তখনই আমরা ব্রেনওয়াশিং এর শিকার হই!! মিডিয়াকে বলা যায় চিন্তাশক্তিকে প্রভাবিত করার অস্ত্র! তারা কিছু প্রোপাগান্ডা ব্যবহার করে আমাদের নির্দিষ্ট কিছুর উপর বিশ্বাস রাখতে বাধ্য করে। যেমন, অনেক বিজ্ঞাপনে কিছু ডাক্তারকে নির্দিষ্ট পন্য রিকমেন্ড করতে দেখা যায়, যারা প্রকৃতপক্ষে ডাক্তার নয়, অভিনেতা। এই কাজটি করা হয় আমাদের চিন্তাশক্তিকে প্রভাবিত করার জন্য। কিছু কিছু বিজ্ঞাপনে অপ্রয়োজনীয় ভাবে অর্ধনগ্ন নারীদের ব্যবহার করার কারণটিও একরকম আসক্তি তৈরি করা যেন বিজ্ঞাপনটি আপনি দেখতে বাধ্য হন! এমনকি আমরা যখন টিভিতে সংবাদ দেখি আমাদের অনেকসময়ই বিন্দুমাত্র ধারনাও থাকেনা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো কতোটা বিকৃত ও পরিবর্তিত ভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়!

শিক্ষাও ব্রেনওয়াশিং করে থাকে, তবে এটি অনেকটাই পজেটিভ এবং এর কাজ চিন্তা-ভাবনাকে পরিশীলিত করা। তাই এক্ষেত্রে আমরা ব্রেনওয়াশিং শব্দটি ব্যবহার করবো না। কিন্তু আমরা যখন চিন্তা করি একজন ভালো ছাত্র মানেই একজন ভালো মানুষ কিংবা একজন সুনাগরিক, অথবা যখন মনে করি ভালো ভাবে পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই শিক্ষিত হওয়ার উদ্দেশ্য তখনই আমরা ব্রেনওয়াশিং এর শিকার!! শিক্ষক খুব সহজেই ব্রেনওয়াশ করার ক্ষমতা রাখেন। একটি শব্দ অনেকসময় অনেক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে এক্ষেত্রে। আবেগঘন কথামালাই একজনের চিন্তাশক্তিকে প্রভাবিত করার জন্য যথেষ্ট। শিক্ষা খুব সহজেই ব্রেনওয়াশিং প্রসেসের অংশ হতে পারে যখন এটি একটি শিশুকে চিন্তার স্বাধীনতা শেখানোর পরিবর্তে তার অপরিণত মস্তিষ্ককে অবৈধ ভাবে নির্দিষ্ট কিছু বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যা থেকে শিশুটি আর কখনোই বেরোতে পারেনা! দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি, আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি, আমাদের জীবনযাপন পদ্ধতি, আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা ভীষণ ভাবে ব্রেনওয়াশিং এর শিকার!

অর্থাৎ ব্রেনওয়াশিং মানে স্বাভাবিক চিন্তাশক্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিবর্তে কোনো কিছু বা কারো দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো কিছুর উপর বিশ্বাস করতে বাধ্য হওয়া। স্বাধীন ভাবে চিন্তা করতে পারে বলেই প্রাণিজগতে মানুষ অনন্য। তাই, মানবজাতির জন্য ব্রেনওয়াশিং অপমানজনক। ব্রেনওয়াশিং এর প্রভাব খুবই ভয়ানক। এটি এমন একটি প্রসেস যেখানে আমাদের চিন্তাশক্তির উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকেনা, থাকে অন্য কারো; আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো অনেকসময় আমরা জানতেও পারিনা যে আমরা ব্রেনওয়াশিং এর শিকার!! বলা যায় আমরা সবাই মানসিক দাসত্বের শিকার, আর মাত্র কিছু সংখ্যক মানুষ আমাদের মনের উপর প্রভুত্ব করছে, আমাদের জীবনযাপন পদ্ধতি ছকে বেঁধে দিয়েছে!! গোটা বিশ্ব তারাই শাসন করছে। আমাদের চারপাশে ব্রেনওয়াশিং এর অসংখ্য উপাদান রয়েছে। আমাদের ব্রেনে একটা তথ্য বার বার ইনপুট হতে থাকলে একসময় আমাদের ব্রেন সেটা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। কিভাবে? সেটা নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করা হবে। আপাতত চাওয়া একটাই, মুক্ত চিন্তার দ্বার উন্মুক্ত হোক।

পূর্বে প্রকাশিত : http://www.bigganschool.org/blog/2580

ফারাহ্‌ মাহমুদ সম্পর্কে

অবিদিত, জানো কি? বুকের মধ্যে জল তরঙ্গ নিয়ে মানুষ হয়ে জন্ম নেয়া পাপ! অবিদিত, জানো কি? অনুরাগ এক প্রকার সুখকর বিভ্রান্তি..
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে অনুপ্রেরণা, ইতিবাচক, উদ্যোগ, চিন্তাভাবনা, সচেতনতা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

14 Responses to ব্রেনওয়াশিং : মানসিক ধর্ষণ

  1. অক্ষর বলেছেনঃ

    আরেকটা চমৎকার লেখা। পড়তে গিয়ে আমিও কি ব্রেইন ওয়াশের শিকার? 😛
    টপিকটা ভালো।

    কিন্তু এই টপিকের আউটপুট কী? অর্থাৎ লেখক এখানে আসলে কি ব্যাপারে সচেতন করতে চাইছেন, এই ব্যাপারটা আমার কাছে ক্লিয়ার না। যেমনঃ বিজ্ঞাপণ বা রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার (শুধু ধর্ম না আরও অনেক প্রভাবক আছে, ওদিকে না যাই) এর ক্ষেত্রে বোঝা যাচ্ছে ব্রেইন ওয়াশিংটা একটা বড় ফ্যাক্টর ঠিক তাঁর বিপরীতে শিক্ষা ক্ষেত্রে। কেননা শিক্ষার কাজ হচ্ছে মনকে উন্মোচিত করা সেখানে মনকে দাসত্বের শৃংখলে বাঁধা শিক্ষার কাজ না। সেই ক্ষেত্রে শিক্ষকের উপদেশ মেনে চলা কি মানসিক দাসত্বের মাঝে পড়বে নাকি সেটার ডেফিনেশন আলাদা ভাবে দেওয়া হবে?

    আসলে পোস্টটা সুন্দর। তবে এই অবস্থা থেকে “মুক্তি” আসলে পাওয়া যাবে কি যাবে না গেলেও কিভাবে সেটা নিয়ে আরেকটা পোস্ট হয়ে যেতে পারে।
    আশা করি পেয়ে যাবো।

    :clappinghands:

  2. জ্ঞানচোর বলেছেনঃ

    অনেক ভাল লিখেছেন। এ ধরনের লেখা নিয়মিত চাই।
    🙂
    ১.
    বিজ্ঞাপন নিয়ে ব্যাপারগুলা আসলে একেবারে আক্ষরিক অর্থে সত্য। এগুলো বরং, হাতে কলমে পড়ানো হয়, কিভাবে ক্লায়েন্টকে আকৃষ্ট করা যাবে। তবে এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক ইথিকস নামে একটা বিষয়ও পড়ানো হয়। আমাদের সমস্যা হলো এসবের প্রয়োগের অভাব।

    ২.
    শিক্ষার ব্যাপারে যে ব্যাপারটা তুলে ধরেছেন তা একেবারে আনকোরা। এ প্লাস উৎসবের ক্ষেত্রে এ ধরনের এক পজিটিভ ব্যাপার হয়তো আছে। কিন্তু, লম্বা সময়ে সেটা নেগেটিভ রেজাল্ট দেয় কি না? কো উপাত্ত টুপাত্ত আছে?

  3. তুসিন বলেছেনঃ

    লেখাটা ভাল লাগল।সাবলীল লেখা।বুঝতে একটুও কষ্ট হয় নি।লেখাটা পড়তে পড়তে এ থেকে কিভাবে মুক্তি পাব চিন্তা করছিলাম।পরবর্তী এ থেকে মুক্ত পাওয়া বিষয়গুলো সর্ম্পকে তুলে ধরলে ভাল হয় ।
    শুভ কামনা রইল….
    পরবর্তী লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম

  4. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    এটি এমন একটি প্রসেস যেখানে আমাদের চিন্তাশক্তির উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকেনা, থাকে অন্য কারো; আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো অনেকসময় আমরা জানতেও পারিনা যে আমরা ব্রেনওয়াশিং এর শিকার!!>> এটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা। আমরা না জেনেই পরিবেশ থেকে নিজেদের মাঝে ব্যাপারগুলো নিয়ে ফেলি এবং লালন করতে থাকি।

    তৃতীয়বারের মত পড়লাম।
    সিরিজটা আসুক!

  5. সামিরা বলেছেনঃ

    সুপাঠ্য লেখা।

    ব্রেইনওয়াশিং শব্দের উৎপত্তির ইতিহাস জানা ছিল না। ইন্টারেস্টিং! জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

    শব্দটা আমরা নেতিবাচক অর্থেই ব্যবহার করি ঠিক। কিন্তু আবার, ইতিবাচকতা আর নেতিবাচকতা – এই ধারণাগুলিও তো কিছুটা আপেক্ষিক অনেক সময়ে, তাই না? যেমন কোন শিক্ষক হয়তো তার মতে যা সত্য সেটা দিয়েই শিক্ষার্থীদের ‘প্রভাবিত’ করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সেই সত্য অন্য কারো কাছে আবার নেতিবাচক কিছুও হতে পারে।

    ব্রেইনওয়াশিং থেকে বাঁচতে নিজের সতর্কতা আর নিরপেক্ষভাবে জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করা ছাড়া অন্য উপায় সম্ভবত নেই। কারণ, আমরা যখন কোন বই পড়ি, সেই বইতে কিন্তু লেখক নিজের মতকেই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। সুতরাং আমরা যদি *সব* বই, সব জ্ঞানের উৎসের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা না করি, আমরা সেই মতকেই সত্য বলে ধরে নেব। এই দুষ্টচক্রের বাইরে বেরুতে পেরেছেন এমন মানুষ খুব, খুব সীমিত সংখ্যক হওয়ার কথা – হাজারে একজন, কিংবা আরো অনেক কম হতে পারেন।

  6. মাধবীলতা বলেছেনঃ

    অতীব সুপাঠ্য পোস্ট। ব্রেইনওয়াশিং এর ইতিহাস জেনে ভালো লাগল। সিরিজটা চাই। 😀

  7. রুহশান আহমেদ বলেছেনঃ

    আমিও ব্রেইনওয়াশড, সে-ও ব্রেইনওয়াশড। দুইজনের ব্রেইনওয়াশ আলাদা হলেই একে অপরের চোখের বিষ।

ফারাহ্‌ মাহমুদ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।