প্রিয় মৃত্যুদূত,
তুমি আসবে, কোন একদিন আসবে… নিমন্ত্রণহীন পত্রে অসীম জগতের যাত্রায় তোমার সঙ্গী করতে লুফে নিবে আমাকে। কোনকিছু দাবি করবার উপায় না রেখে, গুছিয়ে উঠবার সময় না দিয়েই টেনে নেবে আমাকে। নাহ, টেনে নিতে হবে না তোমাকে । আমি নিজেই অপেক্ষায় আছি তোমার। আমার অপেক্ষা করবার ধৈর্য দেখে মুগ্ধ হবে তুমি।
কি করবো বল? প্রতিদিনের ওই লাল সূর্যটা আমাকে আর জাগায় না, পাখির কিচিরমিচির আমাকে ব্যস্ত করে তোলে না সকাল হয়েছে জানিয়ে, বরং ক্লান্তি জাগায় আরেকটা দিন বাঁচতে হবে বলে। যেই নিঃশব্দ ঘুমের আকাঙ্ক্ষায় চোখ বুজেছিলাম তা আবার খুলতে হল- কি যে ব্যর্থতা তাতে জানো, ৩ নম্বরের জন্য প্রথম না হবার চেয়েও কষ্ট বেশি এতে !!!
সবাই কতো জীবনের স্বপ্ন দেখায়, বেঁচে থাকার আশা দেখায়, বাঁচবার মতো খুঁটি ধরায়- কিন্তু বলতে পারো আজ যে সফল মানুষগুলো সফলতার চাদরে মোড়ানো তা কি তার একার সামর্থে কিনা??
অনেকের মতেই, *ভাগ্য* বিশ্বাসটা দুর্বল মানসিকতার পরিচয়। আমার তাদের বিশ্বাস নিয়ে তর্ক করবার ইচ্ছে নেই। আমি শুধু আমার বিশ্বাসটুকু বলতে পারি।
ধরো, কেউ একটা গাছের চারা লাগিয়েছে, কিন্তু জানে না গাছের চারাটা কিসের। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করছে এটা একটা গোলাপ গাছের চারা আর সেইভাবে তাকে যত্ন করছে। কিছুদিন পর দেখতে পেল সেটা আসলে গাঁদা ফুলের চারা। তার বিশ্বাস আর চেষ্টা কি সিস্টেমকে পাল্টে দিবে?
…… না ।
এই বিশাল পৃথিবী, লক্ষ কোটি মানুষের জীবন, তার চেয়ে কোটি গুন বেশি জীবজন্তু আর কীটপতঙ্গ- সবই এক সিস্টেমের অংশ। সব কিছুই সুনির্ধারিত, সুনিয়ন্ত্রিত। স্রষ্টা যিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা তিনি কখনোই কারো একার চাওয়ার জন্য পুরো সিস্টেম ভেস্তে দিবেন না। বরং যা পাবেন তার জন্য আমাদের মনে শীতলতা তৈরি করবেন যদিও তা নির্ভর করবে আমরা তা কতোটুকু চাই তার উপর। কেননা আপনার-আমার স্থিরতা কিংবা অস্থিরতা প্রকৃতির কিছুতেই প্রভাব ফেলবে না বরং আমাদের নিজস্ব সিস্টেমকে দীর্ঘায়িত করবে।
আমার কাছে, ভাগ্যে বিশ্বাস মানেই হাত-পা গুটিয়ে থাকা নয়, বরং শেষমেশ পাওয়া সেই গাঁদার চারা থেকে আরেকটা চারা পাওয়া যায় কিনা সেই চেষ্টা করা, খুঁজে চলা আমার জন্য সিস্টেমে কি রেখে দেয়া আছে। সেই খুঁজে চলাটাই আমার ভাষায় শ্রম।
শ্রমের জন্য ফলাফল পাই না, বরং ফলাফলকে পাবার জন্যই শ্রম করি।
“স্রষ্টা যা করেন ভালোর জন্য করেন”- সেই ভালোটাকে গ্রহণ করবার অসীম শক্তি আমি তাঁর কাছে চাই, যা পেলাম তার মাঝে চেষ্টাটাকে খুঁজে বেড়াই।
আমি প্রচণ্ড ভাগ্যে বিশ্বাসী , তাতে যদি কারো কাছে *দুর্বল* মানসিকতার ও হই তাও আমি আমার বিশ্বাসে আমি সবল।
আর সেই ভাগ্যের টানেই আজ তোমার অপেক্ষা করা কেননা কোন কিছুই এ জগতে কাকতলীয় নয়, স্থির এবং নির্দিষ্ট। কতো বিচিত্র কারণে যে তোমাকে মানুষ ডাকে, তুমি মনে হয় জানোও না। কেউ পরীক্ষায় পাশ করলো না বলে, কিংবা কারো বিয়ে মাঝ পথে ভেঙ্গে গিয়েছে বলে, কারো ভালোবাসার মানুষটার সাথে বনিবনা হচ্ছে না বলে… আবার কেউ কেউ ওপাড়ের জীবনটাকে চেখে দেখবে বলেও তোমাকে চায় !
সেই চাওয়াতে আমার বিন্দুমাত্র অশ্রদ্ধা নেই। বরং প্রশ্ন জাগে তাদের কাছে যারা তোমাকে ভুলে থাকে- তারা বুঝে না যেদিন তারা অনুভব করবে যে তাদের চলে যেতেই হবে, তখন তারা কতোটা আন্তরিক হবে তাদের জীবনটা নিয়ে, জীবনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষগুলো নিয়ে। আর তাইতো আজ তোমাকে নিয়ে ভাবতে বসা। কতোটা চাইছি তোমাকে মন থেকে, কতোটা গুছিয়ে নিয়েছি নিজেকে ওই জীবনের জন্য …… এতো অফুরন্ত সময় কি মিলবে আমার আর তোমাকে নিয়ে ভাবার!
ভালো থাকুক এই জীবন, ভালো থাকুক এর ব্যস্ততা ।
অপেক্ষায় তুমি আর আমি…… ভাগ্যের নিরব ইশারার।
ইতি
মৃত্যু পথযাত্রী এক নির্বাক মন
উড়োচিঠি -২ এর মতো মজাদার হয় নি, যমদূত মজাদার হয় না তাই হয় তো। কিন্তু, মজাদার করেও তো দেখা যায় তাই না? পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে, এতে অত হিসাব নিকাশ আর দীর্ঘশ্বাসের কি আছে? একটু স্বাধীনভাবে চিন্তা করি না কেন নিজেকে?
বুঝতে পারছি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদেরকে হাসতে ভুলিয়ে দিচ্ছে। লিখতে থাকুন।
আসলে মৃত্যু ভাবনা নিয়ে মজার কিছুই লিখতে চাইছিলাম, কিন্তু ঘুরে ফিরে মন খারাপের দিকে চলে গেলো !! 🙁
তাছাড়া দেখাতে চাইছিলাম এমন মুমূর্ষ এক অবস্থা থেকে যখন মানুষ হাসি মনে মৃত্যুটাকে ডেকে নেয়, অপেক্ষায় থাকে তার। ফোটাতে পারি নি বোধহয় …… :opps:
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য… 🙂
🙁 🙁
🙁 🙁
হুম … বুঝতেসিনা কি লিখব… ভালোই তো লাগলো লিখাটা :guiter:
আমি বুঝতে পারতেছিনা কি বলবো……
ধন্যবাদ পড়বার জন্য… 🙂
সবচেয়ে অবশ্যম্ভাবী সত্যটাকে সবচেয়ে সহজ করে ভুলে থাকি আমরা… 🙁
ঠিক তাই আপি, আর তাই একে মনে করিয়ে দেবার ক্ষুদ্র চেষ্টা… 🙁
ভালো লাগলো।
🙂