অসমাপ্ত. . . .

মাঝ রাস্তায় ঠিক ল্যাম্পপোস্টটার একটু পাশেই আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সোহান। আকাশে আজ চাঁদ নেই, কয়েকটা বিচ্ছিন্ন তারা। কিছুক্ষণ আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে, আকাশ তাই কিছুটা পরিষ্কার। বিকেলে যেমন মেঘ করেছিল এখন আর সেটা নেই। ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন আলোতে চারপাশে কেমন একটা ভূতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোহান আনমনা। দূরে একটা কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। নাহ একটা না, বেশ কয়েকটা। সোহানের দিকেই আসছে বোধহয়। কুকুরদের সেন্স খুব উন্নত। এলাকায় একটা অপরিচিত মানুষ ঢুকলেই তারা কিভাবে যেন টের পেয়ে যায়। আচ্ছা কুকুরদের এই বিশেষ শক্তি থাকার কারণ কি? মানুষের মধ্যে কি এই ব্যাপারটা আছে? তাদের চারপাশে যখন নতুন মানুষের ছড়াছড়ি থাকে তখন কি সেও কুকুরের মত বুঝতে পারে? একটা অপরিচিত মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি কি মানুষও সন্দেহের চোখেই দেখে? কি জানি? মাঝে মাঝে তো মনে হয় দেখেই। প্রেমিক যখন শুনতে পারে প্রেমিকার নতুন বন্ধুর কথা তার মনেও কি একটা ভয় একটা সন্দেহ উঁকি দেয়? অথবা প্রেমিকা যদি জানতে পারে প্রেমিক আজ নতুন একজনের সাথে কথা বলে এসেছে? স্বামীর অফিসে নতুন কলিগ মেয়ে হলে কি স্ত্রী’র চিন্তা আগের চেয়ে বেড়ে যায়? এই ব্যাপারগুলা কি সহজাত? নাকি সবার হয় না? সোহানের মাথা ঘুরছে। সে এত আবোল তাবোল চিন্তা করছে কেন? মাঝে মাঝে তার মনে হয় এত চিন্তা করা ঠিক না, অন্তত নিজের জীবন ছাড়া বাকিদের নিয়ে চিন্তা করাই অর্থহীন। কারণ তাদের জীবন তো সে জানে না, তাদের রাস্তাও তার অচেনা। একটা মানুষ কেন কি চিন্তা করে কোন কাজ করে সেটা আরেকটা মানুষ কোনদিনও বুঝতে পারে না। নাহ সোহান আর পারছে না, অযথাই চিন্তা করছে। মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখার বৃথা চেষ্টা। মস্তিষ্ক ধরে ফেলেছে সোহান যে আসলে চিন্তা করতে চাইছে না এসব ব্যাপারে, তার মন আজ অন্য কোথাও পরে আছে। অনেক দূরে। সোহান চোখ থেকে চশমাটা খুলে আস্তে করে রাস্তায় ফেলে দেয়, আজ এভাবেই হেঁটে যাবে সে। চিন্তার ডানা কেটে দিয়ে শুধু হেঁটে যাবে।

ঐন্দ্রিলার মা মারা গিয়েছিল পাঁচ বছর আগে, ঐন্দ্রিলা তখন মাত্র ইন্টার পাশ করল। কোন দূর্ঘটনা না, একদম সুস্থ সবল মানুষটা একদিন ভোরে দেখা গেল আর কথা বলছে না। ঐদিনের পর থেকে জাফর সাহেবের সংসারে আসলে ভালো দিন বলতে কিছু ছিল না। একমাত্র মেয়ে ঐন্দ্রিলা যে কি না বাবা বলতে পাগল ছিল সেও আর তার সাথে কথা বলতে চাইত না। সেইদিন হঠাৎ কি মনে করে ঐন্দ্রিলা জাফর সাহেবের রুমে এসে বসল।
“বাবা কিছু কথা ছিল তোমার সাথে।”
“বল মা। কি কথা? টাকা পয়সা লাগবে?”
“নাহ তেমন কিছু না।”
“হুম, বল মা।”
“আমার যে এই বছর অনার্স কমপ্লিট হয়ে যাচ্ছে তোমার কি মনে আছে বাবা?”
“কি বলিস মা? শেষ! তুই না ঐদিন ভার্সিটিতে ভর্তি হলি? এত তাড়াতাড়ি? …. ওহ নাহ, প্রায় পাঁচ বছর তো হয়েই গেল।”
“আমার ইচ্ছা আমি অনার্স শেষ করে সাথে সাথেই বাহিরে চলে যাবো।”
“হুম যাবি, তো সমস্যা কি? স্কলারশীপের জন্য অ্যাপ্লাই কর।”
“নাহ বাবা, আমি স্পাউস ভিসায় যাবো। তুমি তুহিনকে চিনতে তো? ঐ যে লম্বা মত্ন ছেলেটা? আমাকে প্রায়ই বাসায় দিয়ে যেত?”
“হ্যাঁ মা। আর বলতে হবে না। বুঝতে পেরেছি। তা আমাকে কি করতে হবে?”
“পালিয়ে বিয়ে করাটা এখন আসলে যায় না বাবা। আর তাছাড়া এতে তোমার জন্যও খারাপ। আমি চাইছিলাম আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা যদি করতে। ওর বাবা-মা আসবে কিছুক্ষণের মাঝে, তুমি তাহলে হ্যাঁ বলে কিছু দিনের মধ্যেই সব ব্যবস্থা করে ফেল।”
“আচ্ছা মা, উনারা আসলে আমাকে ডেকে দিস।”

তুহিনের বাবা-মা কে জাফর সাহেবের পছন্দ হয় নি। তুহিন ছেলেটাকেও সে পছন্দ করে না। একটা বাইক নিয়ে যখন তখন তার মেয়েকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে যেত, এটা কখনই পছন্দ ছিল না তার। কোনদিন বাসায় এসে বসে তার সাথে কথাও বলে নি। সোহান ছেলেটাকে ভালো লাগত জাফর সাহেবের। সোহানও ঐন্দ্রিলার বন্ধু। মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে ঘরে ঢুকেই সালাম দিয়ে বলত “খালু কেমন আছেন?” এরপর জগতের সব কিছু নিয়ে আলোচনা। কখনও ঐন্দ্রিলা বাসায় না থাকলেও সোহান আসত, তার সাথে দাবা খেলত। তবে সোহানের সবচেয়ে ভালো দিক ছিল বোধহয় ওর চোখের হাসি। “চোখ আবার হাসে নাকি খালু?” যতবার সোহানকে ওর চোখের হাসির কথা বলেছে জাফর সাহেব ততবার সোহান এই কথা বলেছে। কিন্তু জাফর সাহেবের বিশ্বাস সোহান যেদিন তার ঐ ক্যাবলা মার্কা চশমাটা ফেলে দিবে সেদিন সে কেন সবাই তার চোখের হাসি দেখতে পাবে।

ঐন্দ্রিলাকে দেখতে সুন্দর লাগছে খুব। একেবারে পরীর মত। ঐন্দ্রিলা নিজেও খুব খুশি। তার এই দেশে আর ভালো লাগে না। চারপাশে কেমন যেন একটা দম বন্ধ করা অনুভূতি। মা মারা যাওয়ার পর তার জীবন আরও ওলট পালট হয়ে যায়। বাবাকে আর আগের মত ভালো লাগে না। নতুন নতুন সব বন্ধু এসে জোটে। স্কুল-কলেজের ঐন্দ্রিলা আর ভার্সিটির ঐন্দ্রিলা যেন আকাশ আর পাতাল। চোখে গোল চশমার বদলে কন্টাক্ট লেন্স এসেছে। বই পড়ার অভ্যাস তো শেষ সেই কবেই। তুহিনের সাথে বাইকে ঘুরে বেড়ানো আর রোজ বাইরের দেশের স্বপ্ন দেখা। এই তো জীবন। বাবা তো বোকা, সে চাইলেই আরেকটা বিয়ে শাদী করে আরামাএ থাকতে পারতো। কি সুখে যে করলো না কে জানে? তার আচার আচরণ ভালো লাগে না আর ঐন্দ্রিলার। বাবা মনে হয় তুহিনকে পছন্দ করে নাই, তার পছন্দ সোহানকে। বাবার চিন্তা ভাবনাই ক্ষ্যাত। তুহিনকে বাদ দিয়ে সে সোহানকে কিভাবে পছন্দ করে? তবে সোহান ছেলেটা যে খারাপ তা না। কিন্তু কই তুহিন আর কই সোহান। তাছাড়া সে তুহিনকে ভালোবাসে সোহান কে না। এটা ঠিক যে সোহান সব বিপদের সময় ওর পাশে এসে দাড়িয়েছে, তার মানে তো এই না যে ওকে ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসার সংজ্ঞা ঐন্দ্রিলার কাছে ভিন্ন। তুহিন মানে তার কাছে ভালোবাসা। তুহিন মানে কানাডায় গ্রীন কার্ড নিয়ে টৈ টৈ করে ঘুরে বেড়ানো।

ঐন্দ্রিলার বিয়ে আজ। জাফর সাহেব আয়োজনের কমতি রাখেন নি। বাসা ভরা মেহমান, আশেপাশের সবাইকে তো দাওয়াত করেছেনই আরও আছে গ্রামের বাড়ির মানুষজন। তার প্রতিটা মুহূর্ত ব্যস্ততায় কেটে যাচ্ছে। অনেক বছর পর আজকে বাড়িতে একটা উৎসব উৎসব ভাব। ঐন্দ্রিলার মন ভালো না। কোন এক অদ্ভুত কারণে তার মন ভীষণ খারাপ। হতে পারে সেটা তুহিনের কারণে অথবা সোহানে কারণে অথবা হয়তোবা বাবার কারণে। কিন্তু সে বুঝে উঠতে পারছে না কারণটা কি। প্রথমত হঠাৎ ঐন্দ্রিলার মনে হচ্ছে তুহিন তাকে ভালোবাসে না আর তার একটা ধারণা তুহিন তাকে বিয়ে করতে আসবে না। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে সোহান তাকে একটা চিঠি লিখেছে আর সেটা পড়ে তার মনে হয়েছে সোহান তাকে ভালোবাসে। আর বাবা বোধহয় কোন কারণে ঐন্দ্রিলার বিয়েটা হোক চাচ্ছেন না, হয়তো মেয়েকে একেবারে হারাতে চাইছেন না। ঐন্দ্রিলা বুঝতে পারছে না তার মন খারাপের কারণটা কী? ঐন্দ্রিলা তার সেলফোনটা হাতে নেয়, তুহিনকে ফোন করে একটা। বার কয়েক রিং বাজে। তুহিন ধরে না। আবার ফোন দেয় সে। এবারও ফোন বাজে কিন্তু তুহিন ফোন ধরে না। পরের বার একটা নারী কন্ঠ বলে উঠে, “দুঃখিত এই মুহূর্তে আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বরটিতে…” আর শুনে না ঐন্দ্রিলা। ফোনটা আস্তে করে কেটে দেয়। তার ধারণা সত্যি হতে চলেছে। তুহিন আসবে না। বাবাকে বলা উচিৎ তার পুরো ব্যাপারটা। আচ্ছা সোহানকে একটা ফোন দেওয়া যায়? নাহ, ঠিক হবে না। আবারে ভাবে ঐন্দ্রিলা। সে জাফর সাহেবকে ডাকতে তার রুমে চলে যায়।

সোহান ঐন্দ্রিলাকে একটা চিঠি লিখেছে। তার ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে প্রতিটি ভাবনা। শুরুতে সোহান ভেবেছিল কিছুই বলবে না ঐন্দ্রিলাকে কিন্তু জাফর সাহেব জোর করলেন। বাধ্য হয়ে লিখতে হলো সব কথা। সেই শুরুর দিন থেকে আজ পর্যন্ত। চোখের উপর রোদ পরা থেকে শুরু করে, সন্ধ্যার আবছায়ায় ঐন্দ্রিলাকে দেখতে কেওম্ন লাগত, প্রতিদিন ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে তার চিন্তা ভাবনা, সব লিখে দিয়েছে সে একটা চিঠিতে। যদিও জাফর সাহেব চিঠিটা দেখতে চেয়েছিল কিন্তু সে তাকে দেয় নি। তাছাড়া সোহান নিজে এই মুহূর্তে এই ব্যাপারটা নিয়ে খুব বেশি ভালো বোধ করছে না। কারণ ঐন্দ্রিলা নিজের পছন্দে বিয়ে করছে এখানে সে কেন এই কাজ করবে? কিন্তু জাফর সাহেব তাকে মোটামুটি প্ররোচনা দিয়েছে। নাহ, চিঠিটা লেখার পর সোহান আরও দূর্বল হয়ে পরেছে ঐন্দ্রিলার প্রতি। প্রথমে ঐন্দ্রিলার বিয়ে মেনে নিতে কষ্ট হয় নি তার কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সম্ভব না। কোন এক অজানা কারণে তার আর ভালো লাগছে না। বের হয়ে পরে সোহান। উদ্দেশ্য ঐন্দ্রিলার বাসা।

 

ঐন্দ্রিলার বাসায় প্রচন্ড ভিড়। ভিড় থাকাই স্বাভাবিক আজ ঐন্দ্রিলার বিয়ে। কিন্তু মানুষজন কই আনন্দ ফূর্তি করবে তা না কিন্তু তারা সব থম মেরে বসে আছে কেন? সোহান ভেবে পাচ্ছে না কি হয়েছে। সে সোজা জাফর সাহেবের ঘরে চলে গেল। জাফর সাহেব বিছানায় বসে আছেন, ঠিক তার পায়ের কাছে ঐন্দ্রিলা বসে আছে। কিছু একটা হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু কী? এই বিয়ের দিনে কী এমন হতে পারে? সোহানকে জাফ সাহেব ইশারা দিয়ে বসতে বলল। ঐন্দ্রিলা মাথা তুলে সোহানের দিকে তাকালো আর তারপরই হাউ মাউ করে কেঁদে উঠল।

তুহিন মারা গেছে। বিয়ের জন্য সব ঠিক ঠাক করে বসে ছিল, হঠাৎ তুহিনের মনে পরেছে সে ঐন্দ্রিলাকে বিয়ের দিন পাঁচটা গোলাপ দেবার কথা বলেছিল, যা সে বেমালুম ভুলে গেছে। বাসায় সবাই মানা করেছিল, বলেছিল অন্য কেউ এনে দিক কিন্তু তার কথা হচ্ছে সে ঐন্দ্রিলাকে কথা দিয়েছে তার কথা সে রাখবেই। তার বাইকটা নিয়ে বের হয়ে পরল। মাঝ রাস্তায় একটা মাইক্রোর সাথে ধাক্কা খেয়ে লেনের গায়ে গিয়ে ধাক্কা খায় তুহিন, আঘাতটা মাথায় লাগে আর স্পট ডেথ। সোহান সব শুনে আর বসে থাকতে পারলো না। ঐন্দ্রিলাকে সে ভালোবাসে ঠিকই কিন্তু বোধহয় তুহিনের চেয়ে বেশি না। ওর নিজেকে খুব ছোট লাগছে খুব ছোট। সোহান আস্তে করে রাস্তায় বের হয়ে পরে। হাঁটতে থাকে সে। কিছুক্ষণ আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। নিয়ন বাতির আলোয় হাঁটতে থাকে সে। মাঝ রাস্তায় দূরে আরেকটা ল্যাম্পপোস্ট দেখা যাচ্ছে।

অক্ষর সম্পর্কে

স্বপ্নবাজ মানুষ একজন। আশাবাদ আর নিরাশার দোলাচালে আশাকেই শেষ পর্যন্ত সঙ্গী করতে চাই। আর স্বপ্ন দেখি একদিন দেশের জন্য কিছু করার, স্বপ্ন দেখি ছোট্ট করে হলেও কিছু একটা করার যা একটা প্রজন্মের গতিপথ পরিবর্তন করবে এবং অবশ্যই সেটা যেন হয় ইতিবাচক কোন পরিবর্তন। এখন পড়াশোনা করছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে। গণনা যন্ত্রের উপর পড়াশোনা করছি ঠিকই কিন্তু যন্ত্র শব্দটাই আমার কাছে বিরক্তিকর। ফেসবুক লিঙ্ক- www.facebook.com/akkhar21
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে গল্প, সাহিত্য-এ এবং ট্যাগ হয়েছে স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

16 Responses to অসমাপ্ত. . . .

  1. অনুজ বলেছেনঃ

    মাঝে মাঝে রাতের নিঃশব্দতাকে সাথী করে সোডিয়াম বাতির আলোয় পিচে ঢাকা পথে হাঁটতে থাকি। নির্দয় শহর নিঃশব্দতাকেও যে খুব একটা আমার কাছে ঘেষতে দেয়, তা নয় মোটেও। তবে যতটুকু থাকে, আমার জন্যে তাই সই! হাঁটতে হাঁটতে মাঝে মাঝে দু’একটা আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট চোখে পড়ে। এককালে ওরাও আলো ছড়াত। কিন্তু এখন আছে কেবল পুরোনো দিনের স্মৃতি হয়, নতুনদের সামনে পথ প্রদর্শক কিংবা The Coller হয়ে!

    মন খারাপ করে দেয়া গল্প! 🙁

  2. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    চমৎকার! অন্য কিছু ভাৰছিলাম
    Keep it up

  3. তরঙ্গ বলেছেনঃ

    “ঐন্দ্রিলাকে সে ভালোবাসে ঠিকই কিন্তু বোধহয় তুহিনের চেয়ে বেশি না।” -গল্পের সারমর্ম।
    মন খারাপ করা গল্প। কিছুটা অবাস্তব। তবে চরিত্র বিশ্লেষন করে মনে হয়েছে, বিয়ের পরে তুহিনের চেয়ে সোহানই ভালো লাইফ পার্টনার হতো। 🙂 সমস্যা নাই, গল্পের প্রয়োজনে সোহান এখনো বেঁচে আছে.. 😉

    • অক্ষর বলেছেনঃ

      ভাইয়া অবাস্তব বলিয়া পৃথিবীতে কিছু নাই। আপনার সামনে হয়তো এটা অবাস্তব কিন্তু কারো জীবনে বাস্তব হতেও পারে। তবে এটা গল্প, সেই হিসেবে অবাস্তব বলা যাইতে পারে। :beerdrink:

      • তরঙ্গ বলেছেনঃ

        আসলে “কিছুটা অবাস্তব” বলতে বোঝাতে চেয়েছিলাম অনেকটা ফিল্মের মতো কাকতালীয় হয়ে গেছে। otherwise পৃথিবিতে সবই সম্ভব। 🙂 :beerdrink:

  4. হৃদয় বলেছেনঃ

    শেষের টুইস্টটা গল্পটাকেই অন্য লেভেলে নিয়ে গেল! শেষ প্যারা পড়ার আগে, আমারও মনে হচ্ছিল, বেচারা তুহিন হয়তো ‘ মিস্টার হিপক্রিট’ টাইটেল নিয়ে, জনাব সোহানের ক্যাবলা মার্কা চশমা পার্মানেন্টলি ফেলে দেয়ার রাস্তা ক্লিয়ার করে দিল। 😛
    কিন্তু, এইডা কি! 😯 এইডা আর কিছুই না, লেখকের মুন্সিয়ানা!! 8) ঐ এক প্যারা দিয়েই লেখক পাঠকের ঠিক জায়গায় নাড়া না যাকে বলে ঝাঁকি দিয়েছেন! :fire:

    বিয়োগাত্মক লেখার অনবদ্যতা কোন জায়গায় জানিস অক্ষর? পাঠক অনুভব করে পড়লে, এই ধরণের লেখাগুলোর আঁচড় মনে অনেকদিন রয়ে যায়…

    মন খারাপ করা লেখা, কিন্তু কমেন্ট পড়ে যাতে হাসিস সেই সিস্টেম করে দিলাম। :guiter:
    মন্দ কি! :balancin:

  5. শারমিন বলেছেনঃ

    শেষটা ভালো ছিল
    আর বেশ ভালো লিখা কিন্তু মন খারাপ করা 🙁 :haturi:

  6. রুহশান আহমেদ বলেছেনঃ

    পড়ার পর কিছুক্ষন চুপ করে বসেছিলাম…
    আসলেই শেষের টুইস্টটা মারাত্নক ছিল,

    তবে আমার কেন জানি মন খারাপ হয়নাই লেখাটা পড়ে।

    যাই হোক, কয়েক জায়গায় দাড়ি-কমা মনে হল মিসিং, এটা একটু দেখবেন।

    শুভকামনা সবসময়…

  7. স্রোতস্বিনী বলেছেনঃ

    পুরো থম মেরে গিয়েছি রে…
    এতোটা মন খারাপ না করে দিলেও পারতি… 🙁 🙁

  8. মাধবীলতা বলেছেনঃ

    গল্প লেখার হাত ভালো তোমার। ভালো লাগল। জীবনটা পুরাই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ভরা থাকে বোধ হয়।

  9. মন খারাপ করা সুন্দর 🙁

  10. মুনীরা মারদিয়া বলেছেনঃ

    সবগুলি ক্যারেক্টার ডিটেইলিং বেশ ভাল্লাগছে ।তুহিন এর কোন বর্ণনা আগে পাওয়া যায় নাই, পরে দিছো একদম । জানা গেল, সে আসলে কেমন ছেলে ছিল ।টুইস্টটা ভাল্লাগছে । তবে গল্প পড়ে মনে হইছে, একটু হয়ত তাড়াহুড়া করে লেখা । ঘটনাগুলো বেশী দ্রুত ঘটে গেছে একের পর এক ।
    কাহিনী ভাল্লাগছে । 😀

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।