ধ্রুবতারার দিপ্তি অনুভবের বাধাহীন প্রকাশ

“একটি হুইলচেয়ারের অভাবে কারুর জীবন থেমে আছে, কারুরবা নেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা! সহায়ক চলাচলের ব্যবস্থা নেই বলে চার দেয়ালের আলো-আঁধারীতে কাটছে কারুর জীবন” এসব শুনলে নিজেকে স্থির রাখতে পারেন না। সমাজে সর্বত্র প্রতিবন্ধী তথা ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তির অংশগ্রহণ এবং সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে যিনি সবসময়ই সোচ্চার। তাদের একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালগুলোতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন- প্রচারণা চালানোসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে র‍্যাম্প যুক্ত বাঁধা মুক্ত একটি সুন্দর অবকাঠামো তৈরীতে যিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, আমি সেই মানুষটির গল্প শোনাতে চাই আজ আপনাদের। আপনারা তাকে চেনেন নামে। হয়তো দেখেছেনও কোথাও কোন স্থানে। কিন্তু আমি তাকে দেখি রোজ খুব কাছ থেকে। ছোটবড় নানান বিষয়ে আমার চেয়ে বেশ ভালো বুঝেন। সমস্যা বলে সমাধানও সাথেই দিয়ে দেন, তবুও কেনো জানি না আমাকে ফোন করে আলাপ করতেই হয় বিষয়টা নিয়ে। তখন নিজেকে একজন বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মনে করে গর্বে বুক ফুলিয়ে তোলা ছাড়া উপায় থাকে না 😐

দেখতে মানুষটি ছোটখাট হলেও প্রখর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। বুদ্ধির বিশাল এক ভান্ডার নিয়ে বসে আছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। আর সিংহ রাশির জাতিকা বলেই বোধ করি আছে নেতৃত্ব দেওয়ার চমৎকার গুন। প্রবল এক মায়ায় সকলকে জড়িয়ে রেখেছেন যেনো… বিশেষত আমাকে। অথচ যার জীবনের সিংহভাগটাই কেটে গেছে চারদেয়ালের আবদ্ধ ঘরে। এমনি আরো কত কি আছে বলার…

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যখন দ্বারে দাড়িয়ে কড়া নাড়ছে ঠিক সে সময়ের কথা বলছি আমি। সনটা ১৯৬৮। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আবহাওয়া তপ্ত রোদ্দুরের মতোই জ্বলছে পুড়ছে এমনই এক নিকষ আঁধারে ঘেরা রাত্তিরে ঢাকা মোহাম্মদপুর আলো করে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন ফজিলাতুন নেসা হাকিম। বাবা মাহবুবুল হাকিমের দুহাতে তুলে দেওয়া হলো ফুটফুটে শিশুটিকে। তুলতুলে এক পরী দেখে আনন্দে আত্মহারা তিনি। তাদের আনন্দে ঈশ্বর নিশ্চয় মুচকি হেসেছিলেন আড়াল থেকে। নয় মাস না যেতেই ঘন কালো মেঘ ছেয়ে এলো আকাশে। হঠাৎ-ই তারা আবিষ্কার করলেন ছোট্ট পরী খেলে না। হাসে না। কাঁদে না। হাত পাও ছোড়াছুড়ি করে না। তাদের আনন্দ ভুবনে চারিদিক কেমন থমথমে নিরবতা! প্রবল জ্বরের তান্ডবে একটুখানি শরীরখানা কেমন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডাক্তার বললেন কিছুই করার নেই আর। পোলিও। পুরো শরীর অবশ হয়ে গেছে। বাবা মায়ের মাথায় হাত, এ কেমন করে সম্ভব! মাত্র এক সপ্তাহ আগেই যে পোলিও ভ্যাকসিন টিকা দিয়ে এলেন তাদের কন্যাকে! পোলিও কখনো পুরোপুরি ভাল হয় না জেনেও তারা হন্য হয়ে চিকিৎসার জন্যে এদিক সেদিকে ছুটোছুটি শুরু করলেন।

বাবা মায়ের আকুল প্রার্থনায় ঈশ্বর বোধ করি কিছুটা সদয় হয়েছিলেন সেদিন… যদিও দু’পায়ে হেঁটে বেড়ানোর শক্তি চিরতরে হারিয়ে যায় তাদের ছোট্ট পরীর, তবু ডাক্তারের অক্লান্ত পরিশ্রম একেবারে বৃথা যায়নি। সামান্য সুস্থ্য হয়ে শরীরের উপরের অংশ স্বাভাবিক সক্ষমতা ফিরে পেলো। ছোট্ট পরীর মুখে প্রাণবন্ত হাসিতে বাবা মা মনোবল ফিরে পেলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন ঈশ্বরের ইচ্ছে মাথায় তুলে নিয়ে তাকে মানুষের মতোন মানুষ করে তুলবেন। প্রথম সন্তান হিসেবে আদর যত্নের কমতি ছিলো না। কিন্তু আরেকটু বড় হয়ে উঠতেই স্বাধীন দেশে শুরু হলো এক অন্য রকম যুদ্ধ। ঘরের বাইরে যাওয়ার মতোন পরিবেশ বা সহায়ক ব্যবস্থা সেই দিনগুলোতে ছিলোনা। তাছাড়া দুর্বল শরীর এত ধকল পোহাতে পারবে না এই ভয়ে বাবা মা সাহস পেলেন না স্কুলে ভর্তি করাতে। কিন্তু কন্যাকে শিক্ষিত করে তুলবেন এই হলো পণ। শুরু হলো ঘরে বসেই ‘অ’ ‘আ’ ‘ক’ ‘খ’ এর সাথে পরিচয়। ঘরেই একজন শিক্ষক নিযুক্ত করা হলো তাকে শিক্ষিত করে তোলার উদ্দেশ্যে। চার দেয়ালের মাঝেই পৃথিবীর সমস্ত আনন্দ এনে দেওয়ার সাধ্য মতো চেষ্টা করতে লাগলেন বাবা মা।

স্কুলের চেহারা কখনো দেখেন নি বলেই বন্ধু-বান্ধবহীন একটা জগতে মানিয়ে নিয়ে পারিবারিক আবহেই ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে লাগলেন তিনি। বাবা মায়ের ভালোবাসা ও ছোট দু’ভাইয়ের উৎসাহে নিজের ঘরে বসেই পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছেন দশম শ্রেণী পর্যন্ত। আচমকা পরীক্ষার আগে কি যেনো মনে হলো- কি হবে এত পড়ালেখা করে! বাবা মাকে বুঝিয়ে নিজেই পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। বাবা মায়ের কোলে চড়ে মাঝে সাঝে ঘুরতে যাওয়াও হতো। কিন্তু বেড়ে উঠার সাথে সাথে বাইরের বিরূপ পরিবেশ-নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে বাইরে মন টিকতো না বেশিক্ষন। ধীরে ধীরে বাইরে বেরুনো বন্ধ করে দিলেন নিজেই। এখনকার মতোন তখন ঘরে ঘরে হুইলচেয়ার ছিলো না। যে রুমে বসিয়ে দেওয়া হতো সেখানে সে অবস্থাতেই তাকে বসে থাকতে হতো ঘন্টার পর ঘন্টা। ভাইদের নিজস্ব জগতে পড়ালেখা, বন্ধু বান্ধব নিয়ে তারা ব্যস্ত। বাবা মায়েরও তো শতেক কাজ। সারা দিন সবাই গল্প-আড্ডায় মেতে থাকলে তো আর সংসার চলবে না। তাই সারাটা দিনের পর রাত্তিরে সবাই এক হওয়ার অল্পটুকুন সময় বেশ আনন্দেই কাটতো সবার।

কালের আবর্তে বাবা মায়ের সেই ছোট্ট পরী কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদাপর্ন করলেন। বাবা মায়ের শক্তিশালী দু’বাহুতে কখনো চেয়ার কখনো বিছানা- এই করেই কাটিয়ে দিলেন জীবনের চৌত্রিশটি বসন্ত। ২০০২ সালে প্রথম স্বাধীনতার হাতছানি নিয়ে ঘরে এলো হুইলচেয়ার। এতদিন পর্যন্ত ছোট্ট ছোট্ট ব্যাপারেও অসহায়ের মতোন অন্যের সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার ছিলো না। হুইলচেয়ার পেয়ে যেনো স্বস্তির শ্বাস ফেললেন। নিজেই দু’হাতে চাকা গড়িয়ে একটু একটু ঘুরে বেড়াতে লাগলেন এ রুম থেকে সে রুম। ছোট ভাই, বাবা মা খুব চাইতো বাইরে নিয়ে যেতে। নিজেরও যে ইচ্ছে হতো না তা কিন্তু নয়! পরক্ষনেই বাইরের জগতের হুইলচেয়ার অনুপযোগী পরিবেশের কথা মনে হলে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার চেয়ে ঘরের পরিবেশই শ্রেয় মনে হতো। কেটে গেলো আরো পাঁচটি বছর এভাবেই।

ছোট ভাইয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করার সুবাদে ঘরে প্রথম কম্পিউটার এলো। তারপর……একদিন ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন ছোট ভাইয়ের পড়ার টেবিলে রাখা কম্পিউটার দিকে। মাউস, কি-বোর্ড নিয়ে টুকটাক নাড়াচাড়া করতে দেখে ভাইয়েরাও প্রবল উৎসাহে বড় বোনকে খুটিনাটি শেখাতে লাগলেন। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে সম্ভাবনার নব দিগন্ত উন্মোচিত হলো যেনো! এক সময় বন্ধুর জগত বলতে কিছুই ছিলো না যার তার এখন ইয়াহু, এমএসএন চ্যাট এ অনেক বন্ধু। তাদের পেয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করলেন। জীবনের এতটা সময় পেরিয়ে সুখ পাখির দেখা মিললো যেনো। নিজের একটা জগত হলো… বন্ধুর জগত। সেই বন্ধুদেরই একজনের হাত ধরে একসময় সোসাল নেটওয়ার্ক ফেসবুকে পা রাখলেন। পুরো পৃথিবী যেনো হাতের মুঠোয় চলে এলো ইন্টারনেট ব্যবহারে। পোলিও আক্রান্তদের সুখ-দুঃখের কথা জানতে এবং জানাতে ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুললেন “পোলিও ভিকটিম”। ধীরে ধীরে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘোরাঘুরি করে জানতে পারলেন বাইরের দেশগুলোতে প্রতিবন্ধী মানুষেরা বিভিন্ন ধরণের সহায়ক ব্যবস্থার সাহায্যে একেবারেই স্বাভাবিক মানুষের মতোন ঘরে বাইরে সর্বত্রই একা একা চলাফেরা করছেন। ছাত্র জীবন শেষ করে নিশ্চিন্তে কর্মজীবনে ঢুকে যাচ্ছেন। তাদের সম্বোধিত করা হয় “ভিন্নভাবে সক্ষম”। যে সমস্তই আজো আমাদের দেশে এক সুন্দর স্বপ্নের মতোন।

বাবা মায়ের এই ছোট্ট পরীটিকে আমরা জানি সালমা আপু নামে। পুরো নাম সালমা মাহবুব। সিদ্ধেশ্বরীর একটি এপার্টমেন্টে জানালার ধারে বসে কম্পিউটারের কি বোর্ডে খুটখাট করে চলেন দিনরাত ক্লান্তিহীনভাবে। স্বাধীনতার চল্লিশ বছরেও নিজের জন্যে যে সুবিধাগুলো কখনোই পাননি বাংলাদেশের অবহেলিত কিছু ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষের জন্যে তাদের প্রাপ্য মৌলিক অধিকারগুলো আদায়ের পথ খুঁজে ফিরতে গিয়ে কি-বোর্ডকে হাতিয়ার বানিয়ে ফেসবুক, বাংলা ব্লগগুলোতে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। এই মানুষটার প্রবল উৎসাহ আমাকেও নিয়ে এলো ব্লগ জগতে। সহায়ক কিছু ব্যবস্থা শারীরিকভাবে অক্ষম কিছু মানুষকে ভিন্নভাবে সক্ষম করেও তুলতে পারে, কি দারুণ এক স্বাভাবিক-সুন্দর জীবন দিতে পারে- এসমস্ত অসচেতনতার কারণেই বেঁচে থাকাটা উপলব্ধিতেও হয়তো আসে না আমাদের বা পরিবারের তথা সমাজের! এখনোবা কি পুরোপুরি সচেতন হতে পেরেছে সমাজের মানুষগুলো!? এতশত চিন্তার রেশ থেকেই বুঝি এদেশের হাজারো-লক্ষ সালমা মাহবুবের আর্তস্বর ঘুমের মাঝেও দুঃস্বপ্নের মতোন হানা দিতে লাগলো থেকে থেকে।

চায়ের টেবিলে বাবা মায়ের সাথে টুকুস-টাকুস গল্পে কল্পনার জ্বাল বুনে যান অবিরত। বাইরের দেশগুলোর মতোন এদেশেও হতে পারে সিঁড়ির বিকল্প র‍্যাম্প! রাস্তায়, ফুটপাথে, লিফট-সিঁড়িতে থাকতে পারে ব্রেইল ব্লক! ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের এসব জায়গাকে চিহ্নিত করতে আছে ডিজেবিলিটি লোগো। লঞ্চ, ট্রেন, বাসে থাকতে পারে হুইলচেয়ার সহায়ক ব্যবস্থা এবং তাদের জন্যে এক টুকরো জায়গা। তারই মতোন কিছু মানুষ শুধুমাত্র সহায়ক যানবাহনের অভাবে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন চার দেয়ালের আঁধারে। দৃষ্টি, বাক ও শ্রবণ এবং অন্যান্য ভিন্নভাবে সক্ষমদের স্পেশাল স্কুলে আলাদা করে রাখা হচ্ছে তাদের প্রতিবন্ধিতার নামে, অথচ একীভূত শিক্ষা যাদের নাগরিক অধিকার। আর হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের জন্যে একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা তো অনেক দূরের কথা সহায়ক ব্যবস্থাসহ একটা স্পেশাল স্কুলও নেই কোথাও! এদেশে এক মাত্র তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। সব ধরণের প্রতিবন্ধকতার চাপে পিষ্ট হয়ে নিজেদের আবদ্ধ রাখতে বাধ্য হয়। দেশে কি আইন নেই! অনলাইনেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেড়িয়ে এলো ইমারত নির্মান বিধিমালা ২০০৮। যাতে বিকল্প দক্ষ ব্যক্তিদের জন্যে সর্বজনীন প্রবেশগম্য করে তুলতে বলা হয়েছে সমস্ত পাবলিক প্লেস তথা ভবনগুলোকে। তারমানে দেশের আইন আটকে গিয়েছে কাগুজে গুটি গুটি কালো হরফের মাঝে। প্রয়োজন তার বাস্তবায়ন! ভাবলেন এখনই সময় পরিবর্তনের। মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তনে আওয়াজ তুলতে হবে। অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কিছু করতে হবে। ঘরে বসে একাজ সম্ভব নয় বুঝেই বেড়িয়ে এলেন চার দেয়ালের আবদ্ধ কোণ থেকে। প্রতিবন্ধী-অপ্রতিবন্ধী সমমনা মানুষদের একত্র করতে শুরু করলেন। এ কথা অনস্বীকার্য পারিবারিক সহযোগীতা-উৎসাহেই এই পথ পাড়ি দেওয়া সহজতর হয়ে উঠেছে আরো। সালমা আপার পরিবার আমাদের দেশের আরো বহু পরিবারের জন্যে ইতিমধ্যেই হয়ে উঠেছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!

ভিন্নভাবে সক্ষম এই সকল মানুষদের শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসা, যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান, সর্বোপরি সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা- এসব দাবী ও লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে আমাদের সালমা আপা হুইলচেয়ারে বসেই নিঃস্বার্থভাবে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশী সিস্টেমস চেঞ্জ এ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক” (বি-স্ক্যান) এর ছায়াতলে দাঁড়িয়ে। কিছুদিন আগে জানতে পারলাম কাজের স্বীকৃত সম্মান স্বরূপ ডয়েচে ভেলের আন্তর্জাতিক ব্লগ প্রতিযোগীতায় সালমা আপার আমার ব্লগ ডট কম এর ব্লগটি মনোনীত হয়েছে বেস্ট ব্লগ বাংলা ক্যাটাগরীতে। ভালো লাগলো খুব! আমি জানি তিনি নাম-যশ-খ্যাতি পেতে এসব কিছুই করছেন না। সম্মাননা বা এওয়ার্ড তার জীবনের লক্ষ্যও নয়। নিজের দেশেই যখন পরাধীনের মতোন বাঁচতে হয় কি হবে এই সমস্ত প্রশংসা কুড়িয়ে! তাঁর ভেতরের না পাওয়ার এই তীব্র যন্ত্রণা আমাকেও যে ছুঁয়ে যায় প্রতিনিয়ত। কিন্তু এই স্বীকৃতি হয়তো ছড়িয়ে পড়েছে অনেকের মাঝে। তারা জেনেছেন নিঃস্বার্থ এই স্বেচ্ছাশ্রমের কথা। তখন তারা নিশ্চয় কিছুটা সচেতন হবেন এই সালমা আপার উদ্দেশ্য জেনে। চোখের সামনে দেখেও আর কারো জীবন গড়ার স্বপ্নের শুরুতেই তাকে থেমে যেতে দেবেন না। তাদের এই সচেতনতাবোধ জনে জনে ছড়িয়ে পড়বে আরো দূরে-বহুদূরে…দিক থেকে দিগান্তরে। পারিবারিক সচেতনতায় পরিবর্তন ঘটবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির। তখন এটাই হবে তার সত্যিকারের পুরুষ্কার!

আমার সাথে তাঁর মিল এই একটা জায়গাতেই- একটি স্বপ্নে! ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষের সহায়ক ব্যবস্থাসম্পন্ন অবকাঠামোগত এক বাংলাদেশ বিনির্মানের। সেই ছোট্ট স্বপ্নটির বাস্তব রূপ দেওয়াই তার জীবনের একমাত্র পণ। তিনি জেগে উঠেছেন। আরো হাজারো লক্ষ সালমা মাহবুবের জীবনে নতুন দিগন্তের শুভসূচনার এই তো শুরু মাত্র…আরো অনেক দূর যাবেন তিনি। তাকে যেতেই হবে। তার নেতৃত্বে আলোর মিছিলে সামিল হয়ে আরো অনেকে নিশ্চিত ভীর জমাবে……

সাবরিনা সুলতানা সম্পর্কে

“আমার কতো দাবি! কতো চাহিদা! কিছুই পাইনা। যেদিকে হাত বাড়াই সেদিকে অন্ধকার। সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ। প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ। সব নিয়ন্ত্রণে আমি বাঁধা আর গুমরে গুমরে কাঁদে আমার আশা আকাঙ্ক্ষা। ভালোবাসা!”
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে অনুপ্রেরণা, সচেতনতা-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

7 Responses to ধ্রুবতারার দিপ্তি অনুভবের বাধাহীন প্রকাশ

  1. অনাবিল বলেছেনঃ

    মিল একটি জায়গাতে- স্বপ্নে।
    মিল আরো একটি জায়গাতে– স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞায়…………

  2. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    সালমা আপুকে স্যালুট।

    উনার সাহসী, পরিশ্রমী কাজকে শ্রদ্ধা।
    আপুকে ভোট দিব।

    উনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক

  3. তিষা বলেছেনঃ

    ভোট দিব। সালমা আপুর জন্য শুভকামনা। 😀

  4. ইয়াদ বলেছেনঃ

    অনেক শুভ কামনা রইলো!

    অনেক অনেক ভালো থাকুন

  5. স্বপ্ন বিলাস বলেছেনঃ

    আপনাদের জন্য শুভকামনা………আপনাদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক ‘ভিন্নভাবে সক্ষম’ মানুষের মসৃণ পথ……

  6. মাহি বলেছেনঃ

    স্বপ্নগুলো সত্য হয়ে ধরা দিক …
    এমন অজস্র স্বপ্ন নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে চলা সার্থক হোক …

  7. নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেনঃ

    অনেক শুভকামনা রইলো

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।