অনুবাদ: অপমানের উপহার – পাওলো কোয়েলহো

টোকিওর কাছেই এক জায়গায় এক বুড়ো সামুরাই থাকতেন সেকালে, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদেরকে বৌদ্ধধর্ম শেখাতেন তিনি।

হঠাৎ একদিন শহরে এক নতুন যোদ্ধা এসে উপস্থিত হল। জীবনে কোন লড়াইয়ে হারে নি সে, কিন্তু মানুষ হিসেবে খুব একটা সুনামও ছিল না তার। বুড়ো সামুরাইয়ের নামডাক শুনে এসেছে, তাঁকেও হারিয়ে নিজের বিজয়মুকুটে নতুন একটা পালক লাগাবে – এই আশা তার মনে।

ছাত্রেরা সব বুড়ো সামুরাইকে নিষেধ করলো কমবয়সী লোকটার সাথে লড়াইয়ে যেতে, কিন্তু তিনি শুনলেন না কারো কথা।

বিকেলবেলা লড়াই দেখতে শহরের মাঝখানে এসে জড়ো হল সব মানুষ। নতুন লোকটা সামুরাইকে লক্ষ্য করে যা-তা বলতে লাগলো তাঁকে উত্তেজিত করার জন্য, যাতে তিনি লড়াইয়ে নামেন। সে বুড়োর দিকে ঢিল ছুঁড়লো, তাঁর মুখে থুথু ছিটালো, দুনিয়ার তাবত গালাগাল শোনাতে লাগলো তাঁকে – সাথে তাঁর বাপ-দাদাকেও রেহাই দিল না।

পুরোটা সময় নির্বিকার থাকলেন বুড়ো সামুরাই, তাতে নতুন লোকটার মেজাজ গেলো আরো চড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও বুড়োর কোন ভাবান্তর দেখতে পেলো না সে; শেষমেষ ক্লান্ত-অপমানিত হয়ে ফিরে গেলো।

শিক্ষককে এভাবে অপমানিত হতে দেখে হতাশ হয়ে ছাত্রেরা বললো

–      লোকটা আপনাকে এভাবে অপমান করলো আর আপনি চুপচাপ শুনে গেলেন? কেন? না হয় হারতেনই, তবু আপনার লড়াইয়ে নামা উচিত ছিল। সবার সামনে এভাবে নিজের কাপুরুষতা কেন প্রকাশ করলেন?

বুড়ো সামুরাই উত্তর দিলেন

–      কেউ যদি তোমাদের কাউকে একটা উপহার দেয়, আর সেটা সে না নেয়, তাহলে উপহারটা শেষমেষ কার ভাগ্যে জোটে?

–      কেন, যে উপহার দিতে এসেছিল তার ভাগ্যে নিশ্চয়ই।

–      ঠিক বলেছো। হিংসা, রাগ আর অপমানের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটে। কেউ যখন এগুলো অন্য কাউকে দিতে আসে, আর সে তা না নেয়, তখন এগুলো যে বয়ে এনেছিল তার কাছেই ফিরে যায়।

[মূল গল্পের লিঙ্ক ((http://paulocoelhoblog.com/2009/12/14/insults/)) ]

সামিরা সম্পর্কে

পীচ-গলা তরলে আটকে পা, দুঃস্বপ্ন অন্ধ দুই চোখে/ অসতর্ক হৃদয় পোষ মানে মিথ্যে বলার আফসোসে.../// প্রকাশিত লেখার কপিরাইট সংশ্লিষ্ট লেখক সংরক্ষণ করেন এবং লেখকের অনুমতি ছাড়া লেখা আংশিক বা পূর্ণভাবে কোন মিডিয়ায় পুন:প্রকাশ করা যাবে না।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে অনুবাদ, গল্প-এ এবং ট্যাগ হয়েছে , , , স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

28 Responses to অনুবাদ: অপমানের উপহার – পাওলো কোয়েলহো

  1. স্বপ্ন বিলাস বলেছেনঃ

    বাহ! এভাবে ভাবিনি তো কখনো……
    আর, সবসময়ের মতই চমৎকার অনুবাদ। :clappinghands:

  2. এখনও শিশু বলেছেনঃ

    এই মেয়েটার প্রতিটা অনুবাদ দারুণ হয়!

    দারুণ গো কন্যা, দারুণ… :clappinghands:

  3. অনাবিল বলেছেনঃ

    সামিরার অনুবাদ 😀

    দারুণ! গল্প, অনুবাদ- দুটোই 🙂

  4. নিবিড় বলেছেনঃ

    অনুবাদ সুন্দর হয়েছে। শিক্ষনীয় গল্প। :clappinghands:

  5. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    কোয়েলহোর চিন্তাগুলা দারুণ!

  6. আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেনঃ

    সুন্দর শিক্ষা !

  7. শারমিন বলেছেনঃ

    গল্পটা অসাধারণ।
    এবং সেই সাথে অসাধারণ অনুবাদ
    :love:

  8. অদ্ভুত ছেলে বলেছেনঃ

    মোরালটা চমৎকার 😀
    খুব ভালো লাগলো।

  9. জনৈক বলেছেনঃ

    দারুণ ভাবনা

  10. তিষা বলেছেনঃ

    অসাধারণ গল্প ।
    :love:

  11. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    আমি কোয়েলহোর চিন্তাধারার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি! :love:

    সামিরা তুই একটা কী জানি, তোর অনুবাদ হোক আর গল্পই হোক, পড়লেই আমি কেমন কেমন যেন হয়ে যাই।

  12. ইঁদুর বলেছেনঃ

    গল্প খুব ভালো লেগেছে বলব না-তবে অনুবাদ ভালো হয়েছে। চলুক।=)

  13. অক্ষর বলেছেনঃ

    ভালো বুদ্ধি তো ! ! :thinking:

  14. অসাধারণ চিন্তাভাবনা! এই লোকটার কথা যতই পড়ছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি! আপনার অনুবাদের কারণেই হয়তো!

বোহেমিয়ান শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।