অনুবাদ: রেগে গেলে আমরা জোরে কথা বলি কেন? – পাওলো কোয়েলহো

“আচ্ছা, কারো ওপর রেগে গেলে আমরা জোরে কথা বলি কেন, বলো তো?”, শিষ্যদেরকে গুরুর প্রশ্ন।

সবাই কিছুক্ষণ ভাবলো, তারপর এক শিষ্যের উত্তর, “আমাদের তখন অস্থির লাগে, এই কারণে।”

মাথা নেড়ে গুরু বললেন, “কিন্তু তাই বলে চিৎকার করতে হবে কেন? যে মানুষটার ওপর রাগ করি সে তো তখন আমাদের পাশেই থাকে, তাই না? এমন তো না যে আস্তে বললে সে শুনতে পাবে না আমাদের কথা।”

আরো কেউ কেউ চেষ্টা করলো, কিন্তু কারোর উত্তরেই মন ভরলো না গুরুর। তিনি বলতে শুরু করলেন,

“দুজন মানুষ একে অন্যের ওপর রেগে গেলে তাদের মন দুটো অনেক দূরে সরে যায়। রাগ যত বেশি, মনের দূরত্বও তত বাড়তে থাকে, আর অত দূর থেকে আরেকজনের কাছে কথা পৌঁছানোর জন্য তত জোরে চিৎকার করতে হয়।”

“আবার দুজন মানুষ যখন ভালবাসে, তখন কী হয়? তারা নিচু গলায় কথা বলে..তাদের মন দুটো তখন কাছাকাছি চলে আসে বলে।”

“আরো বেশি যখন ভালবাসতে শুরু করে, তাদের মনের দূরত্ব আরো কমে যায়। তখন তাদের ফিসফিসিয়ে কথা বললেই চলে।”

“আর শেষমেষ কী হয়? তাদের আর কথাও বলতে হয় না। একজন আরেকজনের চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে ফেলে সে কী বলছে। মন দুটো তখন এক হয়ে যায় যে!”

 

মূল গল্পের লিঙ্ক ((http://paulocoelhoblog.com/2012/01/09/30-sec-reading-why-do-we-shout-in-anger/))

সামিরা সম্পর্কে

পীচ-গলা তরলে আটকে পা, দুঃস্বপ্ন অন্ধ দুই চোখে/ অসতর্ক হৃদয় পোষ মানে মিথ্যে বলার আফসোসে.../// প্রকাশিত লেখার কপিরাইট সংশ্লিষ্ট লেখক সংরক্ষণ করেন এবং লেখকের অনুমতি ছাড়া লেখা আংশিক বা পূর্ণভাবে কোন মিডিয়ায় পুন:প্রকাশ করা যাবে না।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে অনুবাদ, গল্প, সাহিত্য-এ এবং ট্যাগ হয়েছে , স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

44 Responses to অনুবাদ: রেগে গেলে আমরা জোরে কথা বলি কেন? – পাওলো কোয়েলহো

  1. সাথী বলেছেনঃ

    সুন্দর 🙂

  2. শামসীর বলেছেনঃ

    “আরো বেশি যখন ভালবাসতে শুরু করে, তাদের মনের দূরত্ব আরো কমে যায়। তখন তাদের ফিসফিসিয়ে কথা বললেই চলে।”

    “আর শেষমেষ কী হয়? তাদের আর কথাও বলতে হয় না। একজন আরেকজনের চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে ফেলে সে কী বলছে। মন দুটো তখন এক হয়ে যায় যে!”

    :):) :love:

  3. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    অসাধারণ! প্রিয়তে নিলাম। :beshikhushi:

  4. সামিরা বলেছেনঃ

    হাহা! ভাইয়ার তো অভিজ্ঞতা আছে। 😀

  5. ওয়াও দারুণ দারুণ!! আপা আমি এটা ফেসবুক ফ্যান পেজে শেয়ার করলাম। অনুমতি পরে দিয়ে দিয়েন। :love:

    + এই ব্লগে মনে হয় এটাই আমার প্রথম মন্তব্য। কোন ব্লগে লগিন না করে মন্তব্য করার সিস্টেম থাকলে অনেক ভালো লাগে। যেমন এই ব্লগটাকে লাগলো :penguindance:

  6. কিনাদি বলেছেনঃ

    ওয়াও!
    এম্নিতেই আপনার এই সিরিজটার ভক্ত আমি। আর এটা তো পুরা উড়াধুরা হয়েছে গো সামিরাপু :love:

  7. অনাবিল বলেছেনঃ

    খুব ভালো লাগলো…আসলেই তো, খেয়াল করে দেখি প্রতিটি কথা সত্যি!

    🙂

  8. খেয়ালী কিশোর বলেছেনঃ

    কিউট একটা গল্প :love:

  9. সওদাগর বলেছেনঃ

    পাওলো কোয়েলহো জোশ এক লেখক। দ্যা আলকেমিস্ট পড়ে মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

  10. স্বপ্ন বিলাস বলেছেনঃ

    আরে, পুরাই সত্যি তো!!! 😯

  11. ইতস্তত বিপ্লবী বলেছেনঃ

    :happy: :happy: :happy:
    দুর্দান্ত!!!

  12. জনৈক বলেছেনঃ

    দারুণ তো!

  13. সামিরা বলেছেনঃ

    হ্যাঁ দারুণ! 😀

  14. সামিরা বলেছেনঃ

    😀 ধন্যবাদ!

  15. গাঙচিল বলেছেনঃ

    আপনার অনুবাদগুলো পড়ে পাওলো কয়েলহোরও ফ্যান হয়ে গেলাম আপু। 😀

    তাঁর অ্যালকেমিস্টটা নাকি বেশ। শীঘ্রই পড়ার আকাঙ্খা প্রকাশ করছি।

    (আর অনুবাদ চালিয়ে যাবেন আপু। দারুন হচ্ছে।)

    • সামিরা বলেছেনঃ

      অনেক অনেক ধন্যবাদ। 😀
      হুম ‘অ্যালকেমিস্ট’ বেশ ভাল, আরো কিছু বই আছে সেগুলোও পড়ে দেখতে পারো। 🙂 (আমি নিজে অবশ্য ঐ একটাই পড়েছি এখনো পর্যন্ত) একদম নতুন বেরিয়েছে ‘Aleph’, আমাদের দেশে এখনো পাওয়া যাচ্ছে কিনা জানি না ঠিক।

  16. কিংশুক বলেছেনঃ

    অদ্ভুত সুন্দর একটা লেখা পড়লাম। একই সাথে প্রতিটা লাইন মেইকস সেন্স!

  17. সরল বলেছেনঃ

    (কেমন জানি ) অদ্ভুত রকমের ভাল হইসে!

  18. অবন্তিকা বলেছেনঃ

    হিহিহি! কথা সত্য। 😛

  19. tawfiq বলেছেনঃ

    পাওলো কোয়েলহো দূর্দান্ত একজন লেখক। দ্যা আলকেমিস্ট পড়ে বেশ ভালো লেগেছে।

  20. হৃদয় বলেছেনঃ

    এটা কি ছবি দিলেন ভা’পু?!
    লেখা আর ছবির এমন কম্বিনেশান খুব কম সময়ই দেখেছি 😛

    “আর শেষমেষ কী হয়? তাদের আর কথাও বলতে হয় না। একজন আরেকজনের চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে ফেলে সে কী বলছে। মন দুটো তখন এক হয়ে যায় যে!”
    –আহা! বেশ, বেশ! :happy: :happy:

মুনির উদ্দিন আহমেদ(বাদল) শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।