নভেম্বর 24, 2016

উচ্চশিক্ষা opportunity comes with responsibility!

উচ্চশিক্ষা...সব ছাত্র ছাত্রীর জীবনের স্বপ্ন! দেশের শিক্ষা শেষ করে দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য পাড়ি জমায়, চোখে স্বপ্নিল আশা নিয়ে। আমার বাক্তিগত মতামত, এই সুযোগ কতখানি সৌভাগ্যের ব্যাপার এটা খুব কম student ই উপলব্দি করে। দেশের অনেক অনেক সম্ভাবনাময় student কখনো সুযোগ, কখনো আর্থিক অসঙ্গতি, কখনো শুধুই ভাগ্যের কারনে উচ্চশিক্ষা অর্জনের এই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়। যারা এই সুযোগ পায়, তাদের সবার মাথায় একটা দায়িত্বও আসে, নিজের দেশের লোককে প্রতিনিধিত্ব করার।

আমি কোন বিশাল বড় responsibility কথা বলছি না, এমন না আপনি যেখানে আছেন সেখানে যে নতুন student যাবে তাকে বাসায় থাকতে দেয়া, রান্না করে খাওয়ানো ইত্যাদি। যদিও অনেককেই আছেন, যারা এতখানি নিঃস্বার্থ ভাবে করেন। আমি বলছি খুবি simple বাপার, আপনার behavior towards everything. কেন বলছি কিছু ঘটনা দিয়ে বলি।

ঘটনা ১। এক্স নতুন দেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসে, সেই শহরের এক লোক বড়ই দয়ালু, যত নতুন student আসে তাদের সবাইকেই উনি নানাভাবে সাহায্য করেন। তো, এক্স এর সাথেও ইনার পরিচয় হল, উনি বাসা খুজে দিতে সাহায্য করলেন। একদিন এক্স কাঁদকাঁদ হয়ে উনার বাসায় যেয়ে বলল, তার বাবা ICU তে, খুবি অসুস্থ। বাবার জন্য টাকা পাঠানো লাগবে, হাতে টাকা নেই, শুনে দয়ালু ভিনদেশি ভদ্রলোক ২০০ ইউরো দিয়ে বললেন, তারাতারি যাও টাকা পাঠাও। এক্স মহা খুশিতে এই টাকা নিয়ে paris ঘুরে আসলো। ঘটনা সেই ভদ্রলোক অন্য student দের কাছ থেকে জেনে যান যখন ওর বাবার খবর জিগ্যেস করেন। এই ভদ্রলোক কাউকেই কিছু বলেন নাই কিন্তু, কোন student কে এভাবে সরাসরি financial help করা বন্ধ করে দেন।

ঘটনা ২। এক্স ২ এসেছে বেশিদিন হয়নি, হাতের ও bank এর টাকা দামি দামি branded perfume, watch এবং বিবিধ জিনিস কিনে শেষ। Student হিসেবে প্রতি মাসে বাড়ী ভাড়া, health insurance তো দেয়াই লাগে। সে একজায়গায় কাজ নিলো, সাথে credit card ও নিলো, টাকা যা পায় তা এমনি ফুর্তি করে খতম, মাসের পর মাস বাড়ী ভাড়া আর health insurance জমা হয়। বাড়ীওয়ালা তো ৩ মাস পরে বের করে দিলো, এরপর থেকে বাংলাদেশ থেকে আসছে শুনলেই আগেই বাড়ী ভাড়া দিবে না বলে দেয়। সেই শহরের health insurance office এ যেয়ে কান্নাকাটি করে বিশাল বড় scene create করে আসলো। আপনি যদি বলেন আপনার কাছে টাকা নাই, অথচ ব্যাংক বলে আপনি ৬০০/৭০০ ইউরোর ক্রেডিট কার্ড বিল যা সবই লাক্সারি প্রোডাক্ট, আপনার কথা বিশ্বাস করার কোন কারন কি আছে? জরিমানা সহ ধারকর্জ করে health insurance pay তো করলো কিন্তু, এরপর ওই office এ বাংলাদেশি যে কোন student কি ব্যবহার পায় তা আর নাই বা বললাম।

ঘটনা ৩। এক্স ৩ আসছে পরাশুনা করতে (কাগজে!) এসে তাকে university তে দেখাই যায় না, এখানে ওখানে সেখানে কাজ করে অনেক টাকা কামায় প্রতি মাসে, আর ফুর্তি করে (যত রকম সম্ভব)। কাজের জায়গায় অনিয়মিত, ফাকিবাজ এবং হাতটান ও দেয়, কিছুদিন পর পর কাজ থেকে বের করে দেয়, আবার অন্য জায়গায় যেয়ে কাজ নেয়। কিছুদিন পর ওই শহরে বাঙালিকে কাজ দিতে চায় না কেউ, সে এত জায়গায় কাজ করেছে এবং এত সুনাম কামিয়েছে যে মালিক বলে আর সব দেশ ঠিক আছে, বাংলাদেশ এর লোক আর না বাবা!

ঘটনা ৪। নামি university র এক নামি research lab এ বেতন সহ internship শুরু করে Y। যারা জানেন না তাদের জন্য বলছি, আপনার Masters coursewok বা curriculum এর ভিতরে যদি internship করেন versity or clinic এর lab এ, তাহলে সাধারনত ফ্রী তেই করতে হয়, internship এ বেতন পাওয়া টা ভাগ্যের বিশয়। Y ৬ মাস internship করে, এই সময়ে সে অনিয়মিত, ল্যাবে দুপুর ১২ তার সময় যায়, presentation এর দিন unprepared প্রেজেন্টেশান, ৬ মাসের ল্যাব এ কোন result নাই। এই সময় তার বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়, বিশাল দুঃখের কাহিনি বলে supervisor কে, তাকে আর ৬ মাস সময় দেয়া হয়। পরের ৬ মাসে ও তার কোন result নাই, থাকবে কিভাবে? কাজ ঠিকমত করলে তো! যে ল্যাবের কথা বলছি এটা stem cell research lab, অত্যন্ত বায়বহুল তার equipments আর reagents। ১২ মাসে ১০,০০০ ইউরোর সমপরিমান ল্যাব এ খরচ করার পরে no result! এরপর supervisor কে কিছু না বলেই দেশে চলে যায় ২ মাসের জন্য। ফেরত এসে কান্নাকাটি, এবার supervisor সাফ মানা করে দেয়। এবং পরের ব্যাচের এক student যখন internship করতে চায়, supervisor অন্য দেশের student নিয়ে নেন। He said, I can not take chance again, well there can be bad sudents in any country but here thing was about his attitude.

ভাবতে পারেন, এমনও হয়! উপরে যা লিখেছি তার প্রতিটা ঘটনা আমার চোখে দেখা, ভুক্তভোগীও। আমরা যখন বাইরে আসি, student হিসেবে, মানে আমরা ভদ্র, শিক্ষিত এবং ভাল পরিবারের সন্তান। একজন labor কোন খারাপ attitude করলে যতটা না প্রভাব পরে, একটা student করলে প্রভাব পরে অনেক অনেক বেশি। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য শুধু এতুকুই যে,আমরা যেখানেই যাই, যাই করি না কেন একটু ভেবে যেন করি! আপনার একটা অসচেতনটা, মিথ্যা আপনার পরের একটা ভাল মানুষের জন্য challenge হয়ে দাড়ায়, তাকে বিনা কারনে বিনা দোষে ঝামেলা পোহাতে হয়, আলাদা কষ্ট করতে হয় এটা প্রমান করতে যে সে আলাদা আপনার থেকে! বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমি, মেধাবী এবং ভদ্র, কেন আপনার এমন কাজে বা বাবহারে বাইরের দেশের লোক বাকি মানুষদের খারাপ ভাববে?

মুদ্রার উলটা পিঠ বলি, আনন্দ নিয়ে বলি। এমনও জায়গা আছে যেখানে আমাদের student এত ভাল কাজ করেছে, ভাল attitude show করেছে যে বস তাকেই আবার বলেছে তোমার দেশেরই কাউকে refer কর। এখানে কোন preference দেয়ার কথা বলছি না, অন্তত বস যখন আরেকটা student এর profile দেখে, তখন তার মনে কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা আসে না। এটা কতখানি প্রভাব ফেলে যারা PhD বা postdoc এ কাজ করেন তারা ভালভাবেই বুঝতে পারবেন।

অনেক ইংলিশ শব্দ ব্যবহার করার জন্য আমি দুঃখিত! লজ্জার সাথে স্বীকার করছি, আমার বাংলা টাইপ রাইটিং এখনো খারাপ। আশা করি, সবাই ক্ষমাসুন্দর দ্দৃষ্টিতে দেখবেন। সবার জন্য শুভকামনা!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Copyright 2019