হরতাল নিয়ে চারদিকে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি। সবার চিল্লাচিল্লিতে মনে হয় আমাদের শ্রদ্ধেয় রাজনীতিকেরা আমাদের চেয়ে কম বুঝেন! কত বড় আস্পর্ধা আমাদের! ছিঃ !! :wallbash:
আমরা নিজেরাই আমাদের রাজনীতিবিদদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছি। আর এখন সেই আমরাই তাদের সম্পর্কে কটু কথা বলি! তাঁদের জ্ঞান আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তারা তাঁদের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা আর দেশসেবার কারণে অনেক মহান স্থানে আসীন হয়েছেন। আমাদের সাধ্য কী তাঁদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করি ?
এই যে ৫ বছর আগেও হরতাল হতো, আর এখনও হয়, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে – এটা কি তারা না বুঝে এমনি এমনি দ্যান? আমরা সবাই জানি তারা দেশের ভালো চান, জনগণের চিন্তাই তাঁদের মাথায় সর্বদা ঘুরপাক খায়। তাই এইটাতে কারোই দ্বিমত থাকার কথা না যে, জনস্বার্থেই হরতাল দেওয়া হয়।
আচ্ছা! কীভাবে আমাদের জনগণের স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে? অনেক বেকুব-নির্বোধ পাবলিকের চিন্তায় এই প্রশ্ন আসতেই পারে। আরে ভাই! না বুঝার কী আছে? তবু যদি নাই বুঝেন, তাইলে আর কী করা ? কতগুলা পয়েন্ট তুলে ধরতেছি। চাইয়া দ্যাখেন! তাইলেই আর আমাদের মহান রাজনীতিবিদদেরকে অবিবেচকের মত গালাগালি করবেন না!
# সারা দিন-রাত কত পরিশ্রম করে আমাদের দেশের মানুষ! তাঁদের দম ফেলার ফুরসতই নাই। হরতাল যদি মাঝে মাঝেই দেওয়া হয় তাইলে একটু দমটা ফেলতে পারবেন সবাই (তা দীর্ঘশ্বাসই হোক না কেন!)
# এই যে হরতাল হচ্ছে! এই সময় অনেক এলাকাতেই লোডশেডিং কম হচ্ছে। গ্যাসের সমস্যা থাকলেও দেখবেন এই সময় গ্যাসের সমস্যাও কমে যাচ্ছে!
# নিদ্রাহীনতায় যারা ভুগছেন তারা এটা ভালোভাবে বুঝবেন যে, হরতালের দিন ঘুমানোর জন্যে সবচে উপযোগী। এমনিতে ঘুম আসে না, কিন্তু কী এক অজানা কারণে যেন হরতালের দিন সকাল থেকেই চোখের পাতা আলাদা করা যায় না! কত বড় সুবিধা ! :guiter:
# জনসংখ্যা যে আমাদের কত বড় সর্বনাশ করে চলেছে তা তো সবাই জানেন! হরতালের দিন ৩-৪ পিস পাবলিক মরলে তো খারাপ না। এইভাবে ৫০ টা হরতালে যদি ১৫০-২০০ মানুষ মরে তাইলেও প্রাপ্তিটা নেহায়েত কম হয় না।
# ঢাকার রাস্তায় জ্যামের সাথে সবাই পরিচিত। হরতালের কারণে যদি জ্যাম একদিন হলেও না থাকে তাহলে তো পুরাই কোপাকুপি অবস্থা!
# আপনার কি ধারণা নেই পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে? আপনার ধারণা না থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশের নেতাদের আছে। তারা আমাদের মত অল্প ঘিলু নিয়ে ঘুরেন না। হরতালের কারণে রাস্তায় গাড়ি বের হয় না। আর এজন্য পরিবেশও কম দূষিত হয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে সরকারপক্ষে থেকেও এটা বুঝতে পারেন, আর আমরা পারি না! আফসোস!!
# আমাদের সেনাবাহিনীকে দিয়ে ভরসা আছে কোন ? যদি এখন যুদ্ধ বেঁধে যায় কোন দেশের সাথে তখন কী হবে রে ভাই ? এজন্যই রাস্তায় মারামারি করে একটু হাত মশকো করে রাখা যায়। আর দরকারের সময় সেটা প্রয়োগ করতে পারলেই হল। 8)
# দেশের মানুষ আজকাল দেশের কোন খোঁজ-খবর রাখেই না! হরতালের সময় তবু মানুষের মাঝে একটু হলেও খবর নেওয়ার চিন্তা আসে। এটাই তো অনেক বড় পাওয়া! :yahooo:
# স্কুল কলেজের পুলাপাইন সারা বছর ক্লাস করতে করতে শেষ! আর আজকালকের অভিভাবকদেরও মায়া-মহব্বত নাই। ক্লাস আর প্রাইভেটে দৌড়াইতে দৌড়াইতেই জান শেষ! এই সুযোগে যদি একটুখানি পড়াশুনার চাপ থেকে বাঁচে আর কি! :yahooo:
# পরীক্ষার মাঝে যদি হরতাল পড়েই যায় তাহলে তো কথাই নেই! আমাদের ছাত্রসমাজ তখন ব্যাপক উল্লসিত হয়। প্রস্তুতিটাও ভালোভাবে নেওয়া যায়, আর পরীক্ষায় ভালো করার সম্ভাব্যতা অবধারিতভাবে বৃদ্ধি পায়! দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এটা তো সাংঘাতিক কার্যকরী!
# আমাদের মহান জাতীয় সংসদে ভাষাশিল্পের বিকাশ সাধিত হচ্ছে। সাংসদদের ভাষা শুনে আমরা বিমোহিত, পুলকিত হচ্ছি। তাঁদের এই ভাশাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে হরতালও দরকার। এই সময়েই তো সুযোগ বুঝে তারা সুন্দর (!) বাক্য বিনিময় করতে পারেন! :voypaisi:
# বিরোধী দল বলে কিছু একটা যে আছে সেটাই অনেকে ভুলে যায়! জনগণের সাথে পুনঃপরিচিতিটা করে ফেলার জন্যে তো হরতালের বিকল্পই নেই!
# দুর্মুখেরা বলে -“অর্থনীতি শেষ হয়ে গেল হরতালের জন্য!” বোকা নাকি ভাই? অর্থনীতি তো আরও চাঙ্গা হচ্ছে! যত গাড়ি পুড়বে তত গাড়ি কেনা হবে। গাড়িশিল্পের জন্য সুখবরই বটে! আর সব জিনিসপত্রের দাম যদি এই উপলক্ষে বেড়েই যায় তো কী হয়েছে? আমরা না হয় একটু বেশি দামেই কিনলাম, কিন্তু দোকানীর লাভটা চোখে পড়ে না? এছাড়া পহেলা বৈশাখ আর ঈদের সময়েও তো বেশি দামে কত কিছুই কিনেন! আর এই ‘হরতাল উৎসব’-এর সময় এতো চিন্তা কেন রে ভাই!? মানুষ হইলেন না কেউ! :thinking:
# রাস্তাঘাট পুরা ফাঁকা! ২-১ টা বেয়াদব ড্রাইভার হয়তো বের হয়। কিন্তু ওইটা বাদ দ্যান ভাই! তো এই ফাঁকা রাস্তায় কী করা যায়?
কী আর করবেন! আপনার বাচ্চা-কাচ্চাকে তো মাঠ দিতে পারেন না খেলার জন্যে। এই সুযোগে রাস্তায় ব্যাট-বল না হয় ফুটবল দিয়ে নামিয়ে দিন! পারলে RPL (Road Premiar League) করে ফেলুন না! তা না করে শুধু শুধু গালাগালি!
আসলেই আমরা অকৃতজ্ঞ! :wallbash:
দেখছেন তো ভাই! কত সুবিধা আর সুদূরপ্রসারী ব্যাপার স্যাপার! শুধু শুধু আজেবাজে চিন্তা আমাদের মনে আসে। ভালো চিন্তা কয়জন করতে পারে বলেন তো? হরতালের আরও কত যে ভালো দিক আছে সেইটার চিন্তা আমাদের নেতারাই করতে পারেন। আমাদের ছোট্ট মাথাতে এগুলা আসেই না! এখন থেকে আর গালাগালি না, কোন মিথ্যে অপবাদ না। এখন থেকে আমরা শুধুই হরতালের সুযোগগুলা গ্রহণ করব। মনে মনে হরতাল কামনা করব। কোন নেতার মানিব্যাগ হারালেও যেন হরতাল ডাকা হয়! হরতালের গুরুত্ব বুঝতে পেরেই তো বিরোধী দলে গিয়ে হরতাল দিবে না বলেও প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আমাদের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা! সাধুবাদ জানানোটা আমাদেরই কর্তব্য!
রাস্তাঘাটে মারামারি চলবে, জ্বলবে আগুন। আর এরই সাথে জ্বলবে নেতাদের মনের ক্ষোভ! বাস পুড়বে , সাথে কিছু মানব-রোস্ট পাওয়া যাবে। নতুন রেসিপি! রেসিপির স্বাদটা আমাদের নেতারাই ভালো জানেন। আমাদের কি সাধ্য আছে তাঁদের মত মহাজ্ঞানের অধিকারী হওয়ার?
সত্যি বলতে – তাঁদের মত মহামানব কিংবা মহাজ্ঞানী হওয়ার ইচ্ছাটাও নেই। আমরা সহজ সরল জনগণ। চুপচাপ থাকব। ৫ বছর পর পর রাজদন্ড এক হাত থেকে আরেক হাতে তুলে দেব। কিন্তু ভাগ্যটা সেই যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। সেটা আর পরিবর্তিত হচ্ছে না। হায় রে পরিবর্তন! ওটা শুধু কাগজেই আটকে থাকুক, আর আমাদের পোড়া কপালটাও সেখানেই বন্দী হয়ে কান্নাকাটি করুক! তাতে কার কীই বা আসে যায়!?
🙁 😳
ভালু পাইলাম। :love:
খুশি হইলেম … 🙂
এটাই দুঃখের বিষয়, যাদের হাতে ক্ষমতা থাকে তারা কেমন যেন আমাদের থেকে চোখ সরিয়ে নেন……… 🙁
চোখ সরিয়ে নিবে … আবার নির্বাচনের আগে হাত-পা ধরে খাতির করবে!
অসাধারণ আসলেই!!
🙁
নিশ্চয়ই মানুষের জন্য কাজ করবে কেউ। আজ না হোক, সামনেই কোন এক দিন………
ইনশাআল্লাহ … 🙂
🙂
দোস্ত হাসতে হাসতে মইরা গেলাম :love: ……….. আরও লিখ তোর লেখা পইড়া মইরা গেলে কিছু না হোক একটা জনসংখা তো কমবে :babymonkey:
যাহ !
তোর মৃত্যুর সুমহান দায়িত্ব নিলুম …
:happy:
🙁
ঘুরেফিরে আমরাই ওদের ক্ষমতায় আনি
করার কিছু যে এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি!
MCQ এ অপশন ২ টা। Ans. করব কীভাবে ??
নতুন অপশনের চিন্তা করেও তো লাভ হচ্ছে না!
🙁
🙁
🙁 😳 🙁
বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমানে যে, রাজনৈতিক দল তাদের নিজেদের কথা ভাববে। কিন্তু এবার বিএনপি কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল হরতাল কম দিয়ে। কারন বাংলাদেশের রাজনীতির বিরোধী দল গুলো আরো অনেক বেশী পরিমানে হরতাল দিয়ে থাকে। কিন্তু শেষের দিকে এসে আবার কি শুরু হলো। মাঝে মাঝে সরকারি দলের সততা সাথে চলার জন্য ধরলাম হরতালো ভলো। কিন্তু এইযে মানুষ গুলোকে পুড়িয়ে মাতা হচ্ছে, এটা কি? কে দায়ী এর জন্য? এতেতো বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা অনেক কমে। হত্যা এটা আমরা কোন ভাবেই চাইনা। বিরোধী দল নিজের স্বার্থে হরতাল দিচ্ছে খুব ভালো। প্রতিবাদের ভাষা অনেক আছে। আর একটি প্রাণও আমরা হারাতে দিতে চাই না । । । । । । । :nono:
আমার ধারণা আমরা সাধারণ জনগণ কেউই চাই না। কিন্তু সবাই বুঝলেও স্বার্থের প্রশ্নে আমাদের নেতারা সবই যেন ভুলে যান!
সাধারণ বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন কোন মানুষের পক্ষেই এটা বোঝা অসম্ভব না, তবু তারা অবুঝ!
🙁
তোর লেখা ভাল লাগলো।আশা করি সামনে আরও ভাল হবে। 😛
দোয়া করিস।
প্রথম প্রথম লিখছি। সামনে আরও ভালো লেখার চেষ্টা করব … 🙂
আমাদের নেতাদের কার্যকলাপ দেখে কাঁদতে ইচ্ছা করে :crying:
কান্দেন বইয়া বইয়া … 🙁
জনসংখ্যার পয়েন্টটা বাদ দিলে বাকি সবগুলই কিন্তু সত্যিকার অর্থেই চরম উপকারী দিক। অন্ততঃ আমি ব্যক্তিগতভাবে তাই মনে করি। 😛
লেখা পড়ে ভাল লাগল। 😀
জনসংখ্যার পয়েন্টটাও কার্যকরীই বটে ! যদিও অমানবিক … 🙁
আর ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগল।
উৎসাহিত হলেম … 🙂