MIT এবং Harvard এখন বাংলাদেশে !

MIT তে পড়বে নাকি Harvard এ? তারিক আদনান মুন বা নাজিয়া চৌধুরীর মত হতে চায় না এমন কয়জন আছে বাংলাদেশে? কিন্তু চাইলেই কি আর সবার জন্য MIT বা Harvard এ গিয়ে পড়া সম্ভব?

হ্যাঁ, এখন সম্ভব। বরং আগের চেয়ে আরও সহজে! নিজ পড়ার ঘরটাতেই বসে এখন যে কেউ MIT এবং Harvard এর অসাধারণ সব কোর্স করতে পারবে আর এর জন্য তার কোন খরচই করতে হবে না! MIT এবং Harvard বিশ্ববিদ্যালয় গত ২মে যৌথ অংশীদারিত্বে ওপেনসোর্স অনলাইন ফ্রী কোর্স চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে edX। আগে চলুন এই ব্যাপারে সামান্য কিছু জেনে নেইঃ

edX কী?
MIT এবং Harvard বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের সকল দেশের সব মানুষের জন্য একটি অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরী করার উদ্যোগ নিয়েছে যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ফ্রী অনলাইন কোর্স করানো হবে। যে সংস্থার আওতায় কোর্সগুলো করানো হবে তার নাম হচ্ছে edX। এর মাধ্যমে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের কোর্সগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে সব ধরনের গবেষণা করতে পারার ব্যাপারে আশাবাদী। edX এর কার্যক্রম শুরু হবে MITx (http://mitx.mit.edu/) এবং Harvardx এর উপাদান কোর্সগুলো দ্বারা। আপাতত এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার করা অনলাইন কোর্সগুলোই থাকছে edX এর ভান্ডারে যার সাথে পরবর্তীতে আরও বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ দেওয়ার সুযোগ আছে।

http://www.youtube.com/watch?v=SA6ELdIRkRU

edX এই কোর্স করাতে কোন টেকনোলজি ব্যবহার করবে?

edX একটি ওপেন সোর্স অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরী করবে যেখানে সব ধরনের শিক্ষার্থী নিজের উদ্যোগে শিখতে পারবে। এছাড়া সেখানে আরও থাকবে অনলাইন ডিসকাশন গ্রুপস, উইকি বেসড বিস্তারিত পড়াশোনা, কোন শিক্ষার্থী কি শিখছে তা যাচাই করা এবং অনলাইন গবেষণাগার। এছাড়া এই প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা কিভাবে শেখে এবং কিভাবে আরও ভালোভাবে শিখতে পারে তার উপর গবেষণা করা হবে। আর যেহেতু এটি ওপেনসোর্স তাই ধীরে ধীরে এটি আরও উন্নত করা হবে।

edX কী ব্যতিক্রম কিছু করতে পারবে?

edX আশা করে এটি একটি বিশাল পরিবর্তন আনতে পারবে। মূলতঃ অন্যসব অনলাইন কোর্সগুলো ভিডিও লারনিং পদ্ধতিতে সাজানো হয়ে থাকে যেখানে edX এর সাজানো কোর্সগুলো ভিডিও কন্টেন্টের উপর জোর না দিয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ লারনিং এর উপর বেশি জোর দিচ্ছে এবং কোর্সগুলো সাজানোও হয়ছে এভাবেই।
তাছাড়া যেহেতু এটা ওপেনসোর্স অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চাইলে যেকোন সময় তাদের কন্টেন্টগুলো এখানে যোগ করতে পারবে।

edX কে বা কারা চালাবে?

মূলতঃ Harvard এবং MIT থেকেই এর লিডার ঠিক করা হবে যেটা ঐ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের ঠিক করে দেওয়া বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে। এখন MIT’র Computer Science & Artificial intelligence department এর ডিরেক্টর Mr. Anant Agarwal এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

Partners of edX


কারা edX এর কোর্সগুলো করতে পারবে? এর জন্য কী যোগ্যতা লাগবে?

বিশ্বের যে কোন প্রান্তের যে কেউ edX এর এই কোর্সগুলো করতে পারবেন শুধু থাকতে হবে একটি ইন্টারনেট সংযোগ। আর এর জন্য আগের কোন অভিজ্ঞতা বা কোন সার্টিফিকেট থাকতে হবে না। এমনকি এর জন্য কোন ভর্তি পরীক্ষাও দিতে হবে না।

edX কি কোন সার্টিফিকেট দিবে কোর্স শেষে?

হ্যাঁ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে তবে শুধু মাত্র তাদের যারা কোর্সগুলোতে বিশেষ পারদর্শিতা দেখাবে। তবে সার্টিফিকেট edX এ হতে ইস্যু করা হবে, MIT বা Harvard এর নামে না।

এবার আমাদের চিন্তাভাবনাঃ

edX দ্বারা আমরা কতটুকু উপকৃত হব? বা অনলাইন এডুকেশন আমাদের জন্য কতটুকু হেল্পফুল বা কেন হেল্পফুল?

এখন তো দেখছেনই আমাদের প্রায় সব কাজই কিন্তু ওয়েব নির্ভর। চাকরী, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ সব এখন অনলাইন। সেক্ষেত্রে শিক্ষাকেও অনলাইনে নিয়ে আসা কিন্তু যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আর ওপেনসোর্স মানেই হচ্ছে এখানে সবার জন্য দ্বার উন্মুক্ত। MIT এবং Harvard এর এই উদ্যোগ আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনেক বেশি উপকারী হতে পারে। একে তো আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছি তার উপর মানসম্মত শিক্ষা উপকরণের অভাব আছে আমাদের আর এই ক্ষেত্রে অনলাইনে এরকম বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রণীত কোর্সগুলো করতে পারলে আমরা একই সাথে বিশ্বমানের শিক্ষক পাবো আর নিজেরাও অন্য দেশের শেখানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারব। তাছাড়া মাধ্যম ওপেন হওয়ায় আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও এর সাথে যুক্ত হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরী হবে যা আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে অনেক বেশি উপকারী হতে পারে। মোট কথা edX বিশ্বের সবার জন্য একটি মুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে দিচ্ছে যেখানে সবাই শিখতে পারবে মনের ইচ্ছায় এবং নিজের চাহিদা মত।

প্রেরণাদায়ক দিকঃ
আমাদের দেশের বেশ কিছু উদ্যমী এবং পরিশ্রমী যুবক আমাদের দেশে অনলাইন শিক্ষাকে চালু করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বেশ কিছু অনলাইন লারনিং এর জন্য বেশ কিছু সাইট আছে। এমনকি বিশ্বখ্যাত খান একাডেমীর  করা ভিডিওগুলোর বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে এবং হচ্ছে যা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক।

উৎস এবং দরকারি লিঙ্কসমূহঃ
1)http://web.mit.edu/newsoffice/2012/edx-faq-050212.html

2) http://web.mit.edu/

3)http://money.cnn.com/2012/05/02/technology/harvard-mit-online/index.htm

4) http://www.harvard.edu/  

অক্ষর সম্পর্কে

স্বপ্নবাজ মানুষ একজন। আশাবাদ আর নিরাশার দোলাচালে আশাকেই শেষ পর্যন্ত সঙ্গী করতে চাই। আর স্বপ্ন দেখি একদিন দেশের জন্য কিছু করার, স্বপ্ন দেখি ছোট্ট করে হলেও কিছু একটা করার যা একটা প্রজন্মের গতিপথ পরিবর্তন করবে এবং অবশ্যই সেটা যেন হয় ইতিবাচক কোন পরিবর্তন। এখন পড়াশোনা করছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে। গণনা যন্ত্রের উপর পড়াশোনা করছি ঠিকই কিন্তু যন্ত্র শব্দটাই আমার কাছে বিরক্তিকর। ফেসবুক লিঙ্ক- www.facebook.com/akkhar21
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে ইতিবাচক, উদ্যোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-এ এবং ট্যাগ হয়েছে , , , , , , , , স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

18 Responses to MIT এবং Harvard এখন বাংলাদেশে !

  1. সুজয় বলেছেনঃ

    like 🙂

  2. বাবুনি সুপ্তি বলেছেনঃ

    ভালই তো! 🙂 আশা করতে পারি সবাই এর মাধ্যমে অনেক কিছু শিখতে পারবে ।

    • অক্ষর বলেছেনঃ

      আমার মনে হয়, এইখান থেকে আমরা কিছু শিখতে পারি। যেমন ধর আমরা যদি এই আইডিয়াটা আমাদের স্কুল বা কলেজগুলোতে খাটাই তাহলে ক্যামন হবে? তুমি তো টিচার, তুমিই ভালো বলতে পারবে বাচ্চারা কিভাবে ভালো শেখে? এই ব্যাপারে তোমার কাছ থেকে জানার ইচ্ছা রইল :angel_not:

      • বাবুনি সুপ্তি বলেছেনঃ

        ভাবতে তো দারুন লাগে। কিন্তু সবাই প্রথমেই হয়ত বুঝতে চাইবে না , বলবে অনলাইন কোর্স আবার কি! , সেটা করে ভবিষ্যতে কিছু হবে কিনা।
        সবাইকে যদি বোঝানো যায় ব্যাপারটা, তাহলে খুব ভাল হত।

  3. স্বপ্ন বিলাস বলেছেনঃ

    বাহ, অসাধারণ!
    আমি তো শিরোনাম দেখে চমকে উঠেছিলাম, ভিতরে ঢুকে তো আনন্দ হচ্ছে :happy:

    অপেক্ষা করে থাকলাম এই প্রোগ্রাম থেকে শেখার জন্য……

  4. কৃষ্ণচূড়া বলেছেনঃ

    খুবই ভাল একটা পোস্ট! কিন্তু সাইট এ গিয়ে দেখিঃ
    “6.002x (Circuits and Electronics) is an experimental on-line adaptation of MIT’s first undergraduate analog design course: 6.002. This course is running, free of charge, for students worldwide from March 5, 2012 through June 8, 2012.”
    😐

    তারপরও অনেক ধন্যবাদ অক্ষর,হয়তো ভবিষ্যতে কাজে দেবে।

  5. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    টপিক টা নিয়ে জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
    আমার ধারণা খান একাডেমীর প্রবল জনপ্রিয়তা এবং এই সংক্রান্ত নানা রিসার্চে বের হয়ে আসছে ভবিষ্যতে অনলাইনের প্রভাব কতটা হবে। এমআইটি হার্ভার্ড নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি ধরে রাখার জন্য অনলাইনে জোরেশোরে নামছে

    আর ফ্রি হবে না আসলে। ওরা চার্জ করবে কোর্স ভেদে।

    এত ইংরেজি ব্যবহার না করাই ভালো হার্ভার্ডকে এইভাবেই লেখা যায়। অনন্ত আগারওয়াল বাংলায় লেখা যায়। প্রয়োজনে ইংরেজিটা ব্রাকেটে

  6. নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেনঃ

    ভালো লাগলো জেনে। আমিও অপেক্ষায় আছি। আন্ডারগ্র্যাডের সময়ে অনেক ইচ্ছা ছিলো এমন কিছুতে ইনভলভ হতে। দেখা যাক, edX শুরু হোক।

    লেখাটার জন্য ধন্যবাদ

  7. জনৈক বলেছেনঃ

    ইন্টারেস্টিং খবর… ধন্যবাদ।

  8. তিষা বলেছেনঃ

    দরকারি খবর 😀

  9. অনাবিল বলেছেনঃ

    দারুণ পোস্ট!

    আশাকরি উপকারি হবে……… 🙂

  10. শবনম বলেছেনঃ

    বেশ কিছু ফ্রী অনলাইন কোর্স এর লিঙ্ক এখানে । অবসরে ডাইনলোড করবেন, আর কিছু করার না পেলে ফেসবুকিং এর কিছুটা সময় ভিডিও গুলো দেখবেন,তাতেই অনেক কিছু শেখা হয়ে যাবে
    কিছু কোর্স আছে যেগুলো ভার্সিটি র সাথেই অনলাইন এ শুরু করলে প্রজেক্ট সহ সব কিছু বাকি স্টুডেন্টদের মতই অনলাইনে জমা দিয়ে ক্রেডিট আর্ণ করতে পারবেন।
    শেখার কোন শেষ নেই আর এরকম কোর্স নিজের পছন্দের বিষয় ভার্সিটির কোর্স এ না থাকলেও শেখার সব থেকে ভালো সুযোগ

স্বপ্ন বিলাস শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।