বিবেকবান গাধা!

আমাদের দেশের বাপ মা যদি আমাদের দেশের সরকার হয় তাহলে বিরোধী দল কে অবশ্যই আমাদের শশুর-শাশুড়ি বলা উচিত। প্রতিটি বাবা মা চায় যেন তার সন্তান সব সময় ভাল থাকে,সুস্থ ও সুন্দর থাকে। তেমন ই করে শশুর- শাশুড়ি তারা ও তো তাদের সন্তান এর কখন ই একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে পারে না। তাদের উভয় এর এই সন্দেহাতীত মঙ্গল কামনা যে অধিকাংশ সময় আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় তা তাদের চিন্তার ও অতীত একটি বিষয়। তাদের এই নোংরা রাজনীতি যে আমদের এক আযাচিত ভয়াবহ ভবিষ্যত কে ইঙ্গীত করছে তা এই পৃথিবীতে থেকে স্বর্গের চিন্তা করার মত একটি বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয় তাদের জন্য। এই দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ তাদের নোংরা রাজনীতির সবচেয়ে বড় উপজীব্য বিষয়। বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, চুয়েট সব বড় বড় প্রকৌশলী তৈরির কারখানা গুলো আজ মুখ থুবড়ে পড়তে শুরু করেছে ছাত্ররাজনীতি নামক অতীব সুন্দর এক নগ্ন খেলার ফলে। আমাদের এই দেশে ছাত্ররাজনীতি গরীবের ঘোড়া রোগ এর চেয়ে খুব বেশি ভাল কিছু হতে পারে না। এমন একটা সময় ছিল যখন ছাত্ররাজনীতি না করলে তাকে সমাজের একজন বিবেকবান গাধা ছাড়া আর কিছুই ভাবা হত না, কিন্তু সময়ের আবর্তনে আজ যে এই ছাত্ররাজনীতি সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে তা বোধহয় এই  ছাত্ররাজনীতির জনকরাও কখন ওই কল্পনা করতে পেরেছিলেন কি না তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

আজ নিজেকে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকৌশলী তৈরির কারখানার একজন ছাত্র বলে পরিচয় দিতে কিছুটা হলে ও সংকোচ বোধ হয়, আমদের বাবা মা তাদের সন্তানকে যেই আশা নিয়ে এখানে পঠিয়েছিলেন আজ তাদের সেই সপ্নের সেতু যে পুলসিরাতের সেতু থেকে ও কঠিন হয়ে গেছে তা তারা কল্পনা ও করতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে এমন একটা সময় আসবে যখন বাবা মা তাদের সন্তানদের হাতে মানুষ হওয়ার জন্য কলম না  তুলে দিয়ে ছাত্ররাজনীতিবিদ হওয়ার জন্য অস্ত্র তুলে দিবে। একটি দেশকে যাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কথা তারাই আজ একটি সুবিধাবাদী মহলের দালাল রূপে অবতীর্ণ হয়েছে। যারা এই দেশের সন্তানগুলোকে সূর্যসন্তানে রূপান্তর করবে তাদের কে বলা হচ্ছে দেশোদ্রোহী। ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কটা যে মধুর শাসন ও ভালবাসায় মিশে ছিল তা আজ পরিবর্তনের ছোঁয়ায় ভর করে ভয় এবং হুমকীতে রূপান্তরিত হয়েছে। হায়রে দেশ তুমি কি এই দৃশ্য দেখার জন্য স্বাধীন হয়েছিলে? এভাবে চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম হয়তোবা নতুন সুরে গান গেয়ে বলবে,
“ ফিরিয়ে দাও আমার সেই পরাধীনতা
আমি সেই পরাধীনতার শিকলে বন্দি থাকতে চাই ”

– এমরানুর রহমান রনি

অন্য স্বর সম্পর্কে

ননরেজিস্টার্ড সদস্যগণও যেন সরবে লিখতে পারেন সেই জন্য এই একাউন্ট। যোগাযোগ পাতায় কিছু লিখে জমা দিলে সরব এর মডারেটরগণ তা মূল্যায়ন করবেন। মনোনীত হলে এই একাউন্ট দিয়ে ছাপা হবে।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

5 Responses to বিবেকবান গাধা!

  1. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    দেশকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা আসলে নিজেদের থেকে আঙ্গুল সরিয়ে নেয়া নিজেদেরই কাজ করতে হবে। কেউ এসে করে দেবে না

  2. স্বপ্ন বিলাস বলেছেনঃ

    লেখার মূল উদ্দেশ্যটা খুব ভালো। তবে নিজেদের দায়িত্ব নিয়েই এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
    লেখায় বানানের দিকে আরেকটু খেয়াল রাখবেন 🙂

  3. সামিরা বলেছেনঃ

    আগের মন্তব্যগুলোর সাথে সহমত। দেশের নিজের তো আর প্রাণ নেই, দেশের মানুষ নিয়েই দেশ। আমরা যেমন কাজ করবো, দেশও তেমনই হবে।
    বানান বিভ্রাট:
    শ্বশুর
    অযাচিত
    আরো অনেকগুলো বানান ভুল। এরপর থেকে সচেতন হবেন আশা করি।

  4. অনাবিল বলেছেনঃ

    আমাদেরই কাজ করতে হবে………

  5. নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেনঃ

    বানান ঠিক থাকলে একটা লেখা সাধারণত সুপাঠ্য হয়। একটু খেয়াল রাখবেন আশা করি।

    আর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কারো উপর দোষ চাপিয়ে আসলে আমাদের ছাড় পেয়ে যাবার অবকাশ নেই। আমরাই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলো মিলে বড় এই জাতি গড়েছি। পরিবর্তন চাইলে আমাদেরকেই কিছু করতে হবে। নৈতিক দিক থেকে শক্ত হতে হবে। বুদ্ধি আর পরিশ্রম দিতে হবে। রাস্ট্রের এই ব্যাপারগুলো ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। অনেকদিন পরে হলেও আমরা সুন্দর কিছু পাবো।

    অন্যের উপর দোষ দিয়ে হাল ছেড়ে দিলে আর যাই হোক, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। আমাদেরকেই করতে হবে, ঘুরে ফিরে আমাদের কথাগুলো নিজেদের দিকেই অঙ্গুলিনির্দেশ করে।

অনাবিল শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।