The Best of Youth (২০০৫):একটি সাধারণ জীবনের মহাকাব্য

The Best of Youth

”মুভিটি যখন শেষ হবে , মুভির প্রত্যেকটি চরিত্রকে আপনার অনেক দিনের পরিচিত মনে হবে– যেটা আসলে পুরোপুরি মিথ্যে নয়”

”এই মুভির মুল বক্তব্য হল যে, প্রত্যেকটি জাতি হল এক একটি পরিবারের মত ,যেখানে অনেক রকম মানুষ থাকে ,যারা বিভিন্ন ঘটনায় একে অপরের সাথে তর্ক করে ,কিন্তু বাস্তবে  সবাই একা”

”একটি ধীর গতির প্রস্ফুটিত পাপড়ি : একটি সাধারণ জীবনের মহাকাব্য”

”এটি এমন একটি মুভি যা আপনি কোন বন্ধুকে রিকমেন্ড করলে সে বলবে “ ছয় ঘণ্টা ,তোর কি
মাথা খারাপ?” তার পর মাঝ রাতে আপনার ঘুম ভাঙ্গিয়ে বলবে “ধন্যবাদ দোস্ত”

উপরের সব কটা বক্তব্য হল কিছু বিখ্যাত চলচিত্র সমালোচকের ।
এই মুভিটি অনেক ক্যাটাগরিতে পড়ে । ধরলাম এটা একটি রোমান্টিক মুভি । রোমান্টিক মুভির সবচেয়ে চুম্বক দৃশ্য হচ্ছে নায়ক এবং নায়িকার দেখা হওয়ার দৃশ্য । পৃথিবীর সব বিখ্যাত রোমান্টিক মুভিতে এই দৃশ্যটা চরম ভাবে দর্শকদের আকর্ষণ করে । যেমন “Life is Beautiful”  নায়িকা আকাশ থেকে নায়কের হাতে এসে পড়ে । সিনটা যতটা রোমান্টিক তার চেয়ে হাসির । “A Moment to Remember”  একটি কোকের ক্যান কিনতে গিয়ে নায়ক এবং নায়িকার দেখা হয় এবং ২য় দেখাটাও কোকের ক্যান কিনতে গিয়ে । তবে অধিকাংশ প্রণয় উপাখ্যান মূলক মুভিতে ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে ঝগড়া থেকে পরবর্তীতে আকর্ষণ সৃষ্টি হয় । উদাহারন হিসেবে রোমান্টিক মুভির রানী হিসেবে পরিচিত মেগ রায়ান এর “When Harry Met Sally” । প্রথম নায়ক এবং নায়িকার পরিচয়ের দৃশ্যটা তাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু ইতালিয়ান এই  মহা কাব্যিক মুভিতে যে দৃশ্যতে নায়ক এবং নায়িকার দেখা হয় তা একটু আলাদা ।

এখন আসি আসল ব্যাখ্যায় এই মুভিতে একটি পরিবারের প্রায় চল্লিশ বছরের কাহিনী দেখানো হয়েছে । বিভিন্ন অধ্যায়ে ভাগ করে একটি প্রজন্মের পূর্ণাংগ পরিণতি দেখানো হয়েছে । এই প্রজন্মটি সত্তরের দশকের প্রজন্ম । যখন ইউরোপ তার কষ্টের সময় পার করছে । একটি পক্ষ চায় সমাজতন্ত্রকে ইউরোপে বিজয়ী করতে আর একটি পক্ষ জাতীয়তাবাদের দোহায় দিয়ে চরমপন্থা দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে । ইউরোপ তার যুদ্ধোত্তর কঠিন সময় অতিক্রম করে ফেলেছে । এখন আমেরিকার মত বস্তুবাদী সভ্যতায় প্রবেশের অপেক্ষায় । কিন্তু সব সময়কার জন্য মানুষ তার ভাবাদর্শের কাছে বন্দী । সব  মানুষ নয় ,যে মানুষদের নিয়ে কাহিনী রচনা করা হয় শুধু তারা । একটি ভাবতত্ত্বে তারা নিজেদের জীবন গুছিয়ে নিয়েছে , কিন্তু মানব সভ্যতা সব সময়কার জন্য ভাবাদর্শের লড়াই ছাড়া আর কিছুই নয় । এক দিকে চরম ভোগবাদী সমাজ আর একদিকে সমাজতন্ত্রের কঠিন তাত্ত্বিক আস্ফালন । একজন যুবক এর  কোন দিকটা গ্রহণ করবে । বস্তুবাদ অনেক আগেই গ্রাস করেছে মানুষকে এখন মানুষ আধ্যাত্মিক ভাবে দেউলিয়া । এইসব ভাবাদর্শের দ্বান্দ্বিক ফসল হল ” Hippy” । উপরে যে মানসিক যন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে তা মুভির একটি প্রধান চরিত্রের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় । যাকে কেন্দ্র করে মুভিটি সামনের
দিকে অগ্রসর হয় ।

একজনের স্বপ্ন থাকে সে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরে যাবে , আরেক জনের স্বপ্ন থাকে সে মানুষের সেবা করে জীবন কাটিয়ে দিবে । প্রথম জন হল বড় ভাই ২য় জন হল ছোট । তারা হল সবাই কারাটি(caratti) পরিবারের সদস্য । এই পরিবারের সব সদস্যের জীবন নিয়ে এই মহাকাব্যটি রচিত । যারা জীবনে
২.৫ ঘণ্টার বেশী মুভি  দেখেনি তাদের জন্য বলছি এই মুভির দৈর্ঘ্য হল ছয় ঘণ্টা ।

যারা হলিউডের সুপার স্পিড মুভিতে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই মুভিটা নিদ্রা বর্ধক ছাড়া আর কিছুই নয় । এই মুভিটির যে জিনিসটা সব মুভি সমালোচককে আকর্ষণ করেছে তা হল কাহিনী এবং অসাধারণ অভিনয় । এই মুভিতে নগ্ন দৃশ্য নেই , নেই কোন বড় ধরনের  বিস্ফোরণ । ইন্ডিয়ানা জোন্সের মত
একটির পড় একটি কৌতুহল উদ্রেক করা দৃশ্য নেয় । যা আছে তা সাদা মাটা ভাবে শব্দ দিয়ে সৃষ্টি করা চল্লিশ বছরের ইতালির কিছু বিশেষ ঘটনার মানচিত্র । যার সাথে সাথে আছে  কিছু স্বপ্নের পরিণতি এবং কিছু স্বপ্নের আত্মাহুতি ।

একজন মুভি সমালোচকের কথা দিয়ে লেখা শেষ করব –

”জীবনের কিছু শতাংশ সব সময় ঝাপসা থাকে । এটি একটি ডায়লগ এই মুভির । চরিত্র সম্পর্কে খুব বেশী কিছু বললে মুভির আসল  মজাটা নষ্ট হতে পারে । যা হোক এই মুভির শেষে একটি কথা আমাদের মনে হবে তা হল , জীবনের প্রত্যেকটি মুহূর্ত হল উপহার ; খুব কষ্টের মুহূর্ত গুলোও হারিয়ে যায় ক্ষণিকের আনন্দে । হ্যাঁ , ছাত্রজীবনের আকাশ সমান উচ্চাশা হয়তবা সময়ের সাথে তার উজ্জ্বলতা হারাবে কিন্তু একটি প্রজন্মের এইসব দুর্বোধ্য আকাঙ্ক্ষা আর একটি প্রজন্ম গ্রহণ করবে তাদের যৌবনের সোনালী সময়ে।”

সুখী মানুষ সম্পর্কে

সুনীল আকাশ শ্যামল কানন, বিষাদ জোছনা কুসুম কোমল , সকলি আমার মত তারা, কেবলি হাসে কেবলি গায়, হাসিয়া খেলিয়া মরিতে চায়, না জানে বেদন না জানে রোদন, না জানে সাধের যাতনা যতন, .................................রবি ভাই
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ-এ। স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

8 Responses to The Best of Youth (২০০৫):একটি সাধারণ জীবনের মহাকাব্য

  1. বোহেমিয়ান বলেছেনঃ

    ৬ ঘণ্টার মুভি শুনে আসলেই একটু চমকে উঠলাম!
    এই ব্যস্ত জীবনে সেটা কঠিন হয়ে গেছে।

    রিভিউটা ভালো লেগেছে।

    হ্যাঁ , ছাত্রজীবনের আকাশ সমান উচ্চাশা হয়তবা সময়ের সাথে তার উজ্জ্বলতা হারাবে কিন্তু একটি প্রজন্মের এইসব দুর্বোধ্য আকাঙ্ক্ষা আর একটি প্রজন্ম গ্রহণ করবে তাদের যৌবনের সোনালী সময়ে।”

  2. সুখী মানুষ বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ ,
    এটি আমার প্রথম এবং শেষ দেখা ছয় ঘন্টার মুভি । সব চেয়ে কষ্টের বিষয় আমি এই
    মুভিটা কয়েক বার দেখেছি ।

  3. জনৈক বলেছেনঃ

    এক দিনের চার মুভি… ২৪ ঘণ্টা। :voypaisi:

    তবে রিভিউ ভালো লেগেছে।

    টাইপো: উদাহারন>উদাহরণ

  4. বোকা মানুষ বলেছেনঃ

    বেশ তো! মুভিটা দেখা হয়নি
    এক ফাঁকে দেখে নিতে হবে
    আর আপনার মুভি-দরশন ও বিশ্লেষণ দুটোই খুব পাকা মনে হয়।

  5. সামিরা বলেছেনঃ

    আপনার রিভিউ ভাল লেগেছে। আশ্চর্য দৈর্ঘ্যের মুভিটা দেখতে ইচ্ছে করার মত ভাল। 🙂

  6. স্বপ্ন বিলাস বলেছেনঃ

    লর্ড অফ দ্য রিংস ট্রিলজি এক বসায় দেখেছি। মনে হচ্ছে এটাও পারবো। আর রিভিউ পড়ার পর দেখার ভীষণ উৎসাহ আছেই, পালে হাওয়া দেয়ার জন্য 🙂

  7. সাবরির অনিক বলেছেনঃ

    ডাউনলোডিং :love:

জনৈক শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।