জুন 6, 2016

সামিরা'পুর ফুড স্পেশাল সরব আড্ডা

শুধু খেতে হয় বলে খাই নাকি আড্ডা দিতে হয় বলেও? এই তো গেলো শুক্রবারে সামিরা’পুর হাতের রান্না খাবার লোভে অনেক দিন পর সরব পরিবার আড্ডায় সরব হলো সামিরা’পুর মায়ের বাসায়।

এই ফাঁকে বলে রাখি জাকির ভাইয়া বলেছিলেন যে সরব সদস্য সবার আগে আসবে, সে একটা চকোলেট পাবে উপহার হিসেবে। আমি এখনো আমার প্রাপ্য বুঝে পাই নি কিন্তু!

এদিকে সরবরা খেতে আসছে অথচ সকাল থেকেই কিনা সামিরা’পুর বাসায় গ্যাস নেই। টেনশনে সামিরা’পুর নাওয়া-খাওয়া হারাম! অবশ্য বিকালে যখন সরবরা সবাই হাজির, তখন সব খাবার একেবারে রেডি। টেনশন আড়াল করে হাসিমুখে সামিরা’পু পরিবেশন করলেন নিজের হাতে তৈরি পিজ্জা ও কেক। এছাড়াও ছিলো রুহ-আফজা, সেমাই, আইসক্রিম এবং সবশেষে চা।

ওহ্, বলাই হয় নি কোন কোন সরব সদস্য সামিরা’পু্র ফুড স্পেশাল আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন! সবার আগে সামিরা’পুর বাসায় হাজির হয়েছি আমি সেটা তো আগেই বলেছি। আমি কিন্তু দুপুরে সামিরা’পুর সাথেই লাঞ্চ করেছি পটলের চচ্চড়ি আর গরুর মাংস দিয়ে। 😉 প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে হাজির হলেন জাকির ভাই। এপিক ফ্যান্টাসি গেইম অব থ্রোন্স এর বই আর সিরিজ নিয়ে আমাদের আড্ডা শুরু হতে না হতেই চলে এলেন হৃদয় ভাইয়া। হৃদয় ভাইয়া অবশ্য দাবি করেছেন আসার পথে উনার মানিব্যাগটা লাপাত্তা হয়ে না গেলে উনিই নাকি ফার্স্ট হতেন! থার্ড হয়ে বেশ গোমড়া মুখে বসে রইলেন আমাদের বায়োপোয়েট। তাই আমি উনাকে ‘সিউডোফার্স্ট’ ঘোষণা করলাম। হৃদয় ভাইয়া কিনা তাতেই খুশি!

এরপরই এসেছেন অনসূয়া আপু। উনি সরবের একনিষ্ঠ পাঠক। এরপর একে একে হাজির ফয়সাল, সাফির, রাইয়্যান ভাইয়া ও তুসিন ভাইয়া। মাঝে আমাদের আড্ডায় যোগ দিতে এসেছিলেন সামিরা’পুর বোন আর বোনঝি। ওরা অবশ্য বেশিক্ষণ থাকে নি। ততোক্ষণে আড্ডা বেশ সরব সরব হয়ে উঠেছে। আর আমরা একেকজন শিল্প সাহিত্যের বিশাল সমঝদার ও সমালোচক হয়ে উঠেছি। ঠিক তখনই আড্ডা আরও সরব করতে সামিরা’পু উনার স্পেশাল খাবার পরিবেশন করা শুরু করলেন।

পিজ্জা খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিলেন তুসিন ভাইয়া। উনার মতে পিজ্জাটা হয়েছে সবচেয়ে ভালো। সাফিরের সবচেয়ে ভালো লেগেছে কেক। ফয়সালের মতে সামিরা’পু খুব ভালো বেক করতে পারেন। পরে কথায় কথায় জানা গেলো সামিরা’পু বেইক করতে বেশ পছন্দ করেন। কারণ রান্না যদি আর্টস হয়, তবে বেকিং নাকি সায়েন্স! সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সামিরা’পু ভালো বেক করতে পারবেন- এ আর বিচিত্র কী! হৃদয় ভাইয়া বলেছেন সেমাই আর কেকে মিষ্টি হয়েছে পারফেক্ট। (যদিও সেমাই রান্না করেছেন সামিরা’পুর আম্মু)। এদিকে জাকির ভাইয়া বললেন তার কাছে নাকি পানিটাও ঠিক পানি পানি লাগছে। সবই সামিরা’পুর হাতের যাদু! অনসূয়া আপুও খাবারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। সবাইকে অবাক করে রাইয়্যান ভাইয়া বলে বসলেন আইসক্রিমটাই নাকি উনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে!

আড্ডা জমে উঠেছিলো সামিরা’পুর বাসার ড্রয়িং রুমে। উন্মুক্ত আকাশের নিচে আড্ডা জমে ওঠার সম্ভাবনা আরও বেশি বলে সব সরব উঠে এলো বাসার ছাদে। তখনই হৃদয় ভাইয়ার মাথায় এলো দারুণ অদ্ভুত এক গল্প। নামও দেয়া হয়ে গেলো “ইকারাস-সামিরা”। বলাই বাহুল্য, গল্পের প্রধান চরিত্র সামিরা’পু। আশা করি হ্রদয় ভাইয়া খুব শীঘ্রই গল্পটা লেখা শেষ করে আমাদের পড়তে দেবেন।

গল্প থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, এদিকে মাগরিবের আযান দিয়ে দিয়েছে। সামিরা’পুর আম্মু এসে নিচে নামার আদেশ না দিলে আড্ডা আদৌ কখনো থামতো কিনা বলা মুশকিল। আন্টির তাড়া খেয়ে আমরা সবাই নিচে এসে দেখি উনি চা বানিয়ে ফেলেছেন। চা জুড়িয়ে আসছে বলেই এতো তাড়া। চা খেয়ে সরব মেতে উঠলো রিসার্চের গুরুত্ব ও দেশীয় রিসার্চের মান নিয়ে। তখন জানা গেলো হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারেকশন বিষয়ক দারুণ এক রিসার্চে অংশ নিতে খুব শীঘ্রই আমেরিকা পাড়ি জমাচ্ছেন রাইয়্যান ভাইয়া। আর, কমিউনিকেশন নিয়ে পড়তে সামিরা আপুও যাচ্ছেন আমেরিকা। যদিও এতো প্রশংসা পেয়ে সামিরা’পু দ্বিধায় পড়ে গেছেন কমিউনিকেশন পড়তে বিদেশ যাবেন নাকি দেশেই একটা পিজ্জা শপ খুলবেন! আপনাদের কি মনে হয় কী করা উচিত সামিরা’পুর?

2 comments on “সামিরা'পুর ফুড স্পেশাল সরব আড্ডা”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Copyright 2019