দ্বিতীয় সভ্যতা- পর্ব:১ (বিজ্ঞান কল্পকাহিনী)

১.
মনিটরে উঁকি মেরে ক্যাপ্টেন বললো, ওরা করছেটা কি?
চিন্তিত মুখে তরুণ-অফিসার ফিনোচ বললো, স্যার, ওরা আমাদের গ্রিড হ্যাক করতে চাইছে।
রাগে ক্যাপ্টেন উলটো ঘুরে দাঁড়ালেন, এতো সহজ! দুই পয়সার রেজিস্টেন্সরা সরকারি গ্রিড হ্যাক করতে চায়!

চোখ-মুখে ক্রোধ বাসা বাঁধলেও কচলাতে থাকা হাতটা তার ভেতরের উত্তেজনাটুকু ঠিকই প্রকাশ করে ফেললো। ফিনোচের ডেস্ক থেকে সরে এলো ক্যাপ্টেন মিলান। গ্রিড কন্ট্রোল-রুমের বিশাল ছাদের নীচে কয়েকশ কর্মীকে নগণ্য লাগছে। মনিটরের উপর হাত চালাবার মৃদু শব্দে সরগরম পুরো এলাকাটা। অফিসার ফিনোচ মনিটরের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পাশেই নীরা তার এসিস্ট্যান্ট। নীরা প্রথমে চোখে চোখে ফিনোচের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিলো এরপর হাত তুলে ক্যাপ্টেনের।

– বলো, কী পেলে?- সরু চোখে তাকালো ক্যাপ্টেন
– স্যার, আমাদের সিস্টেম ওদের একটা নকল গ্রিডের লিংক দিয়েছে। ওরা ওটাকেই আসল ভেবে হ্যাক করে যাচ্ছে। ঐ গ্রিডটার গঠন অনেকটা আসল সরকারি গ্রিডের মতোই। একেবারে নিখুঁদ।
– চমৎকার! আমাদের সাথে পাল্লা দিতে চায়? এতো সহজ! দুই পয়সার… বিরবির করতে করতে ক্যাপ্টেন ঝড়ের বেগে তার পোস্টে চলে গেলো। পুরো কন্ট্রোল রুমে তৃপ্তির আমেজ ছড়িয়ে পড়লো। যেন গ্রিড হ্যাক হওয়া নয়, ক্যাপ্টেনের উপস্থিতিই অধিক সংকাজনক!

২.
কায়া মনিটরের উপর ঝড়ের বেগ তুলে ফেলেছে। ক্যালি তার ঘাড়ে হাত রেখে বললো, কতদূর?
ঘাড়টা একটু এপাশ-ওপাশ করে কায়া বললো, যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই।
ক্যালি তার ফরশা চিকন হাত গুটিয়ে বললো, এই হেয়ালির আবার মানে কি? শুনে তো মনে হচ্ছে স্টাইন সভ্যতার কবর খুঁড়ে বের করেছো এইসব কবিতা।
কায়ার গভীর চোখ দুটো মনিটরে স্থীর হয়ে আছে। মনে হচ্ছে হাতের আঙ্গুলগুলোর উপর ওর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। মৃদু স্বরে আবারো সে বললো, যেখানে দেখিবে ছাই, বুঝেছো মাথা মোটা মেয়ে?
– তোমার মাথা বুঝেছি! মুখ ঘুরিয়ে বললো ক্যালি।
– এবার ঘাড়টা একটু টিপে দাও দেখি? অনেক্ষণ বসে আছি। সাবধানে দিও।
ক্যালি কপালে তিনটা ঢেউ তুলে তাকালো কায়ার দিকে, আমাকে কী মনে হয়? তোমার ইউনিট দিয়ে কেনা রোবট?
– হুঁ
– এইখানে এসব চলবে না। রেজিস্টেন্স তোমার তামাশা দেখার জন্য অপেক্ষা করে নেই।
– হুঁ
– কি হুঁ?
– হুঁ
– যত্তসব, পাগলের কারখানা!
জলোচ্ছ্বাসের মতো ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো ক্যালি। পেছন থেকে শুনতে পেলো কায়ার আওয়াজ, যেখানে দেখিবে ছাই…

স্বিতীয় সভ্যতা
৩.
স্টিমুলির কাপে শেষ চুমুকটা দিলেন সম্রাট তৃতীয় শেন। প্রাচীন পুরানের স্বর্গের মতো করে সাজানো তার বাগান বাড়ি। প্রয়োজনের তুলনায় বিশাল করে বানানো বিশেষ ফ্লোটারে বসে আছেন সম্রাট। মাটি থেকে ফুট দুয়েক উপরে বিশাল বাগানে ভেসে বেড়াচ্ছে সেটা। স্টিমুলি শেষ হবার আগে কথা বলা বারণ। সম্রাট কাপটা নামিয়ে রাখতেই অনুমতি পেলো গভর্নর।
– দ্বিতীয় পৃথিবীর মহান সম্রাট, আপনার আদেশে ইনোলিয়া প্রদেশের সংশোধনের সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সম্রাট নির্বিকার। তার দৃষ্টি এই বারো হাজার একরের পিউপিল বাগান পেরিয়ে দিগন্তে স্থীর হয়ে আছে। দ্বিতীয় পৃথিবীর প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাঝে সম্রাটের এই প্রাসাদ যেন এখনো স্টাইন যুগের অভূতপূর্ব আভিজাত্যকে আগলে রেখেছে। প্রায় এক ফুট উঁচু গাছগুলোয় হাল্কা নীল পাপড়ির কয়েক লক্ষ পিউপিলের সুগন্ধে মাঝে মাঝেই যেন বিভ্রমের সৃষ্টি হচ্ছে। নিশ্চয়ই এই পিউপিলগুলো জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে তৈরি করা। গভর্নর এন্টন তার জন্য বরাদ্দ মনোপডে চড়ে সম্রাটের পিছু পিছু ভেসে চলেছে। সম্রাটের নীরবতায় একটু ইতস্তত করে গভর্নর বললো,
– তিনহাজার প্রদেশের মহান সম্রাট, ইনোলিয়ার বিশ্বাসঘাতক বাসিন্দাদের সমুচিত শিক্ষা দিতে ক্যাপ্টেন মিলানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। হেরাডিমাস যুদ্ধে এই ক্যাপ্টেন সাহসিকতার জন্য আপনার সাক্ষাত পেয়েছিল।

দিগন্ত থেকে চোখ সরালেন না সম্রাট। শতবর্ষ পার করলেও মাঝ-বয়সী ঔজ্জ্বল্যে তিনি এখনো দীপ্তিমান। কথা বললেন তিনি। তার মেঘের মতো কণ্ঠ প্রতিধ্বনী তুললো, ‘যা হবার তা কেউ রুখতে পারে না। আর যা রুখে দেওয়ার তা কেউ হওয়াতে পারে না’।

পিউপিল গাছগুলোয় পাহাড়ি হাওয়া এসে লাগছে। সুগন্ধ আরও প্রকট হয়ে ঘিরে ধরছে গভর্নরকে। সম্রাটের কথার অর্থ কি ছিলো তা জানতে চাওয়া হলো না তার। এর আগেই হাতের ইশারায় সম্রাট তাকে বিদায় জানিয়ে সামনে এগোবার সব অনুমতি বন্ধ করে দিয়েছেন।

৪.
টাইফুন রেজিস্টেন্স বেইসে আজকে জরুরি সভা। এই এলাকার রেজিস্টেন্স লিডার মীরা আজকে উপস্থিত আছে। তার মাথার মূল্য কয়েক কোটি ইউনিট। কোটি ইউনিটের মাথা দুলিয়ে কথা বলা শুরু করলো মীরা।
– প্রিয় রেজিস্টেন্স যোদ্ধারা, গত ছয়মাস ধরে আপনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ইলোনিয়ান রেজিস্টেন্স দাঁড় করিয়েছেন এজন্য আপনাদের অভিনন্দন। ইলোনিয়ান রেজিস্টেন্সকে আমি আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে টাইফুন বেইসের অংশ হিশেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।
হল ভর্তি লোকেদের করতালিতে সভাকক্ষ ভরে গেলো। একটা বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড পানির ট্যাংককে আজকের সভাকক্ষ হিশেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মীরা চালিয়ে গেলো,
– সমৃদ্ধ ইলোনিয়া প্রদেশ সম্রাটের কড়াল থাবায় আজ জ্বরাগ্রস্থ। আমি বিশ্বাস করি ইলোনিয়ার বাসিন্দারা সাহসী এবং স্বাধীনতাপ্রিয়। তাই এই অত্যাচারী সম্রাটের শাসনের বিরুদ্ধে ইলোনিয়ার জয় ছিনিয়ে আনতে আপনাদের কেউ ঠেকাতে পারবে না। টাইফুন বেইস আপনাদের সাথে আছে। যেমনটা আছে আমাদের রেজিস্টেন্স হেড কোয়ার্টার লাইট-হাউজ। লাইট-হাউজের মহান নেতারা আমাকে জানিয়েছেন ইলোনিয়ার বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত হচ্ছে তা ভন্ডুল করে দিতে সক্ষম ইলোনিয়ার সাহসী যোদ্ধারা।
বারংবার করতালির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে সভাকক্ষ।

সাধারণ সভা শেষে আয়োজন হয় বিশেষ সভার। এখানে স্থান পায় শুধু উঁচু শ্রেণির আঞ্চলিক নেতারা। আঞ্চলিক নেতাদের নেতৃত্ব দেন বেইসের নেতারা আর বেইসের নেতাদের নেতৃত্ব দেয় লাইট-হাউজ। লাইট-হাউজ রেজিস্টেন্স কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কিন্তু এটা কোথায় আছে কেউ জানে না। লাইট-হাউজের নেতাদের সাথেও সবাই দেখা করতে পারে না।

আজকে এখানে উপস্থিত আছে সাত জন। রেজিস্টেন্স লিডার মীরা সিগার ঠোঁটে চেপে তাকালো সবার দিকে, কিছু পেয়েছো তোমরা?
কায়া পাশেই ছিলো, হাত বাড়িয়ে সিগারটা টেনে নিলো। লম্বা একটা টান দিয়ে বললো, ছাই পেয়েছি। উড়িয়েও দেখেছি।
– মানে?
– মানে সহজ, ছাই উড়িয়ে অমূল্য রতন পেয়েছি।
ইলোনিয়ান রেজিস্টেন্সের লিডার আলমাক পাশেই ছিলো। মীরার দিকে তাকিয়ে বললো,
– এটা ওর একটা সমস্যা। সব কিছু আগে থেকে খুলে বলতে চায় না।
মীরা অবাক হলো বলে মনে হলো না। স্বাভাবিকভাবেই বললো, আচ্ছা! তাহলে কি সেই রতন কায়া?
কায়া চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মীরার দিকে তাকিয়ে বললো,
– কোথা থেকে শুরু করবো মীরা? শুরু থেকে না শেষ থেকে?
ক্যালি পাশের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। মুখ ঘুরিয়ে বললো,
– মীরা তুমি অনেক কাজ ফেলে আমাদের মাঝে এসেছো এজন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তবে আমাদের সবারই বোঝা উচিত হেঁয়ালি করে তোমার মূল্যবান সময় নষ্ট করা অপরাধ।
মীরা মৃদু হেসে ক্যালির দিকে তাকিয়ে শুরু করলো, ‘আমি যথেষ্ট সময় নিয়েই এসেছি ক্যালি। এমনকি হেঁয়ালির জন্যেও’। শেষ করলো কায়ার দিকে তাকিয়ে।
কায়া টেবিলের সামনে এসে বললো, হেঁয়ালির জন্য যার সময় আছে তার সাথেই তো কথা বলা উচিত।
ক্যালি দাঁড়ানোই ছিলো। কায়ার কথা শেষ হবার পর ওর দিকে তাকিয়ে হেঁটে দরজার বাইরে চলে গেলো। আবার মুখ খুললো আলমাক, যথেষ্ট হয়েছে কায়া। এবার শুরু করো।
– আমি তো সেটাই করছিলাম।
– আমাদের হাতে এসবের সময় নেই।
– আচ্ছা ঠিক আছে বাবা! তাহলে এসো ছাই উড়াই, হা হা হা
– যত্তসব! ঘটনা খুলে বলো
– ঘটনা সহজ। ক্যাপ্টেন মিলানের দল গ্রিডের তথ্য গোপন করছে। আমি কয়েকদিন আগে গ্রিড হ্যাক করেছি।
মীরা চমকে উঠে বলল, কী বললে? তুমি সরকারি গ্রিড হ্যাক করেছো? কি কি তথ্য পেলে??
কায়া সিগারে আরেক দফা টান দিয়ে বলল, অনেক কিছু।
আলমাক অবাক হয়ে বললো, আমি এই রেজিস্টেন্সের লিডার, তুমি তাহলে কখন আমাকে এই কথাটা বলবে?
– তোমাকে দেবার মতো তথ্য ছিলো না
– কেন, তুমিই তো বললে গ্রিড হ্যাক করেছো
– হ্যাঁ, তবে সেটা একটা নকল গ্রিড। ওটা একটা ফাঁদ ছিলো।
মীরা সাগ্রহে বললো, তুমি কি করে বুঝলে?
– আমি আগে থেকেই জানতাম ওরা নকল গ্রিড দেবে। সব ছাই পাশ।
– তাহলে এই তথ্য কোনো কাজের নয়?
– অবশ্যই কাজের। কারণ যেখানে দেখিবে ছাই…
রেগে গেলো আলমাক, আহ্‌ কায়া!
– আচ্ছা বেশ, শোনো। নকল গ্রিড তৈরি করা হয় আসল গ্রিডের অনুকরণে। সেখানে আসল তথ্য থাকে না কিন্তু থাকে আসল গ্রিডের কংকাল। সেই কংকালের উপরে দেয়া হয় নকল রক্ত-মাংস।
মীরা চোখ কপালে তুলে বললো, গ্রিডে রক্ত মাংস এলো কীভাবে?
– এটা একটা রূপক ছিলো। যাই হোক, তোমরাতো জানোই গ্রিড একটা বিশাল প্রোগ্রামের ভান্ডার।
বাকিরা সেটা জানে বলে মনে হলো না,কায়া বলেই চললো,
– গ্রিডের সেই কংকাল পর্যবেক্ষণ করে আমি গ্রিড প্রোগ্রামারদের প্রোগ্রামিং কোড লেখার ধরণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেছি। এই গ্রিড একজনের প্রোগ্রামিং করা।
মীরা বললো, কে সে?
– সে কোনো মানুষ নয়, সে আরেকটা প্রোগ্রাম। একটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
– তাতে আমাদের কি লাভ?
– লাভ আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কারো শত্রুও নয়, বন্ধুও নয়। সে নিরপেক্ষ। আর তাই তার লেখা কোড হয় নিরপেক্ষ। সে চায় ভারসাম্য।
আলমাক এবার নিজেই একটা সিগার ধরিয়ে নিলো, আবার শুরু করলে হেঁয়ালি?
মীরা তাকে বাধা দিলো, ওকে বলতে দাও আলমাক। তারপর?
কায়া উদাসভাবে শুরু করলো,
– এই কোডের মধ্যে কেমন যেন একটা ছন্দ লুকিয়ে আছে, একটা স্পন্দন। যেন এটা আমকে কিছুই একটা বলতে চাইছে।
– মানে একটা লুকানো তথ্য?
– বলতে পারো মীরা।
– সেটা ওদেরই একটা চাল হতে পারে না?
– পারে, তবে এটা সেরকম না। সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভারসাম্য চায়। কেউ খুব বাড় বাড়ুক এটা হয়তো সে চায় না।
পুনরায় দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে গেলো কায়ার। আবার সম্বিত ফিরে পেয়ে সে শুরু করলো,
– আমি ওর কোডের প্যাটার্ন নিয়ে অনেক গবেষণা করেছি। সেখান থেকে ধারণা করেছি আসল গ্রিড ঐ একই প্যাটার্নেই তৈরি হবে। আর তাই আজ সকালে আমি আসল গ্রিড হ্যাক করেছি, ওদের সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে।
ঘরে একটা সরগোল পড়ে গেলো, কায়া বলেই চললো,
– ওরা একটা ভয়ংকর অস্ত্র বানাচ্ছে। এটা একটা বোমা। স্মৃতি বদলে ফেলার বোমা। বোমটা ফাটলে ছড়িয়ে পড়বে বিলিওন বিলিওন ন্যানাইটস। প্রোটিন দিয়ে তৈরি প্রোগ্রাম করা ন্যানাইটস। এরা মানুষের প্রশ্বাসে ঢুকে রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে চলে যাবে। সেখানে সিন্যাপ্সে আদল-বদল করে বিশেষ স্মৃতি মুছে দিয়ে নতুন কিছু স্মৃতি প্রতিস্থাপন করবে। এরা যেহেতু প্রোটিনে তৈরি তাই কাজ শেষে ন্যানাইটসগুলো রক্তের ভেতরেই গলে যাবে। কোনো প্রমাণ থাকবে না।

আলমাক বললো, স্মৃতি বদলে কী লাভ হবে?
উত্তর দিলো মীরা, ‘সম্রাটের সুচরিত্র আর সৎগুণই কেবল সবাই মনে রাখবে। কাউকে আর তার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো যাবে না’। যন্ত্রের মতো শোনালো কথাটা।

কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা নেবে এলো সভাকক্ষে। আলমাক কিছুক্ষণ পায়চারি করলো। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো, আর যদি তোমরা এই কল্পকাহিনী সত্য না হয়?

কায়া আর মীরার মুখ চাওয়া চাওয়ি হলো। কায়া ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল, তাহলে আমিই বোধ হয় সবচেয়ে খুশি হবো।

চলবে…….
সোবহানী সৌরভ

সাইব্রিয়ান সৌরভ সম্পর্কে

আমার আকাশ তারায় ভরা। নিযুত-কোটি তারার আলো আলোকিত করে রেখেছে আমার কল্পনার রাজ্যকে। আমার কল্পনা বিলাসী মন ভালোবাসে নিরন্তর অনুভূমিক কল্পনায় বিভোর হতে। নক্ষত্রেরা যেমন প্রবল প্রাচুর্যে আকাশ দখল করে অবস্থান করে আমার খেয়ালী মন তার পেশাগত গন্ডির বাইরে গড়ে তুলেছে আরেক আকাশ, যেখানে সে তার কল্পনার জাল বিস্তার করে সদর্পে। আমার এলোমেলো মনের বিচ্ছিন্ন ভাবনার অবিন্যস্ত সংকলন আমার লেখাগুলো। যেখানে আমি আমার আমির বাইরে হয়ে উঠেছি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন সৌন্দর্যানুরাগী। যারা আমার লেখা পড়েছেন বা পড়বেন তাদের সকলের জন্য নিরন্তর শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ। বারংবার দেখা হবার আখাংক্ষা রইলো।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে গল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সায়েন্স ফিকশান, সাহিত্য-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

3 Responses to দ্বিতীয় সভ্যতা- পর্ব:১ (বিজ্ঞান কল্পকাহিনী)

  1. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    চমৎকার প্লট। ভালো আগাচ্ছে।

    একটা সমস্যা আছে বলে মনে হলো, এতগুলো টার্ম/ মানুষের নাম/ ইতিহাস মানুষ মনে নাও রাখতে পারে। এই জায়গাটা রিপিট করে করে ইজি করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

    পরের পর্বের অপেক্ষায়।

  2. ধন্যবাদ 🙂
    ঠিকই ধরেছেন। ছোট গল্প হিশেবে অনেক এলিমেন্ট ঠেসে দেয়া হয়েছে এখানে। আসলে সামনের কয়েকটা পর্ব চালানোর মতো রসদ দিতে গিয়ে এটা হয়েছে। পরেরটা আর একটু লুসিড করার চেষ্টা থাকবে।

  3. জ্ঞানচোর বলেছেনঃ

    ভাল। আগ্রহ পাচ্ছি।
    চরিত্রগুলো আশা করি আরো পরিচয় খুলবে সাম্নে।চলুক।

সাইব্রিয়ান সৌরভ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।