অনভ্যস্ত কথোপকথন

আমি মাঝে মাঝে কবিতা লিখে ফেলি; সেটা আসলে খুব ছন্দময় কিছু হয়না, হয়না ভাবময় কিছু। অনুভুতির শাব্দিক প্রকাশই আমার কাছে কবিতা হয়ে আসে. তাই সেটা পড়তে অনেক সহজ, হয়তবা বুঝতেও! 🙂

প্রজন্মান্তরের স্বপ্ন আমি কোথায় রেখেছি?
ওই স্বপ্ন রাখার জায়গা নেই আমার,
আমি মিশে যাওয়া লোক
আমি কখনো শব্দে মিশে যাই
কখনো মিশে যাই জনকোলাহলে
কখনও এই বাতাসের মাঝে।

আর মিশলেও তা ক্ষণিকের জন্যই ,
তারপর টের পাই হারিয়ে যাওয়ার স্পর্শ
টের পাই আমার স্বত্ত্বা হারিয়ে যায়
আমি চলে যাই অরণ্যে
আমি চলে যাই অতলে
আমি থাকিনা কোথাও
আমি হারিয়ে যাওয়া একটা স্বত্বা
আমি নির্বিষ এক নিনাদ।

রোদ্দুরের কোলাহলেও আমি থাকিনা
আমি বিস্মৃতির এক রোমন্থন
যাকে খুঁজে পাওয়া যায়না কোথাও
আমি আছি
আবার নেই
আমি না থাকার মতই।

পাহাড়ের চূড়ায় অনভ্যস্ত,
মাঝে মাঝে যেতে ইচ্ছে করে
তখন হয়ত কবিদের পংক্তির
কোন অর্থ বুঝতাম
হয়ত সেই অনুভূতির কারণে জেগে উঠতো
নতুন কোন স্বত্ত্বা
একটা আত্মা
যার হয়ত একটা জায়গা থাকতে পারতো
এই সমাজে
কোন জীবনে
কোন অন্তরে

নয়ত চুপ করেই হারিয়ে যাবো ক্ষণকাল শেষে
কোন একদিন
কোন এক স্বপ্নময় শুভ শুক্রবার।
হয়ত হারিয়ে যাবো বলেই এসেছি
হয়ত চাইনা
হয়ত চাই
পরিষ্কার করে বলার জো নেই

আপনি লাবন্যকে চিনেন?
অমিত তাকে বন্যা বলে ডাকতো…
আচ্ছা, না চিনলে থাক।
সেই লাবন্য অমিতকে একটা কথা বলেছিলো–
“গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়”।
কী দারুণ একটা বাক্য!
অদ্ভূত তার অর্থ
ভাবনাগুলোও অদ্ভূত
অনেক ভেবেছি এই পংক্তিটি নিয়ে…

আমি না ভাবতে চাইনা
আমাকে চলে যেতে হবে।
হয়ত হারিয়ে যেতে হবে
মিশে যাবো এই বাতাসে।
আজ আমি যাই তবে,
বিদায়।
“ঠিক আছে তবে তুমি যাও,
পারলে খুঁজে নিব কখনো…”

 

ঢাকা। ১৭ জুন, ২০১১
Photo Courtesy: ছবি১, ছবি২

 

নোঙ্গর ছেঁড়া সম্পর্কে

"খুঁজো না তাহারে গগন-আঁধারে– মাটিতে পেলে না যাকে।"
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে কবিতা, পাগলামি-এ এবং ট্যাগ হয়েছে , , , , , স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন।

10 Responses to অনভ্যস্ত কথোপকথন

  1. ফিনিক্স বলেছেনঃ

    কেমন যেন অদ্ভুত মায়াঘেরা এক পরিবেশে ঢুকে গেলাম।
    আমি আছি, আমি নেই!
    অস্তিত্ববিহীন আমার অস্তিত্বে কেমন হারিয়ে যাবার গন্ধ, ফিরে আসবার মৃদু ডাক আরও মৃদু যেন!

    ভালো লেগেছে ভাইয়া।

    অফটপিক-
    বানানগুলো শুধু যদি আরেকটু শুধরে নিতেন তবে লেখা পূর্ণাঙ্গতা পেত।

  2. সামিরা বলেছেনঃ

    “গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়” – কথাটা আসলেই দারুণ তো! বইটা পড়ার সময় খেয়াল করি নি।
    ভাল লেগেছে কবিতা। 🙂

    • নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেনঃ

      এই লাইনটা কেন যেন পড়ার পর থেকে সবসময় আমার মাথায় ঘুরতো। প্রায় ৫-৬ বছর পর বোধহয় লিখে হালকা হলাম 🙂

      ভালোলাগা জেনে কৃতজ্ঞ হলুম :love:

  3. মাধবীলতা বলেছেনঃ

    অনেক স্নিগ্ধ একটা কবিতা 🙂

    “গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়”…..কি মধুর কথা!

    “ঠিক আছে তবে তুমি যাও,
    পারলে খুঁজে নিব কখনো…” খোঁজাখুঁজির জন্য শুভকামনা থাকল। :love:

  4. অনাবিল বলেছেনঃ

    সবার কী হয়েছে?? সব বিষন্ন করা, মন খারাপের কাব্যকথা দিয়ে সবাই ভরিয়ে দিচ্ছে বাড়ি, এমন কি আমিও…… কী জানি, সময়টাই এমন না কি আমরাই এমন হয়ে গেছি…………

    কবিতা ভালো হয়েছে, স্টাইলটা…… মাঝে মাঝে ই ব্লগবাড়ি কবিতায় ভরে যাক… 🙂

    • নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেনঃ

      কী জানি কেন সবাই মন খারাপের কাব্যকথা দিয়ে ভরিয়ে দেয়। এই কবিতাটা খুব একটা মন খারাপের ছিলো না, হয়ত বিষণ্ণতার একটা সুর ছিল।

      অনেক ধন্যবাদ অনাবিল 🙂

  5. মুবিন বলেছেনঃ

    ভালো লাগলো।
    আরো নতুন নতুন কবিতার অপেক্ষায় থাকলাম।

সামিরা শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।