এসএসসি পরবর্তী কলেজ ভর্তিঃ কিছু এলোমেলো কথা !!

প্রায় ৩ বছর আগের কথা! সবে এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। সবাই মোটামুটি খুশি, কেননা ‘সোনালি A+’ পেয়েছি। :yahooo:
আর এই যুগে যদি তা না পাই তাহলে তো ভালো কলেজে ভর্তি হওয়াও সম্ভব হবে না! ভালো কলেজে ভর্তির প্রথম শর্ত পূরণ হল। কিন্তু চিন্তার কি শেষ আছে? সহস্র সহস্র A+ এর মাঝে কেউই নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই ঢাকা শহরের ৫টি কলেজের ফরম কিনলাম। নটর ডেম কলেজে ভর্তি পরীক্ষাও দিলাম, যদিও নিয়মানুসারে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল না। এবং সৌভাগ্যক্রমে আমার পছন্দের এই কলেজে ভর্তিও হতে পারলাম। কিন্তু ভর্তির আনন্দের আগে যে চিন্তা নিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে, তা এখনও মনে পড়ে।

আমার মূল প্রসঙ্গ শুরু করার আগে তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে দিলাম যারা ভালো ফলাফল করেছ নিজের পরিশ্রম আর মেধার গুণে। তোমরা আমাদের জন্যে মিষ্টি না পাঠালেও আমরা ঠিকই অভিনন্দিত করলাম… !

এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পর সবার মাঝেই কলেজে ভর্তির চিন্তা অবধারিতভাবেই চলে আসে। ফলাফলের আনন্দ উদযাপন করার আগেই চিন্তা এসে ভর করে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের মনে(এখনই যেমন ভর্তির ডঙ্কা বেজে ওঠা শুরু হয়ে গেছে!)। আর এ সময়  বিশেষত ঢাকা শহরের শিক্ষার্থীদের অবস্থা একেবারেই নাজুক হয়ে পড়ে। ভর্তি পরীক্ষা এখন আর নেওয়া হয় না সাধারণত। তবু ভর্তির চিন্তা তো রয়েই যায়! আর যাদের ফলাফল একটু খারাপ (এখন A+ না পেলেই সবাই অবশ্য খারাপের কাতারে ফেলে দেয়) তাদের চিন্তা আরও বেশি।  :thinking:

প্রথমেই সবার মাঝে যে চিন্তাটা আসে তা হল – ‘ভালো’ কলেজে ভর্তি না হতে পারলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো করা সম্ভব না। আর উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো না করলে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতেও সমস্যা হবে। এই চিন্তাটি কিন্তু সব সময় যুক্তিযুক্ত হয় না। কেননা কলেজ কখনোই একজন শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ তৈরি করে দেয় না। কলেজের কাজ কেবল পথটা দেখিয়ে দেওয়া। আর বাকি কাজ কিন্তু শিক্ষার্থীকেই করতে হবে। আমার এমন অনেক বন্ধু আছে যারা তথাকথিত ভালো কলেজের ছাত্রছাত্রী নয়, কিন্তু এখন ঠিকই দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকেই চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছে। তাই এই বিষয়ে চিন্তাটা কমিয়ে দেওয়াই ভালো।

কলেজের পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তার শেষ নেই। আর আমার মতে তাদের এই ভাবনা অমূলক নয়। অনেক কলেজের পরিবেশ শিক্ষার্থীদের অনুকূলে থাকে না। ফলে যথাযথ শিক্ষাগ্রহণের পথটা অমসৃণ হয়ে উঠে। তাই আমার মনে হয় কলেজে শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ মূল্যায়ন করে এরপর কলেজে ভর্তি হওয়া উচিত।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে – ভালো কলেজের সংজ্ঞা কী ? এই প্রশ্নের উত্তর আপেক্ষিক। তবে সাধারণভাবে – যে কলেজের রেজাল্ট ভালো, সেটই ভালো কলেজ! তবে এই সংজ্ঞার মাঝে যথেষ্ট ফাঁক আছে। এখানে কোনদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা সবাই জানেন আশা করি। আমরা চর্মচক্ষে যাদের ভালো কলেজ বলছি তারা আসলেই কতটুকু ভালো তা প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার। তবে ‘ভালো’ কলেজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত।

আমি যেদিক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলছি তা হল – কিছু শেখার প্রচেষ্টা। কয়েকটি কলেজ আছে যেখানে ফলাফলনির্ভরতার চেয়ে শিক্ষাগ্রহণের দিকে বেশি আলোকপাত করা হয়। সেই কলেজগুলোতে ভর্তি হতে পারলে ভালো। তখন পরিবেশটাও শিক্ষার্থীর জন্যে সহায়ক হয়। আর এই প্রতিযোগিতার মাঝে যদি ভর্তি নাও হতে পারে কেউ, তাহলেও সমস্যা নেই। আগেই তো বললাম, পড়া কিংবা শেখার দায়িত্ব নিজের! তুমি যদি নিজ থেকে উদ্যোগী হয়ে শেখার চেষ্টা কর, তাহলে তো সাফল্যের পথে আর কোন প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে না! 8)

আর একটি অপ্রিয় সত্য হচ্ছে, অধিকাংশ কলেজই তাদের নামের সাথে সুবিচার করতে পারে না। শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হলেই তাই অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে হতাশা কাজ করে। আর হতাশা থেকেই পতনের সূচনা! তাই কোনক্রমেই হতাশ হওয়া যাবে না। নিজে আত্মবিশ্বাসী হয়ে সামনে এগিয়ে চলার চেষ্টা করলেই একে একে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এর বিপরীত ক্ষেত্রও আছে। ঢাকার বাইরের অখ্যাত স্কুল থেকে ঢাকায় আগত অনেক শিক্ষার্থীই অথৈ সাগরে পড়ার মত অবস্থার সম্মুখীন হয়। তারা নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করে, হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে কলেজের নিয়মিত পরীক্ষাগুলোর ফলাফলে, যা কারোই কাম্য নয়। তাই আগের মতই বলতে হচ্ছে – হতাশ হওয়া যাবে না। নিজেকে বারবার বলতে হবে, “আমি পারব, পারব, পারব”! আর নিজের পরিশ্রম দিয়ে সহজেই এই হতাশা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

শেষ করার আগে কিছু সাধারণ কথা। যারা এখন উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তি হতে যাচ্ছ, তাদের সামনে একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অপেক্ষা করছে। এই ধাপটি সাফল্যের সাথে অতিক্রম করতে পারলেই জীবনের লক্ষ্যটা রঙ্গিন হয়ে উঠতে পারে! তাই সবাই এই সময়ে এসে পড়াশুনার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা করবে। অনেকের ধারণা, কলেজে উঠলে অপার স্বাধীনতা! কিন্তু এই সময়ে যে দায়িত্ববোধ বেড়ে যায়, সেদিকে অনেকেরই খেয়াল থাকে না। এই দায়িত্ব শুধু নিজের জন্যেই না, দেশের জন্যেও! তাই এই সময়ে সচেতন থাকাটা সবার নৈতিক দায়িত্ব। এ সময় পা হড়কালে সঠিক পথে ফিরে আসা সহজ নয়! কেননা তোমাদের “এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে”! আশা করি, তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না! :nono:

যেকোন সময়েই আমরা তোমাদের পাশে আছি। তোমাদের সবার উজ্জ্বল, রঙ্গিন আর সফল ভবিষ্যতের জন্যে সরব পরিবারের পক্ষ থেকে শুভকামনা রইল।  :happy:

মাহি সম্পর্কে

নিজেকে চরম আশাবাদী মানুষ বলে মনে করি। জীবনের আপাত নগণ্য অংশগুলো থেকেও অনুপ্রেরণা পাবার চেষ্টা করি। অল্পতেই হতাশ হই না। আত্মোপলব্ধি করার প্রচেষ্টা চালাই প্রতিনিয়ত। এক্ষেত্রে সফলতা আপেক্ষিক, তবু নিরস্ত হই না। কেননা এটাকে আমি পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করি।
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ, হাবিজাবি-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

8 Responses to এসএসসি পরবর্তী কলেজ ভর্তিঃ কিছু এলোমেলো কথা !!

  1. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    জরুরি পোস্ট! পিচ্চিদের সাথে শেয়ার করলাম ভাইয়া 😀

    • মাহি বলেছেনঃ

      ধন্যবাদ ভাইয়া … 🙂
      আশা করি পিচ্চিদের কিছুটা হলেও কাজে লাগবে … (পিচ্চি বলাটা উচিত কিনা জানি না!)
      :love:

  2. সিফাত বলেছেনঃ

    আসলেই ভাল কলেজ না বরং নিজের যোগ্যতা এবং আত্মবিশ্বাস জীবনে ভাল ফল বয়ে আনে । শুভকামনা অনুজদের প্রতি ^_^

  3. জনৈক বলেছেনঃ

    যাদের জন্য প্রযোজ্য তাদের কাজে লাগুক!

  4. অনাবিল বলেছেনঃ

    হুম্ম… ফলাফল ভালো করলেই ভালো কলেজ হয় না……… কিছু কলেজ আছে ফলাফল হয়তো অতো ভালো নয়, কিন্তু ছাত্রদের মজবুত একটা ভিত্তি তৈরি করে দেয়…………

    • মাহি বলেছেনঃ

      হুম।
      আর সেই ভিত্তিটাই সবচে বেশি জরুরি! নয়তো পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এসে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয় … !

সিফাত শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।