অনুভূতি লিখন: সরব স্বর- ”জ্ঞান জ্যাম- “জ্ঞান” এর অ আ ক খ”

অনেকদিন পর দুই বন্ধুর মধ্যে সাক্ষাৎ। স্বাভাবিকভাবেই ‘আবগে কাইন্দালছি’ টাইপ অবস্থা। তাদের মধ্যে কথোপকথন:

আসিফ: তা দোস্ত পড়াশুনার কি অবস্থা? তুই তো আইটি নিয়ে পড়ছিস, তাই না?

অর্ক: হুম। এই পড়ছি আর কি…

আসিফ: গুড! পড়াশুনা ছাড়া আর কি করিস?

অর্ক: আরেহ, পড়াশুনা বাদে বাকি সব করি। হে…হে। আমি একজন ইভলুশ্যানরি বায়োলজি এক্সপার্ট!

আসিফ হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না। আইটিতে অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ুয়া তার বন্ধু বলছে সে একজন ইভলুশ্যান বায়োলজি এক্সপার্ট! তার মুখ থেকে বিস্ময়ে একটা কথা-ই বেরুলো- ‘কস কি মমিন!’

অর্ক: মমিন মিথ্যা বলে নাই বন্ধু! ডারউইনের ‘অরিজিন অফ স্পিসিস’ বলিস, কিংবা ডাউকিনসের ‘সেলফিশ জিন, ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’, জেরি কয়েন, স্টিফেন জো গোল্ড, সব গুলে খেয়েছি। প্যালেনটোবায়োলজি নিয়ে আমার আগ্রহ আছে। বিবর্তন নিয়ে যত পড়েছি তার দশভাগ আইটির জন্য দিলে…

আসিফ একটু দ্বিধায় পড়ে গেলো; সে মাইক্রোবায়োলজির ছাত্র, ইভলুশ্যান নিয়ে দুই ক্রেডিটের কোর্স পড়ে এসেছে। অর্ক যাদের নামগুলো বললেন, তাদেরকে ঐ ফিল্ডের গুরু বলা যায়। অর্ক বোধয় তাহলে সত্যি-ই এক্সপার্ট! -‘কস কি মমিন?’

 

আমরা দুই বন্ধুর কথোপকথনটি এখানেই ইতি টেনে নিচ্ছি, ওরা গল্প করতে থাকুক। আমরা এখন মূলপ্রসঙ্গে ঢুকে যাবো! আমরা একটু আসিফের দু’বার বলা ‘কস কি মমিন!’ বাক্যের এক্সপ্রেশান দুটি বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিতে ভেবে দেখি- যখন অর্ক শুধুই বলেছে সে ইভলুশ্যানরি বায়োলজি এক্সপার্ট, অর্কের দাবীকে নিতান্তই অমূলক মনে ঠেকেছিল (‘কস কি মমিন!’ ব্যাঙ্গার্থক অর্থে) কিন্তু পরবর্তীতে অর্ক যখন কিছু অথেনটিক রেফারেন্স বললো, তখন আসিফ অনেকটা বিশ্বাস করে নিয়েছে, আসলেই অর্ক অনেক জানে! (‘কস কি মমিন’ বিস্ময় মিশ্রিত বিশ্বাসে ভরপুর!)

তবে জানাটাই শেষ নয়, সে যদি এখন আপনাকে শুনায়, অর্কঃ শুনছস মনে হয়, ইদানিং সায়েন্টিস্টর XNA নিয়া ফাল পারতাছে কিন্তু এইটা কি জানস, ২০০ বছরের মধ্যে ম্যাক্সিমাম অর্গানিজমের DNA মাইক্রোইভল্যুশনের মাধ্যমে এমনিতেই XNA হইয়া যাইবো। এই প্রসঙ্গে কিন্তু আরেকটা ‘কস কি মমিন আসে’! 😛  তবে এখানে আর ‘কস কি মমিন!’ হলে চলবেনা। সে নিজেকে এক্সপার্ট দাবী করার জন্য কিছু নাম আর কটমটে টার্মিনোলজি ছিটালে হয়তো আপনার আমার কিছু যাবে আসবেনা। কিন্তু, সে যদি কোন একটা ‘ফ্যাক্ট’কে সামনে নিয়ে আসে। আর তা যদি আপনার জানার বাইরে, কিংবা চিন্তা করে যদি ‘কেমন কেমন লাগে’, তখন অবশ্যই তাকে প্রশ্ন করতে হবে। প্রশ্ন করতে হবে তার কথা পেছনে যুক্তিগুলো কী? দেখতে হবে যুক্তিগুলোর ভিত্তি কী? সেই ভিত্তি কতটা শক্ত? এভাবেই কিন্তু আপনার ব্যাক্তিগত জীবনে ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং এর অনুশীলন শুরু হতে পারে।

ততক্ষণে জমে উঠেছে [সরব স্বর] “জ্ঞান জ্যাম – “জ্ঞান” এর অ আ ক খ”। স্পীকার নুরুদ্দিন আহমেদ বাপ্পি এক্সট্রা দশ মিনিট সহ চল্লিশ মিনিট কথা বললেন। এবং তার কথার অদৃশ্য ইঞ্জেকশানে অংশগ্রহণকারীদের মাথায় হয়তো ঢুকিয়ে দিয়েছেন দারুণ কিছু চিন্তার খোঁড়াক।

তার শেষ থেকেই শুরি করি। পুরো স্পীচটা যে তিনটা বিষয়কে ফোকাসে রেখেই আবর্তিত, সেগুলো হলো-

১) জ্ঞানোৎপাদন (Knowledge production)

২) আলোচ্যসূচি নির্ধারণ (Agenda setting)

৩) জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া। (Knowledge dissemination)

 

জ্ঞানোৎপাদন (Knowledge production):

সন্ধিবিচ্ছেদ করলে দাঁড়ায় জ্ঞান+উৎপাদন। জ্ঞানোৎপাদনের উৎসগুলো কি হতে পারে? বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডাস্ট্রি, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, ল্যাব (সরকারী কিংবা অন্য অর্থায়নে চালিত)। বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডাস্ট্রি, ল্যাবে জ্ঞানের চর্চা ঘটে, জ্ঞানোৎপাদন ঘটে থাকে। থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টার্মটা নতুন। এ প্রসঙ্গে বলা যায়- এরা মূলত পলিসি মেকার; কোন অর্গানাইজেশন, পলিটিকাল পার্টি, কিভাবে চলবে, কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে কাজ করবে সেগুলা নির্নয় করে। তাই এর মাধ্যমেও জ্ঞানোৎপাদন ঘটে থাকে।

 

জ্ঞানোৎপাদনের আবার তিনটি অংশ আছে।

-রিসার্চ (Research)

-পিয়ার রিভিউ প্রসেস (Peer review process)

-পাবলিকেশান (Publication)

এই ব্যাপারগুলো কেমন?

গবেষকরা গবেষনা (Research) করে কিছু একটা আবিষ্কার করেন। সেটা তারা পেপার লিখে আন্তর্জাতিক জার্নালে পাঠান। সেখান থেকে ওই বিষয়ে বিদগ্ধ লোকেরা গবেষনাটিকে নানাভাবে যাচাই (Peer review process) করার পরই সেটা জার্নালে প্রকাশ পায় (Publication), এবং ফ্যাক্ট হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করে।

এক্ষেত্রে জ্ঞানের শুদ্ধতম সঞ্চারণ ঘটে থাকে। কারণ গবেষণাটির যাচাই (Peer review process) এতোটা সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা (Scrutinizing) হয় যে, ভুলের অবকাশ থাকে না! তাই এক্ষেত্রে বলা যায় সবচাইতে অথেনটিক সোর্স হচ্ছে জার্নাল!

এখন আমরা আমজনতা কিভাবে কোন তথ্য সাধারণত গ্রহণ করি, তার প্যাটার্ন-টা এভাবে বুঝানো যেতে পারে।

ধরুন, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সাইকোলজির একদল গবেষক তুলনামূলক বেশি লাইক দেয়া ফেইসবুক ইউজারের ১০০০জনের উপর কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন ৫০জন মানসিকভাবে অসুস্থ! কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক (হয়তো ভুলক্রমে) সাংবাদিক ‘ফেইসবুকে যারা লাইক দেন তারা সবাই মানসিকরুগী!!’ এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেল, আপনি আমি সেটাই বিশ্বাস করবো/করছি! আগে প্রতি মিনিটে-মিনিটে লাইক দেয়া ইউজার হয়তো ‘লাইক-বাটনের’ আশেপাশে কার্সারটা নাড়া-চাড়া করে ‘লেফট-বাটনটা’ ক্লিক করবেন না। হাসি পাচ্ছে? কিন্তু ফ্যাক্ট এটাই! আমরা কয়জন এমন একটা সংবাদ পড়ার পর তার অথেনটিসিটি নিয়ে মাথা ঘামাবো? কেউ যে অথেনটিক সোর্সটা খোঁজার চেষ্টা করবেন না, তা বলছি না। অনেকেই করবেন কিন্তু সেই পার্সেন্টেজটা কত? বড়জোর শতকরা ১৫ভাগ মানুষ (তারা সঠিক খবরটা জানবে) বাকী ৮৫ ভাগ মানুষ ভুল জেনে বিভ্রান্ত হচ্ছে! এর ইমপ্যাক্ট কতোটা ভয়াবহ (লাইক দেয়ার ব্যাপারটা একটা উদাহরণ মাত্র, আরও হাজারটা এমন ঘটনা থাকতে পারে) হতে পারে চিন্তা করে দেখুন? এবং খোঁজ নিলে দেখা যাবে এই ৮৫ভাগ বিভ্রান্তের মধ্যে প্রায় সবাই শিক্ষিত মানুষ। তাহলে নির্জলা সেই প্রশ্নের সমুখে দাঁড়াতেই হয়, আমাদের শিক্ষিত হওয়া অর্থহীন!

এইভাবে নিত্য বিভ্রান্ত হচ্ছি সাংবাদিক দ্বারা, গণমাধ্যম দ্বারা, টক-শো দ্বারা। (বলছি না, সংবাদপত্র, গণমাধ্যম যা প্রকাশ করছে তার সব-ই মিথ্যা; হয়তো বেশিরভাগ-ই সত্যি, কিয়দংশ মিথ্যা) কিন্তু আমাদের উচিত তথ্যগুলো (জ্ঞান) একটু ঘেঁটে দেখা, সত্যতা যাচাই করা। নিচের ছবিটি দেখুন।

সবার উপরে মানুষ (জার্নাল) সত্য তাহার উপরে নাই! :p

সবার উপরে মানুষ (জার্নাল) সত্য তাহার উপরে নাই! :p

 

জার্নাল থেকে তথ্যটি সাধরণ মানুষের কাছে পৌছতে কতগুলো ইন্টারমিডিয়েট মাধ্যম পার করতে হচ্ছে। অল্প করে বিকৃত হলেও, লব্ধ বিকৃতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। মধ্যবর্তী মাধ্যমগুলোকে মুছে দেয়া সম্ভব না, সেটা ঠিকও হবে না কিন্তু জার্নালের (অথেনটিক সোর্স) সাথে ইনটেরাকশান বাড়লে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগই থাকে না।

 

২) আলোচ্যসূচি নির্ধারণ (Agenda setting):

জ্ঞানবিকাশের পূর্ণ সফলতা পেতে হলে আলোচ্যসূচি নির্ধারণে (Agenda setting) গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। আলোচ্যসূচি নির্ধারণ (Agenda setting) মানে হলো মিশন, ভিশন, গোল ঠিক করা। একটা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে। নিঃসন্দেহে চমৎকার একটি ব্যাপার। জ্ঞানচর্চার জন্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই জ্ঞানচর্চার, জ্ঞানবিকাশের একটা ভিশন থাকা, গোল থাকা জরুরী। কেবল কাগজে কলমে থাকলেই নয় (যদিও দুঃখের বিষয় অনেকক্ষেত্রে কাগজে কলমেও সেভাবে থাকে না!) চেতনায়, বিশ্বাসে, কাজেও থাকতে হবে এবং সেটাই সবচেয়ে জরুরী। উদাহারণস্বরূপ স্পীকার কোরিয়ার নামকরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, KAIST (Korea Advanced Institute of Science of Technology) এর কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেকগুলো এজেন্ডার মধ্যে একটি হচ্ছে- ‘KAIST was developed to support industrialization as a part of economic development plan.’ তাদের এই এজেন্ডা এবং তাদের প্রচেষ্টার সুফলতা কেবল সাউথ কোরিয়ার নিজ ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি; দক্ষিণ এশিয়াতেও তার দ্যুতি ছড়িয়েছে।
আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তেমন স্পষ্ট কোন এজেন্ডা নাই। তাই রিসার্চ/কাজের সমন্বয় ঘটছে না। হচ্ছে না ওভাবে আসলে বলা যায়, কিছুদিন আগেই নাসার লুনাবায়োটিক্স প্রতিযোগিতায় বুয়েট দারুণ ফলাফল করেছে, ড্রোন তৈরি হয়েছে আরও অনেক চমৎকার কাজ/রিসার্চ হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু পয়েন্ট সেটা না, যে রিসার্চ গুলো হচ্ছে সেটা আমাদের দেশ, দেশের মানুষের জন্য অতটা সুফলতা বয়ে আনছে না। অভিজাত পল্লীর কোন দশ বছরের শিশু হয়তো এখনই এক্সট্রাটেরিস্টেলিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে ভাবছে, কল্পনা করছে কিন্তু তার বাড়ির পাশের বস্তিতে থাকা তার সমবয়েসী ছেলেটি হয়তো এই বয়েসেই চা-বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে, আরেকজন হয়তো রাতে উপোসে কাটছে, অক্ষরজ্ঞানতো ওদের কাছে হয়তো চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো ব্যাপার! এলিয়েন নিয়ে ভাবা, কল্পনা করা দারুণ ব্যাপার কিন্তু ঐ ছেলেটি যদি বস্তিতে থাকা তার সমবয়সীদের কথা এখন থেকেই ভাবতো (পরিবার যদি তাকে শেখাতো এভাবে ভাবতে) তাহলে এই ছেলেটিই হয়তো বড় হয়ে এমন কিছু করতো যার ফলে একই সমবয়েসী শিশুদের মাঝে এতো বৈষম্য থাকতো না, তখন সবাই একসাথে এলিয়েন নিয়ে ভাবতো! এখনও একশ জন মানুষকে একটা লাইনে দাঁড় করালে তেত্রিশ জন মানুষ পাওয়া যাবে যারা নিজের নামটার লিখিত রূপ পর্যন্ত জানে না! তিন ভাগের একভাগ মানুষ মানে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ! রুঢ় বাস্তবতা এটাই। এগুলো নিয়ে তো কাউকে ভাবতে হবে। রোবট বানানো, ড্রোন বানানোর অবশ্যই দারুণ প্রয়াশ কিন্তু দেশের অন্যান্য প্রকট সমস্যাগুলো এভাবে চোখ এড়িয়ে যায়, তাহলে দেশটাকে দেখবে কারা? যদি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থান, এদেশের মানুষএর সামাজিক প্রেক্ষাপট সবকিছু চিন্তা করে (বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এজেন্ডাগুলোও কিন্তু এই ফ্যাক্টরগুলো মাথায় রেখে করা হয়!) তাহলে গবেষণা করার মতো মহতী কাজগুলো যেমন হতো, একই সাথে দেশের চেহারাটাও পাল্টে যেতো, সাথে দেশের মানুষগুলোরও! হ্যাঁ, এখানে কথা আছে, গভমেন্টের উদাসীনতা, দুর্নীতি- অনুকূল পরিবেশতো নেই। অস্বীকার করছি না, কিন্তু তারমধ্যেই কাজ কিন্তু থেমে নেই। উদাহারণ চাচ্ছেন? জফর ইকবাল স্যারকে দেখুন, শাহাজালাল বিশ্ববিদ্যালয়কে উনি নিজের চেষ্টাতেই কোথায় নিয়ে গিয়েছেন, আপনি ঘুরে আসতে পারেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সভবনের পেছেনের দিকে, বায়মেডিক্যাল ফিজিক্সের চর্চা হয় সেখানে। একজন কাচা-পাকা দাড়ির সদা হাস্যোজ্বল মুখের ষাটার্ধো ব্যাক্তিটি শুধুমাত্র নিজের চেষ্টায় দাঁড় করেছেন ডিপার্টমেন্টটি! এতো-এতো লিমিটেশানের মধ্যেও যারা কাজ করার তারা কিন্তু থেমে নেই। সংখ্যাটা আরেকটু বাড়া দরকার।

বাংলাদেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সমান তালে আগাচ্ছে; ক্ষেত্রবিশেষে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিক দ্রুততায় এগুচ্ছে। এর মূলেই রয়েছে সঠিক ‘এজেন্ডা সেটিং’ এবং তা সে লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা।

 

৩) জ্ঞান সম্প্রসারণ (Knowledge dissemination):

আমরা কীভাবে জানি? জানার অনেক মাধ্যম আছে। ছোটবেলায় আমাদের জানার প্রধানতম মাধ্যম ছিলো পাঠ্যবই বা টেক্সটবুক। টেক্সটবুকে যা আছে অকপটে তা পড়তাম, বিশ্বাস করতাম। কিন্তু টেক্সটবইয়ের সবকিছুই কি সত্যি থাকে?! আমরা ধর্মীয় চর্চার মাধ্যম হিসেবে ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোতে যাই। সেখানে উপবিষ্ট ব্যাক্তি (যেমন মসজিদের ক্ষেত্রে ইমাম, গির্জার ক্ষেত্রে ফাদার ইত্যাদি) তারা ধর্মীয় বিষয়ে কথা বলেন আমরা শুনি। শুনে শেখার ব্যাপারটা খুব সহজ, আরামদায়কও বটে। শেখার উপায় হিসেবে ‘শুনে শেখা’র গুরুত্ব নিচের দিকে; কারণ এক্ষেত্রে ভুল অনেক বেশি হয় (‘ভুল শোনা’ ফলস্বরূপ ‘ভুল বোঝা’)। যাহোক, যিনি বলছেন তার সব কি সঠিক (বলছি না, উনি ইচ্ছাকৃত ভাবে মিথ্যা প্রচার করছেন মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে); তাই বলে আমরা কি ভুল জানবো? শুনেই বিশ্বাস করবো? আমরা প্রায়শই জ্ঞানাহরণে পক্ষপাতপূর্ণ আসক্ত (Biased) হই! কি রকম? আমার ‘ক’ নামক ব্যক্তিকে দারুণ লাগে (দারুণ লাগার মতন ব্যক্তি-ই তিনি!) কিন্তু তাই বলে উনি যেটাই বলবেন তার সব সঠিক বলছেন এমন মানসিকতার সংজ্ঞা- পক্ষপাতপূর্ণ আসক্তি। এবং দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, আমাদের মধ্যে এই প্র্যাকটিসটা দৃঢ়ভাবেই প্রেথিত। ‘অমুক তো বদ, সে যা বলবে সেইটাও বদ হবে- তার কথা শোনা যাবে না।‘ ‘আরে উনি-তো বস পাবলিক, উনি কি ভুল বলতে পারেন?’ –মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারেন ভাই (চেতনে, অবচেতনে)। তাই পক্ষপাতপূর্ণ আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে, ক্রিটিকালি চিন্তা করার প্র্যাকটিস করলে, জ্ঞানার্জন, জ্ঞানের সম্প্রসারণ শুদ্ধ হবে, সঠিক হবে।

 

চল্লিশ মিনিট পর দশ মিনিটের একটা রিফ্রেশমেন্ট ব্রেক ছিলো। তার পরেই শুরু হয় গোল হয়ে বসে মুক্তো আলোচনা। প্রশ্ন, প্রশ্নোত্তর, কিছু সমস্যাগুলোর সমাধান কেমন হতে পারে চিন্তা করা সহ সবকিছুই হয়েছিল। সরব ছিল সবাই। মুক্তোআলোচনার সময় সবার হাতে ছিল চায়ের কাপ!  আড্ডার মাঝামাঝিতে আগমন ঘটে একজন অতি দুর্লভ সেলিব্রেটি মানুষ, জাতীয় বোন- কানিজ ফাতিমা ছন্দা ওরফে ফিনিক্স! (পতি সহ আগমন উপস্থিত সবাই বিশেষভাবে পুলকিত হয়, বিশেষভাবে স্পিকার মহোদয়! 😛 )

কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বেরিয়ে আসে মুক্ত আলোচনা থেকে, খোঁজার চেষ্টা করা হয় তার উত্তর। সমাপ্তি ঘটে সরব স্বরের দ্বিতীয় পর্বের। ‘শুধু চিন্তা করলেই হবে না ‘ক্রিটিকালি চিন্তা’ করতে হবে!’ এমন কিছু ভাবনার খোঁড়াক নিয়ে বাড়ি ফেরা।

অনিমেষ ধ্রুব সম্পর্কে

"You've gotta dance like there's nobody watching, Love like you'll never be hurt, Sing like there's nobody listening, And live like it's heaven on.'' অসম্ভব পছন্দ উইলিয়াম পার্কারের এই কথাগুলো! নিজের মত করেই নিজের পৃথিবীটা কল্পনা করে নিতে ভাল লাগে। ঔদাসিন্য,অলসতা শব্দ দুটি আমার সাথে বনে যায়। গভীর মনোযোগ কিংবা অসম্ভব সিরিয়াস মুড আমার কখনোই আসে না। একা অচেনা রাস্তায় অকারণে হাঁটতে ভালো লাগে, মানুষ দেখতে ভালো লাগে, ভাল লাগে কবিতা লিখতে...তবে স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখি আমার চারপাশে থাকা মানুষগুলোর জন্য কিছু একটা করার, দেশকে কিছু একটা দেয়ার। পারব কি-না জানি না, তবুও স্বপ্ন বুনে চলেছি নিরন্তর... http://www.facebook.com/kamrul.h.hridoy.3
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে উদ্যোগ, চিন্তাভাবনা, সচেতনতা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

5 Responses to অনুভূতি লিখন: সরব স্বর- ”জ্ঞান জ্যাম- “জ্ঞান” এর অ আ ক খ”

  1. অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আসতে পারি নি। এই লেখা পড়ে, না আসতে পারার দুঃখ কিছুটা হলেও কমেছে 🙂

    • অনিকেত প্রান্তর বলেছেনঃ

      বাপ্পি’দার স্পীচ বরাবরই অনেক বেশি ইনফরমেটিভ, প্রাণবন্ত। আলহামদুলিল্লাহ্‌ সরব-স্বরে ভাইয়ার স্পীচ দারুণ ছিলো। আমি লেখায় অনেক কিছুই তুলে আনতে পারি নি। সেক্ষেত্রে তুমি আসলে অনেক কিছু মিস করেছো বলতেই হয়। পরেরবার অসুস্থ হলে ‘ইনভিজিবল মাইর’ চলেবে! :p …
      ধন্যবাদ কবি, মন্তব্যের জন্য 🙂

  2. অনাবিল বলেছেনঃ

    চিন্তা-ভাবনাকে এভাবে ব্যবচ্ছেদ করাটা দারূণ লাগ্লো।

ফারাহ্‌ মাহমুদ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।