জুন 18, 2016

বাংলাদেশ: উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা (প্রথম কিস্তি)

দেশের একজন শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাকে যদি প্রশ্ন করি, কোন খাতে বিনিয়োগ করলে নৈতিক এবং অর্থনৈতিক তথা সামগ্রিক উন্নয়ন হবার নিশ্চয়তা সবচাইতে বেশী, আপনি কী জবাব দেবেন?
আমি মোটামুটি বাজি ধরেই বলতে পারি, অধিকাংশ মানুষ একটু এদিক-ওদিক চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত শিক্ষাখাতের কথা বলেই থিতু হবে। শিক্ষাখাতের মত এত হাই রিটার্ন ইল্ড আর কোন খাত থেকে পাবার সম্ভাবনা আছে কিনা আমার জানা নেই।

আপনি যদি উপরের কথাগুলোর সাথে একমত হন, তবে আপনার কষ্টের উপার্জিত যে টাকা থেকে আপনি কর দেন, আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন, সেখান থেকে শিক্ষাখাতে বেশ ভালো একটা পরিমাণ বিনিয়োগ হোক?
ধরা যাক, আপনি ১০০ টাকাই কর হিসেবে দিয়েছেন। আপনি কি জানেন, সেই ১০০ টাকার কত টাকা শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ করা হবে? কিংবা আপনি কি সত্যিই জানেন, যে আপনার দেয়া কতটুকু অংশ রাষ্ট্রের কোন কাজে ব্যয় হচ্ছে?

নিচের ছবিটাতে দেখানো হয়েছে, আপনি ১০০ টাকা কর দিলে তার কত অংশ রাষ্ট্রের কোন কাজে ব্যয় হবে। দেখা যাচ্ছে, আপনি ১০০ টাকা কর দিলে তার থেকে সর্বোচ্চ ২২.২ টাকাই খরচ হবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতনের পেছনে। আচ্ছা, এই ছবিতে আপনি কোথাও কি শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের কোন ছিটেফোঁটা খুঁজে পাচ্ছেন? আমি অবশ্য খুঁজে পাচ্ছি না।

কোথায় যাবে আপনার দেয়া কর?

                                                             কোথায় যাবে আপনার দেয়া কর?

আচ্ছা যাই হোক, “অনুন্নয়ন বিনিয়োগ” খাত নামে একটা জিনিস আপনার চোখে পড়েছে হয়তবা। আপনি ১০০ টাকা কর দিলে তার থেকে ৭.৬ টাকা খরচ হয় এই অনুন্নয়ন বিনিয়োগ খাতে। আপনার দেয়া করের মধ্য থেকে যে ৭.৬ টাকা অনুন্নয়ন বিনিয়োগ হিসেবে নেয়া হচ্ছে, তার ১% এরও কম টাকা খরচ হয় শিক্ষা খাতে। আপনি ১০০ টাকা কর দিলে, সেখান থেকে মোটামুটি .০০৭৩ টাকা বরাদ্দ হয় আমাদের শিক্ষা খাতের জন্যে।

এই বাইরে রাষ্ট্রের আর যা কিছু আয় আছে, তা থেকে সব মিলিয়ে যে টাকা শিক্ষা খাতের জন্যে বরাদ্দ হয় সেটি আবার তিনটি অংশে ভাগ হয়ে যায়-

  • শিক্ষা মন্ত্রনালয়
  • প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়
  • তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়

শিক্ষা মন্ত্রনালয় যে অংশ পায় সেটা থেকে একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ ব্যায় হয় উচ্চ শিক্ষা খাতে। শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই খরচ হয় প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা খাতে। খরচের পরিমাণের হিসেবে এর পরে থাকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা আর তথ্য ও যোগাযোগ খাত।

এতসব খাতে এত এত টাকা  ব্যায় করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য খুব অল্পই টাকা থাকে। উচ্চ শিক্ষা খাতে যে অতি অল্প পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করা হয়, তারও আবার প্রায় ৮৫ শতাংশই ব্যয় হয়ে যায় শিক্ষক, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি মেটাবার জন্যে। গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যায় করার মত টাকা এরপর আর থাকে না বললেই চলে।

2 comments on “বাংলাদেশ: উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা (প্রথম কিস্তি)”

  1. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন ফান্ডিং দেয়া উচিত, ঠিক তেমনি গবেষণা (R&D) প্রতিষ্ঠানগুলোতেও যথেষ্ট বিনিয়োগ করা উচিত। বাইরের দেশগুলোতে বড় বড় ব্যবসায়ীরা এসব ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করে থাকে। আমাদের দেশে এই খাতগুলোকে, সরকারি বলেন, আর বেসরকারিই বলেন, কোন দিক থেকেই তেমন একটা উৎসাহিত করা হয় না। ফলশ্রুতিতে অনেক মেধাবি শিক্ষার্থী ও গবেষক দেশের বাইরে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন।

    1. আসলে ব্যাপারটা হল, রিসার্চকে মোটিভেট করার জন্যে কোন কালচার তৈরি হয় নি এদেশে।
      প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক, R&D প্রতিষ্ঠান, ব্যক্রিগত উদ্যোগ- রিসার্চের ক্ষেত্রে এগুলোর কোনটাকেই খুব একটা মূল্যায়ন করা হয় না এখানে। বরঞ্চ ক্ষেত্রবিশেষে বাহুল্য বলেও মনে করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Copyright 2019